ঢাকা , ১৫ ২০১৯ ,

বাংলা সিনেমার মায়াবী পুরুষ সালমান শাহ’র প্রয়াণ দিবস

বায়ান্ন অনলাইন রিপোর্ট | ৬ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ৩:১১ অপরাহ্ন | আপডেট : ৬ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ৩:১৯ অপরাহ্ন
feature-top

পৃথিবীতে অনেক মানুষ জন্মেন, যারা আসেন, দেখেন আর জয় করেন। আবার এই দুরন্ত বিজয়ী মানুষদের কেউ কেউ মায়ার বাঁধনে মানুষকে বেঁধে নিয়ে হুট করে কোথায় যেন হরিয়ে যান। মানুষ তখন তাঁর বিলানো সেই মায়ার জন্য কাঙাল হয়ে ওঠে। কিন্তু তিনি আর ফেরেন না। তিনি কেবল মানুষকে প্রজন্ম পরম্পরায় আচ্ছন্ন করে রাখেন মায়ার জালে। সালমান শাহ বাংলাদেশে জন্ম নেয়া তেমনই এক মায়াবী পুরুষ। চলে যাওয়ার পরেও বছরের পর বছর তিনি আচ্ছন্ন করে রেখেছেন সংবেদীদের।

পরপারে গমন করেছেন তেইশ বসন্ত পেরিয়েছে। ১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর সালমান শাহ আত্মহত্যা করেন। তার মৃত্যু ছিল রহস্যঘেরা। পরিবার পক্ষের দাবি, সালমান শাহকে পরিকল্পিত হত্যা করা হয়েছে। দাবির পক্ষে আদালতে মামলাও করেন সালমান শাহর বাবা। এখনও সেই মামলার নিস্পত্তি হয়নি। আত্মহত্যা নাকি হত্যা! এটা নিয়ে দ্বিধা রয়ে গেছে।

মৃত্যুর পর থেকে আজও বাঙালির মননে সালমান আবেগ এতটুকু মলীন হয়নি। অপলক আকর্ষণীয় চাহনি। ঠোঁটের কোণের মিষ্টি হাসি। দুর্দান্ত অভিনয়… এটুকুই যথেষ্ট সালমান শাহ নামক আবেগটাকে ধরিয়ে দেওয়ার জন্য। কত মোহমোয়ী তার মোহে মুগ্ধ হয়ে বিনিদ্র রজনী কাটিয়েছেন এককালে।

সালমান শাহ ১৯৭১ সালের ১৯ সেপ্টেম্বর সিলেটে জন্মগ্রহণ করেন। তার পারিবারিক নাম ছিল শাহরিয়ার চৌধুরি ইমন। চলচ্চিত্র জীবনে তিনি সালমান শাহ নামে খ্যাতি অর্জন করেন।
নাটকের অভিনয়ের মধ্য দিয়ে সালমান ক্যারিয়ার শুরু করেন। বাংলাদেশ টেলিভিশনের ‘আকাশ ছোঁয়া’ নাটকে প্রথম অভিনয় করেন ১৯৮৫ সালে। নাটকে অভিনয়ের মাঝেই ১৯৯৩ সালে তার চলচ্চিত্রে অভিষেক হয়। সোহানুর রহমান সোহান পরিচালিত ‘কেয়ামত থেকে কেয়ামত’ ছবিতে অভিনয়ের মাধ্যমে রূপালী পর্দায় পা রাখেন। বিপরীতে ছিলেন মৌসুমি। অভিষেক সিনেমায় তিনি ব্যাপকভাবে প্রশংসিত হন। সেসময় প্রত্যাশার চেয়েও বেশি ব্যবসা করে ছবিটি।

সালমান শাহ সম্পর্কে সোহানুর রহমান সোহান বলেন, ‘সালমান যখন অভিনয় করতেন তখন মনে হতো না যে, তিনি অভিনয় করছেন। বাস্তব মনে হতো। সে চরিত্রের সঙ্গে মিশে যেতে পারতো। এ কারণে দর্শকরা তাকে পছন্দ করতো। এমনকি এখনও মানুষ তাকে ভুলতে পারেনি। তার পোশাক নির্বাচন থেকে শুরু করে হাঁটা–চলা, কথা বলা—সবকিছুতেই আধুনিকতার ছোঁয়া ছিল। এসব কিছুই তাকে বাংলা চলচ্চিত্রের রাজপুত্র বানিয়েছে।’

সোহান মনে করেন সালমান শাহর মৃত্যুর পর বাংলাদেশের সিনেমার অপূরণীয় ক্ষতি হয়েছে। তিনি থাকলে আজকে বাংলা সিনেমার অবস্থা এমন ভঙ্গুর থাকতো না। তিনি বলেন, ‘আজকে আমাদের চলচ্চিত্র শিল্প ধ্বংসের দিকে চলে যাচ্ছে। সালমানের প্রয়োজনীয়তা আমরা মর্মে মর্মে উপলব্ধি করছি। তিনি বেঁচে থাকলে আজকে চলচ্চিত্র শিল্পের এই করুণ অবস্থা হতো না।’
আজ এই সময়ে এসে সালমান শাহ মৃত্যুর পর তার উত্তরসূরী পেয়েছে কি বাংলাদেশের চলচ্চিত্র? প্রশ্নের উত্তরে তিনি কিছুক্ষণ সময় নিয়ে বলেন, ‘এখনও সালমানের উত্তরসূরী আসেনি আমাদের চলচ্চিত্রে। আসলে কারও উত্তরসূরী কেউ হয়না। তার কাছাকাছি হয়। সালমান তার স্বকীয়তার মাধ্যমে মানুষের মনে জায়গা করে নিয়েছে। এখন শাকিব খান তার স্বকীয়তা দিয়ে চলচ্চিত্রে বড় জায়গা দখল করে আছেন। এরকম আরও কিছু শিল্পী আসা দরকার। এখনও শিল্পী সংকট চলেছে। এটি কাটিয়ে ওটা দরকার।’
এখন যারা শিল্পী রয়েছেন তারা ঠিকমতো নিজেকে মেলে ধরতে পারছেন না। সেজন্য নিজেদের পেশাদারিত্বের অভাব এবং সেই সাথে পরিচালকরা তাদের কাজে লাগাতে পারছেন না বলে তিনি মনে করেন।
‘ভালো আছি ভালো থেকো, আকাশের ঠিকানায় চিঠি লিখো’—সিনেমায় সালমান শাহর ঠোঁট মেলানো জনপ্রিয় একটি গান। সালমান শাহ ওপারে ভালো আছেন কি না জানা নেই। তবে তার তো ভালো থাকারই কথা। ভক্তদের ভালোবাসা যার সঙ্গে সে তো খারাপ থাকতে পারে না।
প্রিয় নায়ককে আজও হৃদয়ের আবেগ মিশিয়ে আকাশের ঠিকানায় চিঠি লেখেন ভক্তরা। সেই চিঠি সেখানে গিয়ে হয়ত পৌছায়, হয়ত পৌঁছায় না। তাতে কী— উত্তর পাবেনা জেনেও এভাবেই ভক্তরা আকাশের ঠিকানায় চিঠি লিখতে থাকবে।

জা/
 

feature-top
feature-top

আরও খবর »

feature-top