ক্যাম্পাস

‘ধর্ম অবমাননার’ অভিযোগে দুই শিক্ষককে বহিষ্কার, অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ বিশ্ববিদ্যালয়

‘ধর্ম অবমাননার’ অভিযোগকে কেন্দ্র করে শিক্ষার্থীদের টানা বিক্ষোভের পর ইউনিভার্সিটি অব এশিয়া প্যাসিফিক (ইউএপি) কর্তৃপক্ষ দুই শিক্ষককে বহিষ্কার করেছে। এর একদিনের মধ্যেই বিশ্ববিদ্যালয়টি অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।

সোমবার (১৯ জানুয়ারি) বিকেল ৩টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এক জরুরি বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এবং শিক্ষার্থীদের ই-মেইলে এই সিদ্ধান্ত জানায়। এর আগে রোববার সন্ধ্যায় রেজিস্ট্রারের স্বাক্ষরিত পৃথক বিজ্ঞপ্তিতে বহিষ্কারের ঘোষণা দেওয়া হয়। বহিষ্কৃতরা হলেন ব্যাসিক সায়েন্স অ্যান্ড হিউম্যানিটিজ বিভাগের সহকারী অধ্যাপক লায়েকা বশীর এবং সহযোগী অধ্যাপক ড. এ এস এম মহসিন।

বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সংশ্লিষ্ট শিক্ষকদের বিরুদ্ধে অভিযোগ নতুন নয়। তবে বহিষ্কৃত দুই শিক্ষক দাবি করেছেন, তাদের আত্মপক্ষ সমর্থনের কোনো সুযোগ দেওয়া হয়নি এবং পুরো প্রক্রিয়াটি ছিল নিপীড়নমূলক।

বিতর্কের সূত্রপাত হয় গেল ১০ ডিসেম্বর লায়েকা বশীরের একটি ফেসবুক পোস্টকে ঘিরে, যেখানে তিনি মুখ ঢেকে পর্দা করার সংস্কৃতির সমালোচনা করেন। পোস্টটি ছড়িয়ে পড়ার পর একাংশ শিক্ষার্থী ও প্রাক্তন শিক্ষার্থী সেটিকে ধর্ম অবমাননাকর বলে দাবি করে বিক্ষোভ শুরু করে। ওই সময় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাকে হুমকি ও কটূক্তির মুখেও পড়তে হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।

নতুন সেমিস্টারের প্রথম দিনে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। শিক্ষার্থী ও প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের একটি দল ক্যাম্পাসে অবস্থান কর্মসূচি, বিক্ষোভ ও সংবাদ সম্মেলন আয়োজন করে। এর পরপরই বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন দুই শিক্ষককে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেয়।

বিক্ষোভকারীদের একাংশ দাবি করেছে, সংশ্লিষ্ট শিক্ষকরা ইসলামবিদ্বেষী বক্তব্য দিয়েছেন এবং রাজনৈতিক পক্ষপাতের অভিযোগও রয়েছে। তবে অন্য একটি অংশের শিক্ষার্থীদের মতে, এটি ছিল পরিকল্পিতভাবে একজন শিক্ষককে লক্ষ্য করে মব চাপ তৈরি করার ঘটনা।

বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, একটি তদন্ত কমিটি বিষয়টি খতিয়ে দেখছিল, কিন্তু পরিস্থিতির সংবেদনশীলতার কারণে চূড়ান্ত প্রতিবেদন আসার আগেই সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে। এই পদক্ষেপকে শিক্ষক সমাজের একটি অংশ ‘স্বেচ্ছাচারী’ এবং শিক্ষাঙ্গনের জন্য ‘বিপজ্জনক নজির’ বলে অভিহিত করেছে।

এ ঘটনার প্রতিবাদ জানিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক নেটওয়ার্ক বহিষ্কারাদেশ ও প্রশাসনের ভূমিকার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে।

 

এমএ//

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন