আন্তর্জাতিক

যেভাবে খামেনির অবস্থান শনাক্ত করে হামলা চালায় ইসরাইল

ইরানে বড় ধরনের হামলার আগে গুরুত্বপূর্ণ গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ করে মার্কিন কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা (সিআইএ)। তাদের নজরদারির কেন্দ্রে ছিলেন ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি।

অভিযানের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর দাবি, কয়েক মাস ধরে খামেনির অবস্থান, চলাচল এবং বৈঠকের সময়সূচি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছিল। শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) সকালে তেহরানের একটি সরকারি কম্পাউন্ডে শীর্ষ পর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে—এমন তথ্য পাওয়ার পর হামলার সময়সূচিতে পরিবর্তন আনা হয়। ওই বৈঠকে খামেনি উপস্থিত থাকবেন—এই তথ্যই অভিযানের মূল ভিত্তি হয়ে ওঠে।

গেল বছরের জুনে ১২ দিনের সংঘাতের পর থেকেই ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্র খামেনিকে ঘিরে গোয়েন্দা তৎপরতা বাড়ায়। সর্বশেষ হামলায় সেই নজরদারির ফল মিলেছে বলে মনে করা হচ্ছে। একই সঙ্গে এটি ইরানের নিরাপত্তা ব্যবস্থার দুর্বলতাও সামনে এনেছে।

গোয়েন্দা সূত্রের তথ্যানুযায়ী, অত্যন্ত নির্ভুল অবস্থানসংক্রান্ত তথ্যের ভিত্তিতে ইসরাইল ‘রোরিং লায়ন’ নামের অভিযান চালায়। প্রথমে রাতের বেলায় হামলার পরিকল্পনা থাকলেও, সরকারি কম্পাউন্ডে বৈঠকের খবর নিশ্চিত হওয়ার পর সকালেই আঘাত হানার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। ওই কম্পাউন্ডে ইরানের প্রেসিডেন্সি দপ্তর, সর্বোচ্চ নেতার কার্যালয় এবং জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের অফিস অবস্থিত।

হামলার সময় সেখানে উপস্থিত ছিলেন বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর প্রধান কমান্ডার মোহাম্মদ পাকপুর, প্রতিরক্ষামন্ত্রী আজিজ নাসিরজাদেহ, সামরিক পরিষদের প্রধান অ্যাডমিরাল আলী শামখানি, বিপ্লবী গার্ডের মহাকাশ শাখার কমান্ডার সৈয়দ মজিদ মুসাভি এবং গোয়েন্দা উপমন্ত্রী মোহাম্মদ শিরাজিসহ আরও অনেকে।

ইসরাইলি সময় শনিবার সকাল ছয়টায় অভিযান শুরু হয়। যুদ্ধবিমানগুলো ঘাঁটি থেকে উড্ডয়ন করে নির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে দূরপাল্লার ও উচ্চনির্ভুল অস্ত্র ব্যবহার করে। প্রায় দুই ঘণ্টা পর, স্থানীয় সময় সকাল ৯টা ৪০ মিনিটে ক্ষেপণাস্ত্রগুলো কম্পাউন্ডে আঘাত হানে। হামলার সময় জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা একটি ভবনে অবস্থান করছিলেন, আর খামেনি পাশের আরেকটি ভবনে ছিলেন।

ইরানের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা আইআরএনএ জানিয়েছে, হামলায় দুইজন উচ্চপদস্থ সামরিক কর্মকর্তা নিহত হয়েছেন—অ্যাডমিরাল আলী শামখানি এবং মেজর জেনারেল মোহাম্মদ পাকপুর।

 

এমএ//

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন