ঢাকা , ১৮ ২০১৯ ,

নড়াইলের খালে-বিলে পানি নেই, নেই নৌকা বেচা-কেনা

বায়ান্ন | ১০ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ৪:২৭ অপরাহ্ন | আপডেট : ১০ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ৪:২৭ অপরাহ্ন
feature-top

নৌকার হাট নড়াইলের খালে বিলে পানি নেই, নৌকা বিক্রি অনেক কমে গেছে। ক্রেতার পথ চেয়ে কারিগররা নড়াইল সদরের ভদ্রবিলা ইউনিয়নের ২ টি গ্রাম রামসিদি ও ডহর রামসিদি। প্রতি বছর বর্ষা মৌসুমে প্রায় ৬ মাস নৌকা তৈরী করে জীবীকা নির্বাহ করে এই দুটি গ্রামের শতাধিক পরিবার।

এই দুটি গ্রামের নৌকা তৈরী ইতিহাস শত বছরের। প্রতি বছর বর্ষা শুরু হওয়ার সাথে সাথে গ্রামের অন্তত ৫শতাধিক লোকের কর্মব্যস্ততা বেড়ে যায়। বছরের পর বছর বর্ষার শুরুতে এখানে নৌকা কেনাবেচার ধুম পড়লেও এবারের চিত্র ভিন্ন। চলতি বছরে বৃষ্টি কম হওয়ায় এখনও জমে উঠেনি নৌকার হাট। প্রতি হাটে সারি সারি নৌকা উঠলেও আশানোরুপ কেনাবেচা নেই রামসিদির হাটে। তবে প্রতি হাটে বিভিন্ন জেলা থেকে অল্প সংক্ষক ক্রেতা আসছে এখানে নৌকা কিনতে। ঢিলেঢালা ভাবে চলছে নড়াইলের সবচে বড় নৌকা কেনাকেচার এই হাটে ।

সব মিলে এবছর ভাল সময় যাচ্ছেনা এখানকার নৌকা তৈরীর সাথে জড়িত কয়েকশত পরিবারের। রামসিদি গ্রামের তিতাশ বিশ্বাস জানান, প্রতি বছর বর্ষা মৌসুমে রামসিদি গ্রামে নৌকা কেনাবেচা হয়। শত বছর ধরে নড়াইল সদর উপজেলার রামসিদি গ্রামের শত পরিবার নৌকা গড়েই জীবীকা নির্বাহ করে আসছে। চলতি বছরে নৌকা কেনাবেচা খুরই কম হচ্ছে। এখানে প্রতি বুধবার সকাল ৬টা হতে এ নৌকার হাট বসে। বছরের প্রায় ৬ মাস ধরে এ নৌকার হাট চলে। নৌকা কারিগর সুশান্ত বিশ্বাস জানান, এই নৌকা স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে যাচ্ছে অন্তত ১০টি জেলার বিভিন্ন উপজেলায়। এখানে বিভিন্ন রকমের নৌকা বানানো হয়।

বর্ষা মৌসুমে এখানে বিক্রি হয় বিল এলাকায় চলাচলের উপযোগি কালাই-ঢালাই (কালাই- ঢালাই বিল এলাকায় চলাচলের উপযোগি নৌকার নাম) । তবে এ বছর তাদের ইনকাম খুবই কম হচ্ছে। কারন বাজারে নৌকার চাহিদা খুবই কম। কারিগররা আরো জানান, এ হাটে নৌকা কিনতে আসেন খুলনার ফুলতলা, তেরখাদা, রূপসা, ডুমুরিয়া, ও দিঘলিয়া, যশোরের অভয়নগর ও বাঘারপাড়া, মাগুরার শালিখা ও মুহম্মদপুর, ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা ও বোয়ালমারী, গোপালগঞ্জের কাশিয়ানী, মকসেদপুরসহ অনেক এলাকার সাধারণ ক্রেতা ও ব্যবসায়ীরা। প্রতি বছর নৌকার অনেক চাহিদা থাকে ।

চলতি বছরে নৌকার তেমন চাহিদা নেই। অন্যাবারের তুলনার তাদের ইনকাম অর্ধেকে নেমে এসেছে। নৌকা তৈরীর কারীগর আসলাম জানান, বছরের ছয় মাস তাদের নৌকা তৈরীর কাজ থাকে। প্রতি বছর নৌকা তৈরীর মৌসুমে সকাল থেকে রাত অবদি তারা কাজ করেন। এবছর কাজের চাপ কম থাকায় রাতের বেলা তাদের কাজ করা লাগেনা। প্রতি বছর নৌকা তৈরীর মৌসুমে সকাল থেকে রাত অবদি কাজ করে তার ইনকাম হত ৮শ থেকে ১২শ টাকা। বর্তমানে কাজ কম থাকায় দিনে তার ৫শ টাকার বেশি ইনকাম হচ্ছেনা।

অনেক কারীগরের কাজ না থাকায় অলস সময় কাটাচ্ছে। খুলনা জেলার তের খাদা এলাকার নৌকা ব্যবসায়ী আজমল হোসেন তিনি প্রতিবছরের ন্যায় এবছরও নৌকা কিনতে এখানে এসেছেন। তিনি জানান, ২৫-২৬ বছর যাবৎ নৌকার ব্যবসা করেন। এই হাট থেকে নৌকা কিনে তিনি খুলনা জেলার বিভিন্ন উপজেলায় বিক্রি করেন। লাভও ভাল হয়। তবে এবছর খুলনা অঞ্চালে বর্ষা কম হওয়ায় নৌকা কেনাবেচা অর্ধেকে নেমে এসেছে।ব্যাবসায়ী ও কারিগররা জানান, এ নৌকার হাটে প্রতি বছরে প্রায় ২ কোটি ৫০ লক্ষ টাকা মূল্যের প্রায় ৫ হাজার নৌকা কেনাবেচা হয়।

প্রতিটি নৌকা গড়ে ৩ থেকে ৬ হাজার টাকা দামে বিক্রি হয়। অনেকে অর্ডার দিয়ে নৌকা তৈরী করে নিয়ে যান এই গ্রামের কারিগরদের কাছ থেকে। এখনও এ বছর নৌকার হাট জমে উঠেনি। কারিগর সুভাষ বিশ্বাস জানান, বছরের ছয় মাস তারা এই নৌকা তৈরী করে জিবীকা নির্বাহ করে। বাকি ছয় মাস তারা দিন মুজুরসহ বিভিন্ন প্রকার কাজ করে। হাটে নৌকার চাহিদা থাকলে বর্ষা মৌশুমে তারা সকাল থেকে রাত অবধি কাজ করে। এই সময় তাদের ইনকাম ভাল হয়।

কাজ বেশি হলে একজন কারিগর দিনে ৮শ -১২শ টাকা এবং একজন হেলপার ৩শ-৬শ টাকা রোজগার করেন। নৌকা কিনতে আসা এক সাধারন ক্রেতা জানান, শুনেছি এই হাটে নৌকার দাম এবছর কিছুটা কম। তাই তিনি এই হাটে নৌকা কিনতে এসেছেন। সাড়ে ৪ হাজার টাকা দিয়ে একটি নৌকা কিনেছেন বলেও জানান তিনি। জানাগেছে, ক্রেতা ব্যবসায়ীদের নিকট হতে নৌকা প্রতি ৫০টাকা এবং সাধারণ ক্রেতাদের নিকট হতে নৌকা প্রতি ১০০ টাকা খাজনা আদায় করা হয়।

এখানে যারা নৌকা বিক্রি করতে আসে তাদের কোন খাজনা দিতে হয়না। ভদ্রবিলা ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান শেখ মোশারেফ হোসেন জানান, এখানে প্রতি বুধবারে নৌকার হাট বসে। এখান থেকে ইউনিয়ন পরিষদ কোন টোল নেয় না। প্রতি হাটে ইউনিয়নের চৌকিদার, ইউপি সদস্যরা সহযোগিতা করে। এখানে দীর্ঘদিন যাবৎ রামসিদি গ্রামের মানুষ নৌকা তৈরী করে এবং এ হাটে বিক্রি করে। নৌকা তৈরীর জন্য ব্যবহৃত হয় এ অঞ্চলের পউয়া, উড়িয়াম ও রেন্ট্রি গাছের কাঠ।

রাখা

feature-top
feature-top

আরও খবর »

feature-top