ঢাকা , ১৬ ২০১৯ ,

আবরারের হত্যাকারীরা ‘মাতাল’ ছিল : ছাত্রলীগের তদন্ত

| ৯ অক্টোবর, ২০১৯ ১২:৪৯ অপরাহ্ন | আপডেট : ৯ অক্টোবর, ২০১৯ ১২:৪৯ অপরাহ্ন
feature-top

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) মেধাবী ছাত্র আবরার ফাহাদ হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত ছাত্রলীগ নেতারা হত্যাকাণ্ডের সময় ‘মাতাল’ ছিল। এ তথ্য জানিয়েছেন সংগঠনটির কেন্দ্রীয় কমিটির পক্ষ থেকে করা তদন্ত কমিটির সদস্য ছাত্রলীগের সহসভাপতি ইয়াজ আল রিয়াদ।

হত্যাকাণ্ডের পর পরই ছাত্রলীগ কেন্দ্রীয় কমিটির পক্ষ থেকে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। এর দায়িত্বে ছিলেন ছাত্রলীগের সহসভাপতি ইয়াজ আল রিয়াদ ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক আসিফ তালুকদার। তারা নির্দিষ্ট সময়েই প্রতিবেদন দাখিল করেন।

তদন্তে বের হয়েছে, একটি স্ট্যাটাস কেন্দ্র করে আবরারকে তার ১০১১ নম্বর রুম থেকে ২০১১ নম্বর রুমে ডেকে নিয়ে যায় এবং তাকে শারীরিকভাবে নির্যাতন করে অভিযুক্তরা। যার পরিপ্রেক্ষিতে আবরারের মৃত্যুর মতো ঘটনা ঘটে।

এ ঘটনায় আবরারের বাবা ১৯ জনকে আসামি করে একটি মামলা করেন। ঘটনায় জড়িত সন্দেহে বুয়েট শাখা ছাত্রলীগের ১১ জনকে সংগঠন থেকে বহিষ্কার করে কেন্দ্রীয় কমিটি।

হত্যাকাণ্ডের সময় হল প্রশাসনের ‘দায়িত্বহীনতা ও নির্লিপ্ত’ ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়েছে তদন্ত এই প্রতিবেদনে।

ইয়াজ আল রিয়াদ মঙ্গলবার গণমাধ্যমকে বলেন, কমিটি করার পর আমরা তৎক্ষণাৎ সেখানে যাই। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন, সাধারণ শিক্ষার্থী, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, গোয়েন্দা সংস্থার দায়িত্বে যারা আছেন, সবার সঙ্গে কথা বলার চেষ্টা করি। ২৪ ঘণ্টার মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন তৈরি করার নির্দেশ দেয়া হলেও তার আগেই কেন্দ্রীয় নেতাদের কাছে সুপারিশসহ প্রতিবেদন জমা দিই।

তিনি জানান, তদন্তে আরও পেয়েছি, ওই রাতে বার্সেলোনার খেলা ছিল। পূজা থেকে এসে আবরারকে শারীরিক নির্যাতনের পর তারা বার্সেলোনার খেলা দেখতে চলে গিয়েছিলেন। নির্যাতনের একপর্যায়ে অসুস্থ হয়ে আবরার মোবাইলে তার বন্ধু ও সহপাঠীদের সাহায্য চেয়েছিলেন বলেও ছাত্রলীগের তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। এতে আরও বলা হয়, ‘কিন্তু কারও সাড়া পাননি আবরার ফাহাদ।

এ ছাত্রলীগ নেতা বলেন, যদি তার বন্ধুরা এগিয়ে আসত, তা হলে হয়তো এমন একটি অপমৃত্যুর মতো ঘটনা নাও ঘটতে পারত’, বলেন ইয়াজ আল রিয়াদ।

রোববার দিবাগত রাত তিনটার দিকে বুয়েটের শের-ই-বাংলা হলের একতলা থেকে দোতলায় ওঠার সিঁড়ির মাঝ থেকে আবরারের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। জানা যায়, ওই রাতেই হলটির ২০১১ নম্বর কক্ষে আবরারকে পেটান বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের কয়েকজন নেতা। ময়নাতদন্তকারী চিকিৎসক জানিয়েছেন, তার মরদেহে অসংখ্য আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। আবরার বুয়েটের তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক প্রকৌশল বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের (১৭ তম ব্যাচ) শিক্ষার্থী ছিলেন।

জেএইচ

feature-top
feature-top

আরও খবর »

feature-top