রাজনীতি

তিন অভিযোগে নির্বাচন ভবন ঘেরাও করেছে ছাত্রদল

পোস্টাল ব্যালটসহ তিনটি ইস্যুতে নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে পক্ষপাতের অভিযোগ তুলে নির্বাচন ভবন ঘেরাও কর্মসূচি পালন করছে ছাত্রদল। রোববার (১৮ জানুয়ারি) সকাল থেকেই পূর্বঘোষিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন কমিশন ভবনের সামনে জড়ো হন।

ছাত্রদলের অভিযোগ, নির্বাচন কমিশন জোরপূর্বক সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করে এবং বিশেষ ব্যবস্থার মাধ্যমে একটি নির্দিষ্ট ছাত্র সংগঠনকে সুবিধা দিচ্ছে। এতে ভবিষ্যৎ জাতীয় নির্বাচনেও বড় ধরনের কারচুপির পরিকল্পনা করা হচ্ছে বলে তারা দাবি করেন।

কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে ছাত্রদল সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব বলেন, বর্তমান নির্বাচন কমিশন একটি বিশেষ রাজনৈতিক গোষ্ঠীর নির্দেশে কাজ করছে। তিনি অভিযোগ করেন, শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় ও জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সাম্প্রতিক ছাত্র সংসদ নির্বাচনে একটি নির্দিষ্ট সংগঠনকে সুবিধা দিতে তারিখ পরিবর্তন ও নির্বাচন স্থগিত করা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, একটি বিশেষ গোষ্ঠীর প্রতিনিধিরা নিয়মিতভাবে নির্বাচন কমিশনে যাতায়াত করছে, যদিও সেখানে তাদের কোনো আনুষ্ঠানিক কাজ নেই। এর মাধ্যমে তারা কমিশনের ওপর প্রভাব বিস্তার করছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

ছাত্রদলের সভাপতি দাবি করেন, কিছু রাজনৈতিক গোষ্ঠী নিজেদের নিয়ন্ত্রণাধীন প্রশাসন ও ব্যবস্থাপনা ছাড়া নির্বাচন করতে ভয় পায়। শাবিপ্রবিতে পাঁচদিন নির্বাচন বন্ধ রেখে পুনরায় চালু করাকে এর প্রমাণ হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি।

ছাত্রদল যে তিনটি অভিযোগে এই কর্মসূচি পালন করছে, সেগুলো হলো—

১. পোস্টাল ব্যালট-সংক্রান্ত বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের পক্ষপাতদুষ্ট ও প্রশ্নবিদ্ধ সিদ্ধান্ত, যা নির্বাচন প্রক্রিয়ার নিরপেক্ষতা নিয়ে গুরুতর সংশয় সৃষ্টি করেছে।

২. বিশেষ একটি রাজনৈতিক গোষ্ঠীর চাপের মুখে দায়িত্বশীল ও যৌক্তিক সিদ্ধান্তের পরিবর্তে হঠকারী ও অদূরদর্শী সিদ্ধান্ত গ্রহণ, যা কমিশনের স্বাধীনতা ও পেশাদারিকে প্রশ্নবিদ্ধ করে।

৩. বিশেষ রাজনৈতিক দলের প্রত্যক্ষ প্রভাব ও হস্তক্ষেপে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদ নির্বাচন বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের নজিরবিহীন ও বিতর্কিত প্রজ্ঞাপন জারি, যা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণতান্ত্রিক চর্চার জন্য অশনিসংকেত।

 

এমএ//

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন