আন্তর্জাতিক

মধ্যপ্রাচ্যে পৌঁছেছে মার্কিন রণতরী, হামলা হলে ‘কঠোর জবাবের’ হুঁশিয়ারি ইরানের

মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের বিমানবাহী রণতরী ও একাধিক সহায়ক যুদ্ধজাহাজ পৌঁছেছে। এতে অঞ্চলটিতে মার্কিন সামরিক উপস্থিতি আরও জোরদার হয়েছে। এদিকে সম্ভাব্য হামলার আশঙ্কায় ইরান কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছে। তেহরান স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র কোনো ধরনের সামরিক অভিযান চালালে তার জবাব হবে ভয়াবহ ও কঠোর।

মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরার প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।

প্রতিবেদনে বলা হয়, সোমবার ইরানের শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তারা ঘোষণা দিয়েছেন— ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আরেকটি যুদ্ধের জন্য তারা পুরোপুরি প্রস্তুত। গত বছরের ১২ দিনের সংঘাতের মতো পরিস্থিতি তৈরি হলে ইরান শক্ত প্রতিক্রিয়া দেখাবে বলে তারা সতর্ক করেছেন। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও জানিয়েছে, যেকোনো হামলার জবাবে দেওয়া হবে “পূর্ণাঙ্গ ও অনুতাপ সৃষ্টিকারী প্রতিক্রিয়া”।

রোববার তেহরানের কেন্দ্রীয় এঙ্গেলাব (বিপ্লব) স্কয়ারে একটি বিশাল বিলবোর্ড স্থাপন করে ইরানি কর্তৃপক্ষ। সেখানে মার্কিন বিমানবাহী রণতরী ইউএসএস আব্রাহাম লিংকনের একটি কল্পিত বিধ্বস্ত দৃশ্য দেখানো হয়, যেখানে যুদ্ধবিমান ধ্বংস হয়ে রণতরীর ডেকে পড়ে আছে এবং সমুদ্রে রক্তে আঁকা যুক্তরাষ্ট্রের পতাকার মতো ছবি ফুটে উঠেছে। বিলবোর্ডে ফারসি ও ইংরেজিতে লেখা ছিল—“তুমি যদি বাতাস বপন করো, তাহলে ঝড়ই ঘরে তুলবে।”

ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র এসমাইল বাঘাই এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, “এই ধরনের নিরাপত্তাহীনতা সবার জন্যই বিপজ্জনক হবে।” 

এদিকে ইউরোপীয় সংসদে ভোটের পর ইউরোপীয় ইউনিয়ন ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) কে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে তালিকাভুক্ত করার বিষয়টি বিবেচনা করছে। এ প্রসঙ্গে বাঘাই বলেন, “ইউরোপের বিচক্ষণ দেশগুলোর উচিত হবে বাইরের শক্তির প্ররোচনায় পা না দেওয়া।”

ইরানের ঘনিষ্ঠ ‘প্রতিরোধ অক্ষ’ জোটের অন্যান্য মিত্ররাও এবার সরব হয়েছে। যারা গত জুনের যুদ্ধে সরাসরি অংশ নেয়নি, তারাও ইঙ্গিত দিয়েছে—নতুন সংঘর্ষ শুরু হলে তারা যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের স্বার্থে আঘাত হানতে পারে।

ইরাকভিত্তিক ইরান-সমর্থিত কাতাইব হিজবুল্লাহর প্রধান আবু হুসেইন আল-হামিদাওয়ি এক বিবৃতিতে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র হামলা চালালে তা “পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধ”-এ রূপ নেবে। লেবাননের হিজবুল্লাহ নেতা নাইম কাসেমও এক ভাষণে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতোল্লাহ আলি খামেনির প্রশংসা করেন।

এদিকে ইয়েমেনের হুতি গোষ্ঠীও একটি ভিডিও প্রকাশ করেছে, যেখানে মার্কিন যুদ্ধজাহাজ ও অতীতে আক্রমণের শিকার বাণিজ্যিক জাহাজের দৃশ্য দেখানো হয়। এর মাধ্যমে তারা ইঙ্গিত দিয়েছে—গাজায় যুদ্ধবিরতি হলেও লোহিত সাগরে আবার হামলা শুরু হতে পারে।

 

এমএ//

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন