ঢাকা , ০৯ ২০১৯ ,

গরু ৫০, ছাগল ৫ টাকা দিয়েও কেউ চামড়া কিনছে না

বায়ান্ন অনলাইন রিপোর্ট | ১৩ Augu, ২০১৯ ৫:১৯ অপরাহ্ন | আপডেট : ১৩ Augu, ২০১৯ ৫:১৯ অপরাহ্ন
feature-top
গরুর চামড়া ৫০ টাকায়ও বিক্রি করতে পারছেন না মৌসুমি ব্যবসায়ীরা। আর ছাগলের চামড়া ৫ টাকায়ও কেউ কিনছে না। চামড়ার দাম না পাওয়ায় কোরবানী দাতাদের অনেকেই ক্ষুব্ধ হয়ে মাটিতেই পুঁতে দিচ্ছেন। 
 
ঈদের পরদিন মঙ্গলবার রাজধানীর লালবাগে চামড়ার বাজারে গিয়ে দেখা গেছে, মৌসুমি ব্যবসায়ীরা ঈদের দিন কেনা চামড়া নিয়ে বসে আছেন। কিন্তু কোনো ক্রেতা নেই।
 
মৌসুমি ব্যবসায়ীরা অনেকেই বাজারে রাস্তার পাশে চামড়া ফেলে রেখে চলে গেছে। কারণ এই চামড়া বাড়ি নিয়ে যেতে পরিবহন বাবদ তাদের আরও লোকসান হবে। আবার প্রক্রিয়াজাতও তারা করতে পারে না। প্রক্রিয়াজাত করতে গেলে লোকসান হয়ত আরও বাড়বে।
 
চামড়ার বাজারে ঈদের দিন রাত পর্যন্ত গরুর চামড়া প্রতিটি ২০০ থেকে ৩০০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। ছাগলের চামড়া বিক্রি হয়েছে ১০ থেকে ১৫ টাকা দরে। কিন্তু ঈদের পরদিন দৃশ্য ভিন্ন। গরুর চামড়া ৫০ টাকায়ও বিক্রি করতে পারছেন না মৌসুমি ব্যবসায়ীরা। আর ছাগলের চামড়া ৫ টাকায়ও কেউ কিনছে না।
 
সাধারণত কোরবানীর ঈদের দিন সকাল থেকেই কোরবানীর পশুর চামড়া কিনতে মৌসুমী ব্যবসায়ীরা শহরের অলিগলি এবং গ্রাম গঞ্জের পাড়া-মহল্লায় চামড়া কেনার জন্য অপেক্ষা করেন। মৌসুমী ব্যবসায়ীদের পাশাপাশি মাদরাসার শিক্ষার্থীদের সাথে নিয়ে হুজুরদেরও দেখা যেত। পশু কোরবানীর পর সেই চামড়া কেনার জন্য টানাটানিও করেন। কিন্তু এবার সে দৃশ্য দেখা যায়নি।
 
কাঁচা চামড়া ব্যবসায়ীদের সংগঠন বাংলাদশে হাইড অ্যান্ড স্কিন মার্চেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মো. হাজী দেলোয়ার হোসনে সাংবাদিকদের বলেন, এবার মৌসুমী ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে সব চামড়া কেনা সম্ভব হবে না। এ ছাড়া চামড়া কেনার মতো পর্যাপ্ত টাকাও ব্যবসায়ীদের কাছে নেই। এ কারণে মৌসুমী ব্যবসায়ীদের লবণ দিয়ে চামড়া রাখার মতো ক্যাপাসিটি থাকলেই তাদের চামড়া কেনার পরামর্শ দিচ্ছি।
 
এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ হাইড অ্যান্ড স্কিন মার্চেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মোহাম্মদ দেলোয়ার হোসেন বলেন, ‘সব মিলিয়ে এবছর চামড়াখাতে ভয়াবহ পরিস্থিতি চলছে। ট্যানারি মালিকরা সাড়ে তিনশ’ কোটি টাকার বেশি বকেয়া রেখেছেন। অন্যান্য ঈদের সময় ১০ থেকে ২০ শতাংশ নগদ টাকা দিলেও এবার সেখানে হাতেগোণা কয়েকজন টাকা পেয়েছেন।
 
পোস্তার আড়তদার জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, আমি ৩০ বছর ধরে চামড়ার ব্যবসা করি। এবারের মতো দরপতন কোনোদিন দেখিনি। এবার চামড়া কম দামে কিনেও ঝুঁকিতে আছি। এখনো কোনো ট্যানারি যোগাযোগ করেনি। আশা করছি, আগামী রবিবার (১৮ আগস্ট) থেকে চামড়া নেওয়া শুরু করবেন ট্যানারি মালিকরা।
 
গ্রাম-গঞ্জে সাধারণত হাফেজিয়া মাদরাসার শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা কোরবানীর চামড়া সংগ্রহ করে তা পরে বিক্রি করে দেন। কিন্তু, এবার তারাও চামড়া নিয়ে খুব বেশি তৎপরতা দেখাননি। কোথাও কোথাও মাদরাসার শিক্ষার্থীরা চামড়া সংগ্রহের পর ন্যায্য মূল্য না পাওয়ায় ক্ষুব্ধ হয়ে তা রাস্তায় ফেলে দিয়েছেন বলেও খবর আসছে।
 
উল্লেখ্য, এ বছর গরুর কাঁচা চামড়ার দাম ঢাকায় প্রতি বর্গফুট ৪৫ থেকে ৫০ টাকা। ঢাকার বাইরে ৩৫ থেকে ৪০ টাকা নির্ধারণ করে দিয়েছে সরকার। সারা দেশে খাসির চামড়ার দাম নির্ধারণ করা হয়েছে প্রতি বর্গফুট ১৮ থেকে ২০ টাকা এবং বকরির চামড়ার দাম নির্ধারণ করা হয় প্রতি বর্গফুট ১৩ থেকে ১৫ টাকা।
 

মিথুন

আরও খবর »