ঢাকা , ১৬ ২০১৯ ,

বুয়েট মনে করলে ছাত্র রাজনীতি নিষিদ্ধ করতে পারে : প্রধানমন্ত্রী

বায়ান্ন অনলাইন রিপোর্ট | ৯ অক্টোবর, ২০১৯ ৫:১৩ অপরাহ্ন | আপডেট : ৯ অক্টোবর, ২০১৯ ৫:৩৮ অপরাহ্ন
feature-top

অনেক প্রতিষ্ঠানে ছাত্র রাজনীতি নিষিদ্ধ আছে। বুয়েট মনে করলে তারা ব্যবস্থা নিতে পারে। এখানে আমরা কোনও হস্তক্ষেপ করব না। বললেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। 

বুধবার বিকালে গণভবনে এক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি কথা বলেন। 

শেখ হাসিনা বলেন, আমি ছাত্ররাজনীতি করে এ পর্যন্ত এসেছি। আমি ছাত্ররাজনীতি নিষিদ্ধ কেন করব? তবে কোনও প্রতিষ্ঠান চাইলে ছাত্ররাজনীতি নিষিদ্ধ করতে পারে। কেউ করতে চাইলে সেটি করতে পারে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বুয়েটের কমিটি আছে, তারা যদি মনে করে বন্ধ (ছাত্ররাজনীতি) করে দিতে পারে। এই যে ছেলেটাকে (বুয়েটের ছাত্র আবরার ফাহাদ) হত্যা করল, এটা তো কোনও রাজনীতি না। বসুনিয়াকে (ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ছাত্র রাউফুন বসুনিয়া) যে হত্যা করেছিল সেটা রাজনৈতিকভাবে।

শেখ হাসিনা বলেন, ছাত্র রাজনীতি নিষিদ্ধ সেটি তো মিলিটারি ডিকটেটরদের কথা। আমাদের দেশের অসুবিধা হলো মিলিটারি এসে তাদের লোভী করে গেছে। সেটি আসলে নষ্ট রাজনীতি হয়ে গেছে। সেখান থেকে আমরা ফিরিয়ে আনছি ধীরে ধীরে।

ছাত্রলীগের রাজনীতি প্রসঙ্গে শেখ হাসিনা বলেন, ছাত্রলীগ সব সময় একটা আলাদা স্বাধীন সংগঠন ছিল। কমিউনিস্ট পার্টি ছাড়া। কারণ তাদের ছাত্র সংগঠন মূল দলে সম্পৃক্ত। তবে হ্যাঁ, মূল দল ছাত্রলীগকে নির্দেশনা দেয়। ছাত্রদের নষ্ট পলিটিক্স জিয়াউর রহমান চালু করেছিলেন। আমাদের গঠনতন্ত্র দেখলে দেখবেন ছাত্রলীগ আমাদের অঙ্গ সংগঠন না। এই যে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড ঘটেছে। অনেক প্রতিষ্ঠানে সংগঠন করা নিষেধ। বুয়েট যদি মনে করে তারা করতে পারে।

শেখ হাসিনা বলেন, হিসাব করে দেখুন একটা ছাত্রের পেছনে সরকার কত টাকা খরচ করে? স্বাধীনতা ভালো, কিন্তু সেই স্বাধীনতা বালকের জন্য নয়। যে স্বাধীনতার মর্যাদা দিতে পারবে তার জন্য স্বাধীনতা ভালো। 

তিনি আরো বলেন, দেখা গেছে একটা রুম নিয়ে মাস্তানি করছে। দশ/বিশ/ত্রিশ টাকা ভাড়া দিয়ে রুম দখল করে মাস্তানি করছে। জনগণের ট্যাক্সের টাকা খরচ হচ্ছে তাদের পেছনে। এটি আমি মানব না। সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সার্চ করার নির্দেশনা আমি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে দেব। আপনারা তাদের বের করে দিন। কোন দলটল আমি বুঝি না।

সাম্প্রতিক ভারত ও যুক্তরাষ্ট্র সফর নিয়ে সংবাদ সম্মেলনটি অনুষ্ঠিত হয়। আজ বুধবার বেলা সাড়ে ৩টায় সংবাদ সম্মেলন শুরু হয়। পরে ৫টায় শেষ হয়। সংবাদ সম্মেলনে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সাংবাদিক ছাড়াও আওয়ামী লীগের সিনিয়র নেতারা উপস্থিত ছিলেন। 

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৭৪তম অধিবেশনে যোগ দিতে গত ২২ থেকে ২৯ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত নিউইয়র্ক সফর করেন প্রধানমন্ত্রী। সেখানে তিনি জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশগ্রহণের পাশাপাশি বেশ কয়েক দেশের রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধান এবং বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রধানের সঙ্গে বৈঠক করেন।

অন্যদিকে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির আমন্ত্রণে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক এবং বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের ‘ইন্ডিয়া ইকোনমিক সামিটে’ অংশ নিতে ৩ থেকে ৬ অক্টোবর নয়াদিল্লী সফর করেন। এসময় দুই দেশের মধ্যে সাতটি চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয় এবং তিনটি যৌথ প্রকল্পের উদ্বোধন করা হয়।

মিথুন 

feature-top
feature-top

আরও খবর »

feature-top