অপরাধ

সাভারে সাত মাসে ৬ খুন, রহস্য উন্মোচন করলো পুলিশ

সাভারে ৬ হত্যাকাণ্ডের রহস্য উন্মোচন করেছে পুলিশ। এ হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে মশিউর রহমান খান সম্রাট (৩৫) নামে এক ভবঘুরে যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তাকে ১০ দিনের রিমান্ড চেয়ে আদালতে পাঠানো হয়েছে।

সোমবার (১৯ জানুয়ারি) দুপুর ১২টার দিকে ঢাকা জেলা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম, অপস অ্যান্ড ট্রাফিক) আরাফাতুল ইসলাম এ তথ্য জানিয়েছেন। গতকাল ১৮ জানুয়ারি দুপুরে সাভার পৌর এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।

আরাফাতুল ইসলাম বলেন, সম্রাট পাগলের মতো আচরণ করলেও তিনি পাগল নন। মানসিক বিকারগ্রস্ত এই সম্রাট একে একে ছয়টি খুন করেছেন। তাঁর পূর্ণ পরিচয় পাওয়া যায়নি। প্রত্যেককেই শ্বাস রোধ করে হত্যার পর তিনজনের লাশ আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেন। তাঁদের মধ্যে মাত্র একজনের পরিচয় পাওয়া গেছে।

তিনি বলেন, প্রাথমিক তদন্তের তথ্য অনুযায়ী, সম্রাট প্রথম খুন করেন ২০২৫ সালের ৪ জুলাই। ওই দিন রাতে সাভার মডেল মসজিদের সামনে আসমা বেগম নামে এক বৃদ্ধাকে শ্বাস রোধ করে হত্যা করেন। পরবর্তীতে ওই কমিউনিটি সেন্টারে সবগুলো হত্যাকাণ্ড সে করে বলে পুলিশের কাছে স্বিকার করেছে। সর্বশেষ গত শনিবার রাতে এক কিশোরীসহ দুজনকে হত্যার পর মরদেহ পুড়িয়ে দেন।

সাভার থানার ওসি (অপারেশন) হেলাল উদ্দিন বলেন, ‘কমিউনিটি সেন্টারের ভেতরে যাদের হত্যা করা হয়েছে, তাদের প্রায় সবাই ভবঘুরে বলে ধারণা করা হচ্ছে। গতকাল রোববার আরও এক ভবঘুরে নারীকে কমিউনিটি সেন্টারে দেখা যায়। সম্রাট তাঁকেও ওই রাতে হত্যার পরিকল্পনা করেছিলেন বলে জিজ্ঞাসাবাদে জানিয়েছেন।

হেলাল উদ্দিন আরও বলেন, ‘সম্রাট দেড় বছরের বেশি সময় ধরে থানার আশপাশে ঘোরাফেরা করতেন। একেক দিন একেক রকম পোশাক পরতেন। তিনি কিছুটা অগোছালো কথাবার্তা বলতেন, এ কারণে সবাই তাঁকে পাগল মনে করতেন। আসলে তিনি পাগল নন।

পুলিশ জানায়, রিমান্ড মঞ্জুর হলে থানায় এনে সম্রাটকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। ছয়টি হত্যাকাণ্ডের পাশাপাশি আরও কোনো হত্যার সঙ্গে তিনি জড়িত কিনা তা খতিয়ে দেখা হবে।

 

আই/এ

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন