মারা গেছেন কিংবদন্তি চিত্রনায়ক জাভেদ
বাংলাদেশ চলচ্চিত্রের কিংবদন্তি অভিনেতা ও বিশিষ্ট নৃত্য পরিচালক ইলিয়াস জাভেদ আজ বুধবার (২১ জানুয়ারি) চিরবিদায় নিয়েছেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।
মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৮২ বছর। গণমাধ্যমকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির কার্যনির্বাহী সদস্য সনি রহমান।
সনি রহমান জানান, “ইলিয়াস জাভেদ ভাই দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ ছিলেন। আজ হঠাৎ তার অবস্থা খারাপ হলে হাসপাতালে নেওয়া হয়। শেষ রক্ষা হয়নি। সবাই তার আত্মার শান্তির জন্য দোয়া করবেন।”
জানা গেছে, বেশ কয়েক বছর ধরেই শারীরিক অসুস্থতার কারণে ঘরবন্দি ছিলেন ইলিয়াস জাভেদ। দীর্ঘদিন ধরে তিনি ক্যানসারের সঙ্গে লড়াই করছিলেন। এর আগে তিনি ব্রেইন স্ট্রোকের শিকার হয়েছেন। ২০২০ সালের ৪ এপ্রিল মূত্রনালির জটিলতায় অস্ত্রোপচার করা হয়। গত বছরের এপ্রিলে গুরুতর অসুস্থ হয়ে উত্তরার একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন। পরে কিছুটা সুস্থ হলে বাসায় ফিরেন, তবে পরবর্তীতে আর পূর্ণ সুস্থতা ফিরে আসেনি।
ষাটের দশকে নৃত্যপরিচালক হিসেবে চলচ্চিত্র জগতে পা রাখলেও পরবর্তীতে অভিনেতা হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেন জাভেদ। সত্তর ও আশির দশকে তিনি পোশাকি সিনেমার নায়ক হিসেবে নির্মাতাদের চাহিদার শীর্ষে ছিলেন।
তার অভিনীত উল্লেখযোগ্য সিনেমার মধ্যে রয়েছে—মালকা বানু, অনেক দিন আগে, শাহাজাদা, রাজকুমারী চন্দ্রবান, সুলতানা ডাকু, আজো ভুলিনি, কাজল রেখা, সাহেব বিবি গোলাম, নিশান, বিজয়িনী সোনাভান, রূপের রাণী, চোরের রাজা, জালিম, চন্দন দ্বীপের রাজকন্যা, বাহারাম বাদশা। সর্বশেষ তিনি অভিনয় করেছিলেন ‘মা বাবা সন্তান’ চলচ্চিত্রে। শারীরিক অসুস্থতার কারণে এরপর আর রুপালি পর্দায় ফিরে আসা সম্ভব হয়নি।
বাংলাদেশ চলচ্চিত্রের সোনালী যুগের জনপ্রিয় এই অভিনেতা তার উজ্জ্বল ক্যারিয়ার, তুমুল জনপ্রিয়তা এবং নৃত্য দক্ষতার জন্য চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবেন। দীর্ঘদিনের অসুস্থতা এবং নানা জটিলতার মধ্যেও তার চলচ্চিত্রের অবদান আজও স্মরণীয়।
এসি//