১৭বছর পর জুতা পরলেন বিএনপি নেতা
নেত্রকোনার সীমান্তঘেঁষা কলমাকান্দার লেংগুরা ইউনিয়নের ইয়ারপুর গ্রামে সুরুজ পাঠানের বাড়ি। তিনি ওই ইউনিয়নের ৯নম্বর ওয়ার্ড বর্তমান বিএনপির সভাপতি। এলাকার সবার কাছে তিনি বিএনপির একজন নিবেদিত কর্মী হিসেবে পরিচিত। ২০০৮ সালে ভোট কেন্দ্রে অপদস্থ হন। তখন তার পা থেকে জুতা খুলে পরে যায়। সুরুজ পাঠান তখন প্রতিজ্ঞা করেন, বিএনপি ক্ষমতায় না আসা পর্যন্ত জুতা পা দিবেন না। সেই থেকে তিনি জুতা ব্যবহার করেন না। এরমধ্যে শীত ও বর্ষা ১৭টি অতিবাহিত করেছেন সুরুজ পাঠান।
বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সাইদুর রহমান ভূঁইয়া স্থানীয় নেতাকর্মীদের নিয়ে সুরুজ পাঠানকে নতুন জুতা পরিয়ে দেন। করতালি ও স্লোগানে মুখরিত হয়ে ওঠে উঠোন। তবে সুরুজ পাঠান আশীর্বাদ স্বরূপ এই জুতা জোড়া দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমানের কাছ থেকে পরার আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
স্থানীয়রা জানাল, দেড় দশকের বেশি সময় ধরে রোদে পুড়ে, বৃষ্টিতে ভিজে, কাঁদা মাড়িয়ে খালি পায়ে চলেছেন তিনি। রাজনৈতিক কর্মসূচি, মিছিল-মিটিং, গ্রাম থেকে গ্রামে সংগঠনের কাজে সবখানেই ছিলেন সক্রিয়। সংসারের টানাপোড়েন ছিল নিত্যসঙ্গী। দিনমজুরির করে তার আয়ে পরিবার চলতো। পরিবার ও প্রতিবেশীরা বহুবার অনুরোধ করেছেন সিদ্ধান্ত বদলাতে, কিন্তু শপথ থেকে একচুলও সরেননি তিনি।
জুতা পায়ে সুরুজ পাঠান বলেন, ২০০৮ সালে আমাকে অপমান করে কেন্দ্র থেকে বের করে দেওয়া হয়েছিল। তখন পায়ের জুতা খুলে যায়। সেইদিন প্রতিজ্ঞা করি দল না জেতা পর্যন্ত আর জুতা পরব না। বিএনপি জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয়ে সরকার গঠন করেছে। এখন মনে হচ্ছে শুধু পায়ে জুতা নয় মাথাও উঁচু হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, মানুষের কাছে ভোট চেয়েছি ব্যারিস্টার কায়সার কামালের জন্য। তিনি নির্বাচিত হলে মন্ত্রী হবেন। মাননীয় চেয়ারম্যান তারেক রহমান তাকে মন্ত্রীও করেছেন। আমার এই ত্যাগ সার্থক হতো আশীর্বাদ হিসেবে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমান এর হাত থেকে যদি এই জুতা জোড়া নিতে পারতাম।
উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সাইদুর রহমান ভূঁইয়া বলেন, সুরুজ পাঠান দীর্ঘ ১৭বছর ধরে জুতা ব্যবহার করেননি। ঢাকাসহ বিভিন্ন কর্মসূচীতে জুতা ছাড়াই যেতেন। তার এই ত্যাগ এলাকার মানুষের কাছে স্মরণীয় হয়ে থাকবে। সুরুজ পাঠানের বিএনপির প্রতি ত্যাগ ও একনিষ্ঠার অনন্য উদাহরণ। আমরা এমন একজন কর্মীকে নিয়ে গর্বিত।
আই/এ