নজরদারিতে ইরান, মধ্যপ্রাচ্যে যাচ্ছে মার্কিন রণতরী: ট্রাম্প
ইরানকে নজরে রেখে যুক্তরাষ্ট্র একটি বড় নৌবহর মধ্যপ্রাচ্যের দিকে পাঠিয়েছে বলে জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। একটি এয়ারক্রাফট ক্যারিয়ার স্ট্রাইক গ্রুপসহ একাধিক যুদ্ধজাহাজ কয়েক দিনের মধ্যেই উপসাগরীয় অঞ্চলে পৌঁছাবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরার প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।
স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার সুইজারল্যান্ডের দাভোসে বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরাম শেষে ফেরার পথে এয়ার ফোর্স ওয়ানে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন ট্রাম্প। তিনি বলেন, ‘আমরা ইরানকে খুব সতর্কভাবে নজরে রাখছি। ইরানের দিকে একটি বড় বাহিনী পাঠানো হয়েছে।’
ট্রাম্প বলেন, তিনি চান না পরিস্থিতি আরও খারাপ হোক, তবে প্রয়োজন হলে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্যই এই মোতায়েন। তিনি বলেন, ‘হয়তো ব্যবহার করতে হবে না, কিন্তু অনেক জাহাজ ওই দিকে যাচ্ছে। এক বিশাল ফ্লোটিলা পাঠানো হয়েছে। দেখা যাক কী হয়।’
মার্কিন প্রেসিডেন্টের এই ঘোষণার আগে দেশটির গণমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয় যে ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন এয়ারক্রাফট ক্যারিয়ার ও এর সঙ্গে থাকা যুদ্ধজাহাজগুলো দক্ষিণ চীন সাগর থেকে ঘুরিয়ে মধ্যপ্রাচ্যে পাঠানো হয়েছে।
এক সপ্তাহ আগে ট্রাম্প কিছুটা নরম সুরে বলেছিলেন, ইরান আশ্বাস দিয়েছে যে বিক্ষোভকারীদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হবে না। সে প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, তার আগের হুমকির কারণেই ইরানি কর্তৃপক্ষ ৮০০ জনের বেশি বিক্ষোভকারীর মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করেনি।
তবে একই সঙ্গে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে কড়া অবস্থানও পুনর্ব্যক্ত করেন ট্রাম্প। তিনি মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনবিসিকে বলেন, ‘ইরান পারমাণবিক কিছু করতে পারবে না। যদি করে, তাহলে আবার আগের মতোই হবে।’
এদিকে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি যুক্তরাষ্ট্রকে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, আবার হামলা হলে তেহরান সর্বশক্তি দিয়ে জবাব দেবে। মঙ্গলবার ওয়াল স্ট্রিট জার্নালে প্রকাশিত এক নিবন্ধে তিনি বলেন, ‘এটি হুমকি নয়, বাস্তবতা। আমাদের ওপর আঘাত এলে আমরা পূর্ণ শক্তিতে পাল্টা আঘাত করব।’
আরাঘচির দাবি, এমন সংঘর্ষ হলে তা শুধু ইরানেই সীমাবদ্ধ থাকবে না, বরং গোটা অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়বে এবং বিশ্বজুড়ে এর প্রভাব পড়বে।
উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের জুনে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যৌথ ১২ দিনের যুদ্ধে ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় বিমান হামলা চালানো হয়। সেই অভিযানের আগেও মধ্যপ্রাচ্যে বড় পরিসরে মার্কিন সামরিক মোতায়েন করা হয়েছিল।
এমএ//