দেশজুড়ে

গাজীপুরে ২২ কি.মি. যানজট, বৃষ্টিতে বেড়েছে ভোগান্তি

আসন্ন ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে ঘরমুখো মানুষের ঢলে গাজীপুরের মহাসড়কে ভয়াবহ যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। কালিয়াকৈরের চন্দ্রা এলাকা থেকে কোনাবাড়ী পর্যন্ত প্রায় ১৫ কিলোমিটার এবং চন্দ্রা থেকে নবীনগর সড়কে আরও প্রায় ৭ কিলোমিটারমোট প্রায় ২২ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে দীর্ঘ যানজটে কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে যান চলাচল। এর মধ্যে হঠাৎ বৃষ্টিপাত পরিস্থিতিকে আরও দুর্বিষহ করে তুলেছে।

বুধবার (১৮ মার্চ) সন্ধ্যার পর যানজট তীব্র আকার ধারণ করে। কোনাবাড়ী নাওজোর হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সওগাতুল আলম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

শিল্প পুলিশ ও কারখানার সূত্রে জানা গেছে, আজ প্রায় দুই হাজার শিল্প-কারখানা একযোগে ছুটি হওয়ায় শ্রমিকদের ব্যাপক চাপ সৃষ্টি হয়েছে মহাসড়কে। অথচ গতকাল মাত্র ২৫ শতাংশ কারখানা ছুটি ছিল। একদিনের ব্যবধানে এত বড় সংখ্যক মানুষের একসঙ্গে যাত্রা শুরু করায় যানজট কয়েকগুণ বেড়ে গেছে।

বৃষ্টি উপেক্ষা করেই মানুষ গন্তব্যের উদ্দেশ্যে রওনা দিচ্ছেন। তবে যানজটে পড়ে সেই যাত্রা হয়ে উঠেছে চরম ভোগান্তির। কোথাও কোথাও কয়েক কিলোমিটার পথ পাড়ি দিতেই লেগে যাচ্ছে ঘণ্টার পর ঘণ্টা।

উত্তরবঙ্গগামী যাত্রী সাকিব আল হাসান বলেন, “আমি কোনাবাড়ী থেকে বিকেল সাড়ে তিনটায় গাড়িতে উঠেছি, কালিয়াকৈরের মৌচাক পর্যন্ত আসতে সাড়ে সাতটা বাজে। মাত্র তিন কিলোমিটার রাস্তা পাড়ি দিতে চার ঘণ্টা লেগেছে। সামনে টাঙ্গাইল হয়ে আরও অনেক পথ যেতে হবেকখন পৌঁছাবো, আল্লাহই জানেন।

টাঙ্গাইলের গোপালপুরগামী যাত্রী নাজমুল হোসেন বলেন, “ভাড়া স্বাভাবিকের দ্বিগুণেরও বেশি নিচ্ছে। তারপরও গাড়ি ঠিকমতো চলছে না, মাঝেমধ্যে দীর্ঘ সময় দাঁড়িয়ে থাকতে হচ্ছে।

জামালপুরগামী যাত্রী আব্দুল কাদের জানান, “বৃষ্টির মধ্যে ছোট বাচ্চা নিয়ে গাড়িতে বসে আছি। কয়েক ঘণ্টা হয়ে গেছে, এখনো খুব বেশি দূর যেতে পারিনি।

ওসি সওগাতুল আলম বলেন, ‘যাত্রীর তুলনায় পরিবহন কম থাকায় চাপ বেড়েছে। এর ওপর বৃষ্টির কারণে যানবাহন ধীরগতিতে চলছে। পুলিশ ও সেনাবাহিনীর সহায়তায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা করছি।

 

আই/এ

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন