ঢাকা , ১৬ ২০১৯ ,

প্রশাসনের উদাসীনতায় নড়াইলে নতুন করে ভাঙ্গন

বায়ান্ন | ৮ অক্টোবর, ২০১৯ ৩:১৭ অপরাহ্ন | আপডেট : ৮ অক্টোবর, ২০১৯ ৩:১৭ অপরাহ্ন
feature-top

নড়াইলের মধুমতি-নবগঙ্গা নদীতে মাত্রাতিরিক্ত পানি বেড়েছে। এর প্রভাবে নীচু এলাকা যেমন প্লাবিত হচ্ছে, তেমনি তীব্র ভাঙ্গন দেখা গেছে মধুমতি-নবগঙ্গার বিভিন্ন এলাকায়।

ভাঙ্গনের কবলে পড়ে কয়েকবছরে মধুমতি নদীর ঘাঘা, মল্লিকপুর, শিয়েরবর, মাকড়াইল নবগঙ্গা নদীর করগাতি, ছোট কালিয়া, শুক্তগ্রাম সহ ১৫টি পয়েন্টে হাজারো বসতঘর জমিসহ নানা স্থাপনা নদীগর্ভে চলে গেছে। ফারাক্কা’র প্রভাবে নতুন করে ভাঙ্গতে শুরু করেছে নবগঙ্গা নদীর শুক্তগ্রাম-হাচলা আর মধুমতি নদীর তেতুলিয়া এলাকা সহ কয়েকটি এলাকা।

গত ৪/৫ দিনে শুক্রগ্রাম এলাকার বাজার এলাকায় নবগঙ্গা নদীর পানি লোকালয়ে প্রবেশ করতে শুরু করেছে। হঠাৎ ভাঙ্গনে নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে শতাধিক বাড়িঘর ও ফসলী জমি। ভাংগন অব্যহত থাকলেও ভাঙ্গন রোধে পানি উন্নয়ন বোর্ডের উদাসীনতায় গৃহহীন হয়েছে কালিয়া উপজেলার কয়েক’শ বাসিন্দা। এখনও ভাঙ্গন আতঙ্কে এলাকার কয়েক হাজার মানুষ। গত বছর নবগঙ্গার তীব্র ভাঙ্গনে বিলীন হয়েছে শুক্তগ্রাম এলাকার পালপাড়া, আশ্রয়ন প্রকল্প সহ কয়েক হাজার একর জমি। প্রতিনিয়ত ভাঙ্গন আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছে নবগঙ্গা পাড়ের হাজারো মানুষ।

মাত্র কয়েক দিনের ব্যবধানে নদী গর্ভে হারিয়ে গেছে প্রায় শতাধিক বাড়ি ঘর গাছপালাসহ ফসলি জমি। ভাংগনের ভয়াবহতায় আশেপাশের কয়েক এলাকার মানুষ আতঙ্কিত হয়ে ঘরবাড়ি, দালান-কোঠা, গাছপালা কেটে সরতে শুরু করেছে। শুক্রগ্রামের প্রবীন ইলিয়াস আলী জানান, গত ৩৫ বছরে নবগঙ্গা নদীতে এমন পানি দেখিনি। এই পানি বাড়ার কারনে কয়েকদিনে আমাদের বাড়িটি এক রাতেই নদীর মধ্যে চলে যায়। পানি উন্নয়ন বোর্ড এখন যে বালির বস্তা ফেলাচ্ছে তা কোন কাজে আসছে না।

অভিযোগ আছে নবগঙ্গার বিভিন্ন অংশে চলতি বর্ষা মৌসুমের শুরুতেই ভাঙ্গনের আশংকা থাকলেও স্থানীয়দের কোন আবেদনে সাড়া দেয়নি জনপ্রতিনিধি কিম্বা পানি উন্নয়ন বোর্ডসহ স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তারা। ভাঙ্গনের মধ্যে নদী থেকে বালি তুলে তা ভরে জিও ব্যগ ফেলায় ব্যস্ত থাকলেও তা পানিতে তলিয়ে যাচ্ছে। ভাঙ্গনের কবলে পড়ে বাস্তুহারা মানুষের শেষ সম্বল বাড়ি সরানোর কাজে ব্যস্ত থাকলেও প্রশাসনের লোকেরা তাদের খবরও নিচ্ছেন না। মানুষের খাবারও জুটছে না ঠিকমতো।

নবগঙ্গার ভাঙ্গনে গ্রামটির বহু পরিবার সর্বস্ব হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে গেছে। নদীর পাড়ে খোলা আকাশের নীচে আবার রাস্তার উপরে ছড়ানো ছিটানো ভাঙ্গনের শিকার লোকদের ভাঙ্গা বাড়ির চাল,আসবাবপত্র। কোথায় গিয়ে আশ্রয় নিবেন এমন জায়গা খুজছেন সবাই। উপরে চাল নেই মাটির ভিটার উপরেই আশ্রয় নিয়েছে কয়েকটি পরিবার।

ভাঙ্গনের শিকার চরপাড়ার ষাটোর্দ্ধ তোবারেক শেখ বলেন, তিনবার নদী ভাঙ্গনে বাড়িঘরসহ ৩৫ একর ফসলি জমি নদীতে গেছে। সর্বশেষ ২ একর ৫৬ শতক জমি ছিল বসতবাড়ি। ভাংতে ভাংতে এখন মাত্র ১৫ শতক জমি আছে, ‘এখন আমরা নিঃস্ব।’ গত বর্ষা মৌসুম থেকে তীব্র ভাঙ্গনে নবগঙ্গা নদী গ্রাস করেছে শুক্তগ্রামের প্রায় দেড় শত বসতবাড়ি। এবার মারাত্মক হুমকির মুখে পড়েছে প্রায় তিন’শ বছরের পরনো শুক্তগ্রাম বাজার। যেকোনো মূহুর্তে নদীপাড়ের পাকারাস্তাটি ভেঙে গেলে সরকারি স্থাপনাসহ মসজিদ, মন্দির ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। নবগঙ্গা নদীর শুক্তগ্রাম এলাকার ভাঙ্গন ঢেকাতে পানি উন্নয়ন বোর্ডের দায়সারা কাজে কোন ফল হয়নি ।সময়মতো পদক্ষেপ না নেয়ায় যে কোনো সময় নদীতে বিলীন হবে শুক্তগ্রাম বাজার সহ হাজারো বাড়িঘর। পানি উন্নয়নবোর্ডের পক্ষে সাফাই গাইলেন বাবরা-হাচলা ইউপি চেয়ারম্যান মোজাম্মেল হোসেন পিকুল, তিনি বলেন, এটা একটা প্রাকৃতিক দূর্যোগ। এবারের হঠাৎ ভাঙ্গনে পানি উন্নয়ন বোর্ড জরুরী পদক্ষেপ নিয়েছে,আশাকরি এই ভাঙ্গন ঠেকানো যাবে। বর্ষা মৌসুমের শুরুতে কাজ না করে ভাঙ্গনের মধ্যে ফেলা জিও ব্যগ কোন কাজে আসছে না।

feature-top
feature-top

আরও খবর »

feature-top