ঢাকা , ১৮ ২০১৯ ,

তাল লয়ের খেলাতে মিঠু

বায়ান্ন বিনোদন ডেস্ক | ৯ Augu, ২০১৯ ১১:১৮ অপরাহ্ন | আপডেট : ৯ Augu, ২০১৯ ১১:২০ অপরাহ্ন
feature-top

সজল কুমার সাহা মিঠু, এই সময়ের একজন ব্যস্ততম মেধাবী যন্ত্রসঙ্গীত শিল্পী। মূলত তিনি তবলা এবং প্যাড, ড্রামস বাজিয়ে থাকেন। পেশাগত কাজে সৎ বলেই অনেকেই তার প্রতি নির্দ্বিধায় আস্থা রাখেন। ব্যক্তি জীবনের অতি সাধারণ এবং মিশুক প্রকৃতির মানুষ মিঠু তার আজকের এই অবস্থানের পেছনে যাদের অবদান রয়েছে তাদের কথা কৃতজ্ঞচিত্তে স্বীকার করেন। স্বীকার করেন এই সময়ের গুনী যন্ত্রসঙ্গীত শিল্পী আলমগীর হোসেনের কথা। আলমগীর হোসেন সঙ্গীতশিল্পী লুইপার স্বামী। ২০০৩ সালে অক্টোপ্যাডে মিঠুর হাতেখড়ি হয় আলমগীরের কাছে এবং সেই বছরই মিঠুকে ভালোবাসে আলমগীর ২৮০০০ টাকা দিয়ে একটি অক্টোপ্যাড কিনেদিয়েছিলেন। সেদিনটি মিঠুর জীবনের অন্যতম একটি দিন। 

মিঠু বলেন, ‘আলমগীর ভাইয়ের এই ঋণ কোনোদিনই শোধ করার মতো নয়। কারণ জীবনের পেশাগতভাবে জীবনের শুরুতে এমন মহান মনের একজন মানুষের সাহচার্য্য আমার জীবনের ধারাপাতই বদলে দিয়েছিলো।’ 

মিঠু জানান, ছোটবেলায় তার দাদা ওস্তাদ যতীন্দ্র নাথ সাহার কাছে তবলায় হাতেখড়ি হয়। মিঠুর বাবা শ্যামল কুমার সাহা সিরাজগঞ্জেরই একজন গানের শিক্ষক। বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে তিনি দীর্ঘদিন যাবত সঙ্গীতে তালিম দিয়ে আসছেন। মিঠুর মা সুনন্দা রানী সাহা একজন সাধারণ গৃহিনী। তবে পরিবারের মধ্যমনি তিনি। মিঠু ওস্তাদ মনিরুজ্জামানের কাছেও দীর্ঘদিন তবলায় তালিম নিয়েছেন। ১৯৯৯ সালে ঢাকা কলেজে রাষ্ট্র বিজ্ঞানে অনার্সে ভর্তি হন। সেখান থেকেই তিনি এই বিষয়ে অনার্স মাস্টার্স সম্পন্ন করেন। প্রায় বিশ বছল যাবত তিনি পেশাগত ভাবে একজন যন্ত্রসঙ্গীত শিল্পী হিসেবে কাজ করে আসছেন। 

ক্যারিয়ারের শুরুর দিকে ন্যান্সির সঙ্গে দীর্ঘদিন তিনি পেশাগতভাবে কাজ করেছেন। পরবর্তীতে পড়শীর সঙ্গেও কাজ করেছেন। ঝিলিকের সেরাকন্ঠ হয়ে উঠার আগে থেকেই তারসঙ্গে কাজ করেছেন মিঠু। ইমরানের সঙ্গে পরিচয় ছিলো অনেক আগে থেকে। তবে তারসঙ্গে ব্যান্ডদল গঠন করে পেশাগতভাবে দলের হয়ে যাত্রা শুরু হয় গেলো বছর। দলের নাম রাখা হয়েছে ‘আইকিংস’। 

এই দলের টিম লিডার হিসেবেই কাজ করেন মিঠু। দলের অন্যান্য সদস্যরা হচ্ছেন ভোকালে ইমরান, গীটারে জিতু, কী বোর্ডে কাইয়ূম, বেজ গীটারে জনি। একজন যন্ত্র সঙ্গীত শিল্পী হিসেবে ভীষণ গর্বিত মিঠু। 

মিঠু বলেন, ‘আমেরিকা, কানাপা, জাপান, কোরিয়া, লন্ডন, দুবাই , সিঙ্গাপুর’সহ আরো বহুদেশে ঘুরেছি। এটা অনেক বড় অর্জন। তবে খারাপ লাগে যখন আমার এই পথচলায় অনেকেই পেছন থেকে কথা বলে বাধা সৃষ্টি করতে চায়। আমার কথা হচ্ছে একটাই, কোয়ালিটি দিয়ে এগিয়ে যেতে হবে। যতোদিন পারি ভালোভাবে কাজ করে যাবো। কোয়ালিটির সাথে কোনো কম্প্রোমাইজ করবোনা আমি। সবার আশীর্বাদ নিয়েই আগামী দিনগুলোতে ভালোভাবে কাজ করে যেতে চাই।’ 

মিঠু জানান এই প্রজন্মে তার প্রিয় কন্ঠশিল্পী লুইপা, ঝিলিক ও নন্দিতা। এই তিনজনের মিষ্টি কন্ঠ তাকে ভীষণভাবে মুগ্ধ করে। মিঠুর স্ত্রী লাবনী সাহা টুম্পা ও তার একমাত্র কন্যা শ্রেয়া সাহা। এদিকে আজ মিঠুর জন্মদিন। তবে জন্মদিন নিয়ে কোন পরিকল্পনা নেই তার। 

মিঠু বলেন, ‘সবার আশীর্বাদ চাই যেন সুস্থ থাকি ভালো থাকি। আর নিজের পেশাগত কাজটা যেন সম্মানের সাথে করতে পারি। এই সোনার বাংলার মুখ যেন বিদেশের মাটিতে আরো উজ্জ্বল করতে পারি।’ 

১৯৯৬ জাতীয় শিশু কিশোর প্রতিযোগিতায় তবলায় দ্বিতীয় স্থান অধিকার করেন মিঠু। ১৯৯৮-৯৯ সালে ধ্রুব পরিষদ আয়োজিত প্রতিযোগিতায় তবলা’য় প্রথম স্থান অধিকার করেন মিঠু।

feature-top
feature-top

আরও খবর »

feature-top