আন্তর্জাতিক

‘কোন যৌন অপরাধীর বন্ধু ইরানের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করতে পারবে না’

ইরানের পরবর্তী সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচনের প্রক্রিয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকা থাকা উচিত- মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ডে ট্রাম্পের এমন মন্তব্য করার পর তেহরান থেকে তীব্র প্রতিক্রিয়া এসেছে। ইরানি কর্মকর্তারা স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছেন, ইরানের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করবে শুধু ইরানের জনগণ; কুখ্যাত যৌন অপরাধী জেফরি এপস্টেইন’র বন্ধু নয়।

ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ ট্রাম্পের বক্তব্যকে কড়া ভাষায় প্রত্যাখ্যান করে বলেন, ইরানের ভাগ্য নির্ধারণ করবে গর্বিত ইরানি জাতি—কোনো বিদেশি শক্তি নয়।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তিনি লিখেছেন, “প্রিয় ইরানের ভাগ্য, যা আমাদের জীবনের চেয়েও মূল্যবান, তা নির্ধারণ করবে ইরানের জনগণই; কোনো ‘এপস্টেইনের গ্যাং’ নয়।” এখানে তিনি মার্কিন বিতর্কিত ধনকুবের জেফরি এপস্টিন–এর প্রসঙ্গ টেনে ট্রাম্পকে বিদ্রূপ করেন।

একই সুর শোনা গেছে ইরানের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী সাঈদ খতিবজাদেহ–এর বক্তব্যেও।

ভারতের নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত রাইসিনা ডায়ালগ–এ তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল ব্যবস্থার মধ্যেও ট্রাম্প নিউইয়র্কের মেয়র নির্বাচন নির্ধারণ করতে পারেন না। অথচ তিনি ইরানের নেতৃত্ব নির্ধারণে হস্তক্ষেপ করতে চান—যা স্পষ্টতই ঔপনিবেশিক মানসিকতার বহিঃপ্রকাশ।

সম্প্রতি ট্রাম্প দাবি করেছেন, ইরানে “ভেনেজুয়েলার মতো পরিস্থিতি” তৈরি হওয়া উচিত—অর্থাৎ রাষ্ট্র কাঠামো ঠিক রেখে নেতৃত্ব বদলে এমন কাউকে ক্ষমতায় আনা, যে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সমঝোতায় আগ্রহী হবে। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ইরানের এমন একজন নেতা দরকার যিনি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখবেন এবং মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করে চলবেন।

তবে বিশ্লেষকদের মতে, বাস্তবে এমন পরিস্থিতি তৈরি করা কঠিন।

জর্জ ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি–এর মধ্যপ্রাচ্য রাজনীতির অধ্যাপক সিনা আজোদি’র মতে- ইরানের ক্ষমতাকাঠামোর ভেতরে এমন কোনো ব্যক্তি নেই, যাকে সহজে যুক্তরাষ্ট্রপন্থী নেতা হিসেবে তুলে আনা সম্ভব। তার মতে, নতুন সর্বোচ্চ নেতা সম্ভবত আসবেন ১৯৭৯ সালের ইরানি ইসলামি বিপ্লব-এর দ্বিতীয় প্রজন্মের বিপ্লবীদের মধ্য থেকে। কারণ নিহত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি ছিলেন প্রথম প্রজন্মের বিপ্লবীদের একজন।

ইরানের সংবিধান অনুযায়ী, দেশের সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচন করে ৮৮ সদস্যের ধর্মীয় বিশেষজ্ঞ পরিষদ। সম্ভাব্য উত্তরসূরি হিসেবে খামেনির ছেলে মোজতবা খামেনির নামও আলোচনায় রয়েছে, যদিও ট্রাম্প তাকে “হালকা মানের নেতা” বলে সমালোচনা করেছেন।

এদিকে ট্রাম্প আবারও বলেছেন, ইরানের সঙ্গে যেকোনো চুক্তির শর্ত হবে তাদের “নিঃশর্ত আত্মসমর্পণ”। অন্যদিকে তেহরানের কর্মকর্তারা দাবি করছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক চাপ সত্ত্বেও ইরান পিছু হটবে না।

বিশ্লেষকদের মতে, এই মুহূর্তে দুই পক্ষই যুদ্ধকালীন প্রচারণায় ব্যস্ত। তবে একটি বিষয় স্পষ্ট—ইরানের নেতৃত্ব প্রশ্নে বিদেশি হস্তক্ষেপের ধারণাকে তেহরান একেবারেই মেনে নিতে রাজি নয়।

সূত্র: আল জাজিরা

 

এসি//

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন