ঢাকা , ১৫ ২০১৯ ,

পাবনায় পুলিশী মধ্যস্থতায় ধর্ষক-ভিকটিম বিয়ে, ধর্ষক আটক

বায়ান্ন অনলাইন ডেস্ক | ১০ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ৪:১৬ অপরাহ্ন | আপডেট : ১০ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ৪:১৬ অপরাহ্ন
feature-top

পাবনায় পুলিশী মধ্যস্থতায় ধর্ষণের শিকার গৃহবধূর সঙ্গে ধর্ষকের বিয়ে দেওয়ার ঘটনায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলার এক নম্বর আসামি ও ধর্ষণের ঘটনায় মূল অভিযুক্ত রাসেল হোসেনকে আটক করেছে পুলিশ।

পাবনার পুলিশ সুপার শেখ রফিকুল ইসলাম গণমাধ্যমকে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, ‘থানায় ধর্ষণের মামলা হয়েছে। মামলার প্রধান আসামি রাসেলকে আজ গ্রেফতার করা হয়েছে। আগামীকাল (বুধবার) তাকে আদালতে উপস্থাপন করা হবে।’

পাবনা সদর থানার ওসি (তদন্ত) আসাদুজ্জামান জানান, সোমবার (৯ সেপ্টেম্বর) বিকেলে পাঁচ জনের নামে ভিকটিম অভিযোগ করলে রাতেই মামলা নথিভুক্ত করা হয়। মামলার নম্বর ৩৪। আসামিরা হলো- রাসেল, ঘন্টু, হোসেন আলী, ওসমান ও সঞ্জু।

পাবনা সদর উপজেলার দাপুনিয়া ইউনিয়নের সাহপুর যশোদল গ্রামের তিন সন্তানের মা ওই গৃহবধূ অভিযোগ করেন, প্রতিবেশী রাসেল আহমেদ গত ২৯ আগস্ট এক সহযোগীসহ তাকে তার বাড়িতে ধর্ষণ করে। দুই দিন পর (৩১ আগস্ট) তাকে একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের অফিসে নিয়ে তিন দিন আটকে রেখে সেখানেও চার-পাঁচ জন তাকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ করে। বিষয়টি ওই নারী বাড়ি ফিরে স্বজনদের জানালে গত ৫ সেপ্টেম্বর তাকে পাবনা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে সেই গৃহবধূ নিজেই বাদী হয়ে পাবনা সদর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। এ ঘটনায় পুলিশ রাসেলকে প্রথমে আটক করে। এরপর অভিযুক্ত রাসেলের সঙ্গে অভিযোগকারী ওই নারীকে থানায় ডেকে এনে বিয়ে দিয়ে ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করা হয়।

এ বিষয়ে দাপুনিয়া ইউনিয়ন পরিষদের ১ নম্বর ওয়ার্ড সদস্য দৌলত আলী জানান, তার উপস্থিতিতে এলাকা থেকে পাবনা সদর থানার এস আই একরামুল হক ধর্ষণের অভিযোগে রাসেলকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়। পরে তারা শুনেছেন রাসেলের সঙ্গে ওই নারীর বিয়ে দেওয়া হয়েছে।

এই ঘটনা নিয়ে সমালোচনা শুরু হলে পুলিশের পক্ষ থেকে তিন সদস্যবিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। একই সঙ্গে ধর্ষণ মামলা নথিভুক্ত করার নির্দেশ দেওয়া হয়। ঘটনার দায়ে সদর থানার ওসিকে শোকজ করা হয়। পরে সোমবার (৯ সেপ্টেম্বর) বিকেলে ওই গৃহবধূকে থানায় ডেকে নিয়ে মামলা দায়ের করে পুলিশ।
জা/

 

feature-top
feature-top

আরও খবর »

feature-top