শাহবাগে জড়ো হচ্ছেন ইনকিলাব মঞ্চের নেতাকর্মীরা
ইনকিলাব মঞ্চের ঘোষিত ‘মার্চ ফর ইনসাফ’ কর্মসূচি সফল করার লক্ষ্যে রাজধানীর শাহবাগে জড়ো হতে শুরু করেছেন সংগঠনটির নেতাকর্মীরা। রোববার (০৪ জানুয়ারি) দুপুর ১২টার দিকে শাহবাগ এলাকায় অবস্থান নেন নেতাকর্মীরা। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সেখানে উপস্থিত মানুষের সংখ্যা দ্রুত বাড়তে থাকে।
বর্তমানে তারা শাহবাগ মোড়ের একপাশে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ চালাচ্ছেন। এ সময় বিক্ষোভকারীরা ‘আমার ভাই কবরে-খুনি কেন বাহিরে’, ‘ইনকিলাব ইনকিলাব-জিন্দাবাদ জিন্দাবাদ’, ‘উই ওয়ান্ট জাস্টিস’, ‘দিল্লি না ঢাকা-ঢাকা ঢাকা’, ‘গোলামী না আজাদী-আজাদী’, ‘আমরা সবাই হাদী হবো-যুগে যুগে লড়ে যাবো’, ‘লাল সবুজের পতাকায়-হাদি তোমায় দেখা যায়’সহ বিভিন্ন স্লোগান দেন।
উল্লেখ্য, শনিবার (০৩ ডিসেম্বর) শহীদ শরীফ ওসমান হাদি হত্যার বিচার দাবিতে ‘মার্চ ফর ইনসাফ’ কর্মসূচি শুরু করেছে ইনকিলাব মঞ্চ। সংগঠনটির নেতারা জানিয়েছেন, আগামী কয়েকদিন এ কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে। ইনকিলাব মঞ্চের নেতাকর্মীরা একটি ট্রাকে চড়ে রাজধানীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করেন। ফার্মগেট থেকে শুরু হওয়া মার্চটি শাহবাগে গিয়ে শেষ হয়।
এ সময় সংগঠনের প্রকাশনা বিষয়ক সম্পাদক ফাহিম রহমান বলেন, আগামী ৭ জানুয়ারি হাদি হত্যাকাণ্ডের চার্জশিট দাখিলের আগ পর্যন্ত “মার্চ ফর ইনসাফ” কর্মসূচি চলবে। এ সময়ের মধ্যে চার দফা দাবি নিয়ে কয়েকটি রাজনৈতিক দলের সঙ্গে আলোচনা করবে ইনকিলাব মঞ্চ। এসব আলোচনা থেকেই পরবর্তী সময়ে বৃহত্তর আন্দোলনের ঘোষণা আসতে পারে।
প্রসঙ্গত, গত ১২ ডিসেম্বর দুপুরে ঢাকার পুরানা পল্টনের বক্স কালভার্ট রোডে দুর্বৃত্তরা শরীফ ওসমান হাদিকে মাথায় গুলি করে। তিনি ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক এবং ঢাকা–৮ আসনের সম্ভাব্য স্বতন্ত্র প্রার্থী ছিলেন।
গুলিবিদ্ধ অবস্থায় তাকে প্রথমে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এবং পরে এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়। অবস্থার অবনতি হলে ১৫ ডিসেম্বর তাকে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে উন্নত চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুরে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত বৃহস্পতিবার তিনি মারা যান। শুক্রবার সন্ধ্যায় তার মরদেহ দেশে আনা হয়। শনিবার, ২০ ডিসেম্বর বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের কবরের পাশে ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরীফ ওসমান বিন হাদিকে সমাহিত করা হয়।
এসি//