আন্তর্জাতিক

এপস্টেইন ঝড়ে যুক্তরাজ্যের সাবেক মন্ত্রীর পদত্যাগ!

প্রয়াত মার্কিন ব্যবসায়ী ও কুখ্যাত যৌন নিপীড়ক জেফরি এপস্টেইনের সঙ্গে সম্পর্ক নিয়ে নতুন তথ্য সামনে আসার পর লেবার পার্টি থেকে সরে দাঁড়ালেন সাবেক ব্রিটিশ মন্ত্রী পিটার ম্যান্ডেলসন। রোববার (০১ ফেব্রুয়ারি) তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের লেবার পার্টির সদস্যপদ ছাড়ার ঘোষণা দেন।

বিবিসি ও ব্রিটিশ গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়, পদত্যাগের সিদ্ধান্তের পেছনে মূল কারণ হিসেবে ম্যান্ডেলসন উল্লেখ করেছেন—দলকে আর বিব্রতকর পরিস্থিতিতে ফেলতে না চাওয়ার বিষয়টি। লেবার পার্টির কাছে পাঠানো এক চিঠিতে তিনি বলেন, ‘এই সপ্তাহান্তে জেফরি এপস্টেইনকে ঘিরে যে স্বাভাবিক ক্ষোভ তৈরি হয়েছে, তার সঙ্গে আবারও আমার নাম জড়িয়ে পড়েছে। এতে আমি গভীরভাবে দুঃখিত ও অনুতপ্ত।’

চিঠিতে তিনি আরও দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ প্রকাশিত নথির ভিত্তিতে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যমে যে অভিযোগ উঠেছে—এপস্টেইনের কাছ থেকে তিনি আর্থিক সুবিধা নিয়েছিলেন—তা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। বিষয়টি তিনি নিজে তদন্ত করে দেখবেন বলেও জানিয়েছেন। পাশাপাশি তিনি লেখেন, এই প্রক্রিয়া চলাকালে লেবার পার্টির ওপর কোনো বাড়তি চাপ বা অস্বস্তি সৃষ্টি করতে চান না বলেই সদস্যপদ থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

উল্লেখ্য, এপস্টেইনের সঙ্গে সম্পর্কের অভিযোগ ওঠার পর গত বছরই প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার ম্যান্ডেলসনকে যুক্তরাষ্ট্রে ব্রিটেনের রাষ্ট্রদূত পদ থেকে সরিয়ে দেন। এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের আইনপ্রণেতাদের প্রকাশিত নথিতে এপস্টেইনকে লেখা একটি চিঠিতে ম্যান্ডেলসনের নাম উঠে আসে, যেখানে তিনি এপস্টেইনকে ‘আমার সবচেয়ে ঘনিষ্ঠ বন্ধু’ বলে উল্লেখ করেছিলেন। ওই নথি প্রকাশের পর থেকেই তাকে ঘিরে নতুন করে বিতর্ক দানা বাঁধে এবং শেষ পর্যন্ত ওয়াশিংটনে তার কূটনৈতিক দায়িত্বের অবসান ঘটে।

১৯৯০-এর দশকে টনি ব্লেয়ারের প্রধানমন্ত্রীত্বকালে লেবার পার্টির নির্বাচনী সাফল্যে পিটার ম্যান্ডেলসনের ভূমিকা ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তবে তার রাজনৈতিক জীবন বারবার বিতর্কে জড়িয়েছে। ১৯৯৮ সালে এক সহকর্মী মন্ত্রীর কাছ থেকে গৃহঋণ নেওয়ার ঘটনায় স্বার্থের সংঘাতের অভিযোগে তাকে বাণিজ্যমন্ত্রীর পদ ছাড়তে হয়। পরে ২০০১ সালে পাসপোর্ট কেলেঙ্কারিতে এক ভারতীয় ধনকুবেরকে ঘিরে ওঠা অভিযোগের জেরে তিনি আবারও মন্ত্রিসভা থেকে পদত্যাগ করেন, যদিও পরবর্তীতে তিনি দায়মুক্তি পান।

ইউরোপীয় ইউনিয়নের সাবেক বাণিজ্য কমিশনার ম্যান্ডেলসন বর্তমানে ব্রিটিশ পার্লামেন্টের উচ্চকক্ষ হাউস অব লর্ডসের সদস্য, যদিও আপাতত তিনি ছুটিতে রয়েছেন।

এদিকে এপস্টেইন ইস্যুতে পৃথক এক মন্তব্যে শনিবার প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার বলেন, নতুন তথ্য প্রকাশের পর ব্রিটেনের সাবেক যুবরাজ প্রিন্স অ্যান্ড্রুর উচিত যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেস কমিটির সামনে হাজির হয়ে এ বিষয়ে সাক্ষ্য দেয়া। এই মন্তব্যে ইঙ্গিত মিলছে, এপস্টেইন কাণ্ড ঘিরে ব্রিটিশ রাজনীতি ও রাজপরিবার—দু’ক্ষেত্রেই চাপ আরও বাড়তে পারে।

সূত্র : রয়টার্স

 

এসি//

 

 

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন