ঢাকা , ১৮ ২০১৯ ,

হিমায়িত গরুর মাংস আমদানি প্রক্রিয়া বন্ধের দাবি জানালো খাত সংশ্লিষ্টরা

বায়ান্ন অনলাইন রিপোর্ট | ৯ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ৫:১২ অপরাহ্ন | আপডেট : ৯ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ৫:১২ অপরাহ্ন
feature-top

বিদেশ থেকে হিমায়িত গরুর মাংস আমদানি প্রক্রিয়া বন্ধ করার দাবি জানিয়েছেন খাত সংশ্লিষ্টরা। 

সোমবার রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি জানিয়েছেন উদ্যোক্তারা। খাত সংশ্লিষ্ট কয়েকটি সংগঠন সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেন। 

উদ্যোক্তারা জানান, গরুর মাংস আমদানি হলে প্রান্তিক খামারিরা চরম আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হবেন। ফলে বিশাল যুব সমাজ তথা উদ্যোক্তারা বেকার হয়ে পড়বেন। যার প্রভাব পড়বে গ্রামীণ অর্থনীতি, সামাজিক নিরাপত্তা, খাদ্য নিরাপত্তা ও কৃষি খাতে।

সংবাদ সম্মেলনে অ্যানিমেল হেলথ কোম্পানিজ অ্যাসোসিয়েশনের (আহকাব) সভাপতি ড. নজরুল ইসলাম বলেন, ডেইরি ও ক্যাটল শিল্প দেশের একটি মৌলিক শিল্প। তাই বিদেশ থেকে আমদানি করে এই শিল্পকে ধ্বংস করা যাবে না।

মাংসের উৎপাদনের চিত্র তুলে ধরে তিনি বলেন, জনপ্রতি দৈনিক ১২০ গ্রাম মাংসের চাহিদা হিসাবে বছরে মাংসের চাহিদা ৭২.৯৭ লাখ টন। কিন্তু গত ২০১৮-১৯ অর্থবছরে গবাদিপশু ও হাঁস-মুরগি থেকে মোট মাংস উৎপাদন হয়েছে ৭৫.১৪ লাখ টন। অর্থাৎ চাহিদা মেটানোর পরও ২ দশমিক ১৭ লাখ টন মাংস উদ্বৃত্ত রয়ে গেছে। তাহলে কেন মাংস আমদানি করতে হবে?

আমদানি করলে দেশের কী ক্ষতি হবে এ বিষয়ে নানা যুক্তি তুলে ধরে নজরুল ইসলাম বলেন, গত কয়েক বছরে বিদেশ থেকে অবাধে গরু চোরাচালান বন্ধের প্রেক্ষিতে প্রয়োজনীয়তার নিরীখে দেশে ডেইরি ও ক্যাটল শিল্প বিকশিত হতে শুরু করেছে। শিক্ষিত বেকার যুবক ও নারীরা গরু মোটা-তাজাকরণ ও দুগ্ধ শিল্পে নিজেদের আত্মনিয়োগ করেছেন। সরকারও স্বল্প সুদে তাদের ঋণ দিচ্ছে। ফলে বর্তমানে কোরবানির সময় দেশীয় গরু দিয়ে সম্পূর্ণ চাহিদা মেটানো যাচ্ছে। এই শিল্পের বর্তমান ধারা অব্যাহত থাকলে দেশের সব চাহিদা মিটিয়ে বিদেশে রপ্তানি করে প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করা সম্ভব হবে।

অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন পিকেএসএফ এর মহাব্যবস্থাপক ও প্রাণিসম্পদ গবেষণা বিভাগের সাবেক প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা শরীফ আহমেদ।

এতে তিনি বলেন, কয়দিন পর যদি গরুর মাংস আমদানি করা হয়। আর ওই মাংসের সাথে শুকরের মাংস থাকে তাহলে এর দায় নেবে কে? যেহেতু বাংলাদেশ মাংস উৎপাদন করে তাহলে আমদানি করার প্রয়োজন হবে কেন? বরং দেশে মাংস উৎপাদনে যেসব সমস্যা রয়েছে তা নিরসনের উদ্যোগ নেয়া জরুরি।

অনুষ্ঠানে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের তথ্য দিয়ে তিনি বলেন, দেশে ৪ লাখ ৪২ হাজার ৯৯১টি নিবন্ধিত গরু মোটাতাজাকরণ খামার ও ৫৯ হাজার ২৭৪টি ডেইরি খামার রয়েছে। এছাড়াও অসংখ্য অনিবন্ধিত খামার রয়েছে দেশজুড়ে।

প্রবন্ধে বলা হয়, গরু, ছাগল, মহিষ ও ভেড়ার প্রায় ১৮ কোটি বর্গফুট চামড়া উৎপাদন ও প্রক্রিয়াজাত করে। চামড়া ও চামড়াজাতীয় পণ্য রপ্তানি করে বাংলাদেশ বছরে প্রায় সাড়ে ৮ হাজার কোটি টাকা আয় করে। এসব শিল্পের সাথে প্রত্যক্ষও পরোক্ষভাবে জড়িত রয়েছে প্রায় ৫৬ লাখ লোকের জীবিকা।

গবাদি পশুর উৎপাদন বাড়াতে বক্তারা বলেন, সহজে ব্যাংক ঋণ দিলে, পতিত জমিগুলো কৃষকদের লিজ দেয়ার ব্যবস্থা নিলে এবং ১০ বছরের জন্য এই খাতে ভ্যাট রেয়াত দিলে এই শিল্পের বিকাশ হবে আরো দ্রুত।

দেশে গরু-ছাগলের উৎপাদন কমে গেলে তাদের বিষ্ঠা দিয়ে যে জৈব সার উৎপাদন হয় তার ঘাটতি দেখা দিবে।

সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, যেখানে বেঙ্গল মিট মাংস রফতানি করে সেখানে আমদানি কেন? এটি হলে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের সাধারণ মানুষ, খামারি ও শিল্প সংশ্লিষ্টরা ক্ষতিগ্রস্ত হবে। একই সঙ্গে গোখাদ্যের আমদানি শুল্ক প্রত্যাহারের দাবি করা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন- অ্যানিমেল হেলথ কোম্পানিজ অ্যাসোসিয়েশনের সাবেক সভাপতি মমিন উদ্দৌলা, বাংলাদেশ ভেটেরিনারি অ্যাসোসিয়েশনের মহাসচিব ডা. মো. হাবিবুর রহমান মোল্লা, বাংলাদেশ ডেইরি ফার্ম অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক মো. শাহ এমরান, বাংলাদেশ পোল্ট্রি অ্যাসোসিয়েশনের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব খন্দকার মহসিন, বেঙ্গল মিটের হেড অব কমার্শিয়াল অ্যান্ড এক্সপোর্ট একেএম সাইদুল হক ভূঁইয়া প্রমুখ। 

এছাড়া ফিড ইন্ডাস্ট্রিজ অব বাংলাদেশ, বাংলাদেশ পোল্ট্রি ইন্ডাস্ট্রিজ অ্যাসোসিয়েশন, বাংলাদেশ ট্যানার্স অ্যাসোসিয়েশনের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।  

মিথুন  

feature-top
feature-top

আরও খবর »

feature-top