ঢাকা , ১২ ২০১৯ ,

অনুবাদক থেকে বিশ্ব সেরা কোচ, অতঃপর...

| ২২ ডিসেম্বর, ২০১৮ ৫:৪৮ পূর্বাহ্ণ | আপডেট : ২২ ডিসেম্বর, ২০১৮ ৫:৪৮ পূর্বাহ্ণ
feature-top

কিশোর বয়স থেকে পর্তুগালের বেশ কয়েকটি স্থানীয় ক্লাবে ফুটবল খেললেও তেমন সফল ছিলেন না হোসে মোরিনহো। রাজধানী লিসবনের টেকনিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্পোর্টস সায়েন্সে ডিগ্রি নিয়েছিলেন। ১৯৯২ সালে পর্তুগিজ ক্লাব স্পোর্টিংয়ে যোগ দেন তৎকালীন তারকা কোচ ববি রবসন। এই ইংলিশ ম্যানের জন্য প্রয়োজন ছিল এক জন অনুবাদক যিনি স্থানীয় ফুটবলের সঙ্গেও সম্পৃক্ত। সেসময় ভাষান্তরিক হিসেবে মোরিনহো লিসবনের ক্লাবটিতে যোগ দেন। ১৯৯৩ সালের শেষ দিকে রবসনকে বাদ দেয় স্পোর্টিং। নতুন বছরে ইংলিশ কোচ যোগ দেন পর্তুগিজ লিগের আরেক জনপ্রিয় ক্লাব এফসি পর্তোতে। সঙ্গে নিয়ে যান মোরিনহোকেও।

অনুবাদকের পাশাপাশি ফুটবলকে নিয়ে নিজের জ্ঞানের জন্য রবসনের সহকারী হিসেবে নতুন পরিচয় পেয়ে যান। ধারাবাহিক সফলতাও পেতে থাকে পর্তো। 

৯৩-৯৪ মৌসুমে উয়েফা চ্যাম্পিয়নস লিগে সেমিফাইনাল পৌঁছে যায়। পাশাপাশি সমসাময়িক ঘরোয়া সব টুর্নামেন্টে দাপট দেখাতে থাকে দলটি।

সব শেষ চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী দল বেনফিকার বিপক্ষে ৫-০তে জয় পায় পর্তো। এতে রবসনের নাম ‘ববি ফাইভ ও’ হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়।

১৯৯৬ সালে রবসন-মোরিনহো জুটি যোগ দেন বার্সেলোনায় সেখানেই শুরু হয় এক নতুন অধ্যায়।

 

পরের দুই বছর স্প্যানিশ ক্লাবটি তিনটি শিরোপা জয়ের পর রবসন চলে যান নতুন গন্তব্যে। তবে ইংলিশ কোচের সহকারী মোরিনহোকে পদন্নোতি দেয় কাতালানরা। নয়া কোচ হিসেবে যোগ দেয়া লুইস ফন গালের সহকারী নয় এবার বার্সার সহকারী কোচের দায়িত্ব বুঝিয়ে দেয়া হয় মোরিনহোকে।

২০০০ সালে দেশে ফিরে ২০০৪ সাল পর্যন্ত বেনফিকা, ইউউডি লেইরা ও পর্তো টানা তিনটি ক্লাবের প্রধান কোচের দায়িত্বে ছিলেন। হয়েছেন সফলও। পর্তোর হয়ে ঘরোয়া শিরোপা ছাড়াও চ্যাম্পিয়নস লিগ ও উয়েফা কাপের শিরোপা নিজের করে নেন।

আগেও ইংলিশ ক্লাব নিউক্যাসেলের সহকারী কোচ হবার সুযোগ পেয়েছিলেন। যদিও তা ফিরিয়ে দিয়েছিলেন। প্রথমবারের মতো এবার প্রিমিয়ার লিগের ক্লাব চেলসির দায়িত্ব বুঝে নেন।

দায়িত্বগ্রহণের পর প্রথমবারের মতো সাংবাদিকদের কাছে এসেই নিজেকে ‘স্পেশাল ওয়ান’ হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, আমাদের অনেক তারকা ফুটবলার আছে, দুঃখিত আমাকে যদি অহংকারী মনে হয়ে থাকে। সবাইকে জানিয়ে দিতে চাই আমাদের তারকা কোচও রয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, আমাকে অহংকারী মনে হতেই পারে। আমি ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়ন। আর আমি মনে করি, আমি ‘স্পেশাল ওয়ান’।

দ্য ব্লুজদের হয়ে পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। প্রিমিয়ার লিগ থেকে এফ এ কাপ, এফ এ কমিউনিটি শিল্ড পর্যন্ত শিরোপা ঘরে তুলেন।

২০০৮ সালে ইন্টার মিলানে যোগ দেন। সিরি আ’র দলটিতে ঘরোয়া শিরোপার পাশাপাশি ২০০৯-১০ সালের চ্যাম্পিয়নস লিগও নিজের করে নেন মোরিনহো।

২০১০ থেকে ২০১৩ পর্যন্ত ছিলেন রিয়াল মাদ্রিদে। চ্যাম্পিয়নস লিগে সুবিধা না করতে পারলেও ঘরোয়া লিগে ছিলেন দুর্দান্ত।

 

২০১৪ সালে চেলসিতে ফের ডাক পড়ে স্পেশাল ওয়ানের। এবার প্রিমিয়ার লিগ ও  লিগ কাপ উপহার দেন দলকে।

২০১৬ সালে ম্যানচেস্টারের যাত্রা শুরু হয়। যোগ দিয়েই ইএফএল কাপের শিরোপা ঘরে তুলে নেন। সেবার কমিউনিটি শিল্ডের শিরোপাও আদায় করেন। একই মৌসুমে ইউরোপা লিগের শিরোপা ম্যানইউকে উপহার দিলেও প্রিমিয়ার লিগ আর চ্যাম্পিয়নস লিগে এই পর্যন্ত ছিলেন নিষ্প্রভ। পাশাপাশি দলের খেলোয়াড়দের সঙ্গে নানা কারণে দ্বন্দ্বে জড়ানোর কারণে শিরোনাম হয়েছেন বার বার। বিশেষ করে ২০১৮ সালে ফ্রান্সের হয়ে বিশ্বকাপ জয়ী পল পগবার সঙ্গে রেড ডেভিল কোচের সর্ম্পকটা বেশ কয়েকদিন ধরেই ভালো যাচ্ছিল না।

চলতি মৌসুমের মাঝপথেই মোরিনহোকে কোচের পদ থেকে বিদায় জানিয়েছে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড৷ মঙ্গলবার এমন সিদ্ধান্ত জানায় ক্লাব কর্তৃপক্ষ।

গেল রোবাবর ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে লিভারপুলের কাছে ৩-১ গোলে হারার পরেই পর্তুগিজ কোচকে ছাঁটাইয়ের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয় কর্তৃপক্ষ৷ মোরিনহোর ক্লাব ছাড়ার বিষয়টি নিশ্চিত করার হয়।

বুধবার বিবিসি’র রেডিও ফাইভের ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড নিয়ে বিশেষ আয়োজনে যোগ দিয়েছিলেন স্কটিশ ফুটবল বিষয়ক লেখক প্যাটট্রিক বার্কলে।

মরিনহোসহ ম্যানচেস্টারের সাবেক দুই কিংবদন্তি কোচ স্যার ম্যাট বাসবি ও স্যার অ্যালেক্স ফার্গুসনের জীবনী লিখেছেন প্যাটট্রিক।

তার কাছে মোরিনহাকে বরখাস্ত করার বিষয়টি বিব্রতকর হলেও সিদ্ধান্তটি সঠিক মনে হয়েছে। তিনি বলেন, যেহেতু মোরিনহো সফলতা পাচ্ছিলেন না, এক দিন না একদিন এমনটা হবারই কথা ছিল। ক্লাব কর্তৃপক্ষ নিজেদের চোখে সেরা কোচকে নির্বাচন করে নিবে।

 

তাহলে কি এখানেই শেষ মোরিনহো অধ্যায়ের? প্যাটট্রিকের মনে করেন, পরের দান মারতে মোরিনহো ফের ইতালিতে পাড়ি জমাতে পারেন। সেখানে গিয়ে নতুন নয় পুরাতন ক্লাব ইন্টার মিলানের দায়িত্ব নেয়ার চেষ্টা চালাতে পারেন ৫৫ বছর বয়সী এই কোচ।

বর্ণিল ক্যারিয়ারে অসংখ্য ব্যক্তিগত শিরোপা জিতে নিয়েছেন এই তারকা কোচ। পেয়েছেন বিশ্ব সেরা কোচের খেতাবও।

মোরিনহোর জীবন নিয়ে বিশ্লেষণ করা এই লেখক আরও বলেন, পর্তুগালের জাতীয় দলের জন্যও চেষ্টা চালাতে পারেন তিনি। যদিও ২০১৬ সালে ইউরো জেতানো কোচ ফার্নান্দো সান্তোসের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে কতটা এগিয়ে যেতে পারবেন সেটিই দেখার বিষয়।

আরও খবর »