ঢাকা , ১৫ ২০১৯ ,

আজ আমি বড় একা

বায়ান্ন | ১০ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ১২:২১ অপরাহ্ন | আপডেট : ১০ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ১২:২১ অপরাহ্ন
feature-top

প্রবীর মিত্র, বাংলা চলচ্চিত্র জগতের অন্যতম কিংবদন্তি। চাঁদপুর শহরে এক কায়স্থ পরিবারে তার জন্ম, ১৯৪৩ সালের ১৮ আগস্ট চাঁদপুরের নতুন বাজারে। তাঁর পুরো নাম প্রবীর কুমার মিত্র।

বংশপরম্পরায় পুরনো ঢাকার স্থায়ী বাসিন্দা প্রবীর মিত্র। তিনি ঢাকা শহরেই বেড়ে উঠেন৷ তিনি প্রথম জীবনে সেন্ট গ্রেগরি থেকে পোগজ স্কুলের গন্ডি পেরিয়ে জগন্নাথ কলেজ (বর্তমানে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়) থেকে স্নাতক সম্পন্ন করেন। প্রবীর মিত্রের স্ত্রী অজন্তা মিত্র ২০০০ সালে মারা যান। তার এক মেয়ে তিন ছেলে। ছোট ছেলে ২০১২ সালে ৭ই মে মারা গেছেন।

একটা সময় তার ব্যস্ততা ছিল, আকাশচুম্বি। সেসব এখন শুধুই স্মৃতি। চলচ্চিত্রে ব্যস্ততা বলতে কিছুই নেই। আগে সময় পেলে বিকেলে ছুটে যেতেন কাকরাইল ফিল্ম পাড়ায়, এফডিসিতে। সহশিল্পীদের সঙ্গে আড্ডা দিয়ে সময় কাটাতেন। এখন সেটাও পারেন না। এখন সারা দিন বাসায় বই, পত্রপত্রিকা আর টেলিভিশন দেখেই দিন কাটে প্রবীর মিত্রের। যে চলচ্চিত্রের জন্য জীবনের এক-তৃতীয়াংশ সময় ব্যয় করেছেন, সেখানকার দু-একজন ছাড়া আর কেউ খোঁজখবর নেন না বলে জানালেন তিনি।
দীর্ঘদিন অর্থারইটিজ সমস্যা, বিশেষ করে দুই হাঁটুর তীব্র অসুস্থতার কারণে প্রবীর মিত্র এখন ঘরের চার দেয়ালে বন্দী হয়ে প্রায় নিঃসঙ্গ জীবনযাপন করছেন।

অস্টিওপরোসিসে আক্রান্ত হয়েছেন তিনি। এই রোগের ফলে তাঁর হাড়ে ক্ষয় ধরেছে। যন্ত্রণাদায়ক এই রোগের জন্য ঠিকমতো হাঁটতে পারেন না তিনি। মাঝেমধ্যে প্রচণ্ড ব্যথায় ভোগেন, আবার কদিন ভালো থাকেন। এ অবস্থায় কাজ করার মতো পরিস্থিতি নেই তার। আদৌ আর কাজ করতে পারবেন কিনা তাও জানেনা না তিনি। এ ঘর থেকে ও ঘরে যাই লাঠিতে ভর করে হাটেন। বলেন, আমি বড় ক্লান্ত।

ক্যারিয়ারের শুরুর দিকে প্রবীর মিত্র নায়ক হিসেবে কয়েকটি চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন। ছবি: সংগৃহীত
প্রবীর কুমার মিত্রের পৈতৃক নিবাস কেরানীগঞ্জের শাক্তায়। পুরান ঢাকায় বড় হওয়া প্রবীর মিত্র স্কুলজীবন থেকেই নাট্যচর্চার সঙ্গে যুক্ত। স্কুলজীবনে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের \’ডাকঘর\’ নাটকে অভিনয় করেছিলেন তিনি। ১৯৬৯ সালে প্রয়াত এইচ আকবরের \’জলছবি\’ চলচ্চিত্রে অভিনয়ের জন্য প্রথম প্রবীর মিত্র ক্যামেরার সামনে দাঁড়ান। এই চলচ্চিত্রে চিত্রনাট্য ও সংলাপকার হিসেবে অভিনেতা এটিএম শামসুজ্জামানের আত্মপ্রকাশ ঘটে। যদিও চলচ্চিত্রটি মুক্তি পায় ১৯৭১ সালের ১ জানুয়ারি। পরবর্তীতে পরিচালক এইচ আকবরের হাত ধরে \’জলছবি\’ নামে একটি চলচ্চিত্রের মধ্য দিয়েছে বড়পর্দায় তাঁর অভিষেক হয়।
ক্যারিয়ারের শুরুর দিকে প্রবীর মিত্র \’নায়ক\’ হিসেবে কয়েকটি চলচ্চিত্রে অভিনয় করেন। এরপর ’চরিত্রাভিনেতা’ হিসেবে কাজ করেও তিনি পান দর্শকপ্রিয়তা। তৎকালীন \’তিতাস একটি নদীর নাম\’, \’জীবন তৃষ্ণা, \’সেয়ানা\’, \’জালিয়াত\’, \’ফরিয়াদ\’, \’রক্ত শপথ\’, \’চরিত্রহীন\’, \’জয় পরাজয়\’, \’অঙ্গার\’, \’মিন্টু আমার নাম\’, \’ফকির মজনু শাহ\’, \’মধুমিতা\’, \’অশান্ত ঢেউ\’, \’অলংকার\’, \’অনুরাগ\’, \’প্রতিজ্ঞা\’, \’তরুলতা\’, \’গাঁয়ের ছেলে\’, \’পুত্রবধূ\’, \’বাঁধনহারা\’,’চ্যালেঞ্জ\’, \’আশীর্বাদ\’, \’ফেরারি বসন্ত\’, \’আঁখি মিলন\’, আকাশ ছোঁয়া ভালোবাসা\’, \’ভালোবাসলেই ঘর বাঁধা যায় না\’ এর মতো ব্যবসা সফল চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন। তার অভিনিত চলচ্চিত্রে র সংখ্যা প্রায় ৪০০।


গত ১৮ আগস্ট অভিনেতা প্রবীর মিত্রের জন্মদিন ছিল। নিঃসঙ্গ একলা এই অভিনেতার এখন সময় কাটে শুধু অতীতের ব্যস্ত সময়ের স্মৃতির কথা মনে করে। জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পাওয়া এই অভিনেতার ভাষায়, বেশ কয়েক বছর হলো আমার স্ত্রী বেঁচে নেই। তাঁর না থাকা এখন অনুভব করছি। আজ আমি বড় একা। কাজ করতে শরীর সায় দেয় না বলে মানুষ খোঁজ নেয় না। মাঝেমধ্যে ভাবি, কাদের জন্য এত কাজ করেছি!

উল্লেখ্য,প্রবীর লালকুটি থিয়েটার গ্রুপে অভিনয়ের মাধ্যমে তার কর্মজীবন শুরু করেন ৷ কর্মজীবনে তিনি সর্বক্ষেত্রে সফলতা অর্জন করেছেন ৷ স্কুলে পড়া অবস্থায় জীবনে প্রথমবারের মতো নাটকে অভিনয় করেছিলেন তিনি। এটি ছিল রবীন্দ্রনাথের \’ডাকঘর\’। চরিত্র ছিল প্রহরী। এরপর পুরনো ঢাকার লালকুঠিতে শুরু হয় তার নাট্যচর্চা। পরিচালক এইচ আকবরের হাত ধরে জলছবি চলচ্চিত্রে তিনি প্রথম অভিনয় করেন।

রাখা

feature-top
feature-top

আরও খবর »

feature-top