ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা খামেনির ছেলে মোজতবা
মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে ইরানের সর্বোচ্চ নেতৃত্ব ঘিরে নাটকীয় দাবির প্রেক্ষাপটে। বুধবার (০৪ মার্চ) ইরানভিত্তিক সংবাদমাধ্যম ইরান ইন্টারন্যাশনাল দাবি করে, ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির মৃত্যুর পর তার ছেলে মোজতবা খামেনিকে দেশটির পরবর্তী সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে নির্বাচন করেছে বিশেষজ্ঞ পরিষদ বা অ্যাসেম্বলি অব এক্সপার্টস।
প্রতিবেদনে বলা হয়, ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)-এর প্রভাব ও চাপের মুখে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম বা সরকারের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা বা নিশ্চিতকরণ পাওয়া যায়নি।
এর আগে বার্তাসংস্থা ফার্স নিউজ এজেন্সি জানায়, ৮৬ বছর বয়সী আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলায় নিহত হয়েছেন।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, তাকে মাশহাদ শহরের ইমাম রেজা (আ.) মাজার প্রাঙ্গণে দাফন করা হবে, যদিও দাফনের নির্দিষ্ট সময়সূচি তখনও প্রকাশ করা হয়নি। দীর্ঘ ৩৬ বছর ধরে ইরানের নেতৃত্ব দেয়া খামেনির মৃত্যুর খবরে বিশ্বজুড়ে শুরু হয় তীব্র জল্পনা—কে হচ্ছেন তার উত্তরসূরি। সেই জল্পনার মধ্যেই সামনে আসে মোজতবা খামেনির নাম।
এদিকে আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতিও নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে। সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইয়ে অবস্থিত মার্কিন কনস্যুলেট ভবনের কাছে ড্রোন হামলার ঘটনা ঘটেছে বলে জানিয়েছে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ।
প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে রয়টার্স জানায়, হামলার পর কনস্যুলেট সংলগ্ন এলাকায় ধোঁয়া উঠতে দেখা যায়। দুবাই মিডিয়া অফিসের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ড্রোন থেকে সৃষ্ট আগুন দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে এবং এতে কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।
এর আগে সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাসেও হামলার খবর পাওয়া যায়। সেখানেও প্রাণহানির কোনো তথ্য নিশ্চিত হয়নি।
বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের নেতৃত্ব পরিবর্তন নিয়ে অনিশ্চয়তা এবং একের পর এক কূটনৈতিক স্থাপনায় হামলার ঘটনায় মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে বড় ধরনের ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।
এসি//