দেশজুড়ে

বিদ্যুৎ মন্ত্রীকে নিয়ে আমির হামজার মন্তব্য, ধর্মীয় নেতাদের প্রতিবাদ

বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকুকে কুষ্টিয়া ৪ আসনের এমপি মুফতি আমির হামজার নাস্তিকআখ্যা দেয়ায় প্রতিবাদ করেছেন সিরাজগঞ্জের ধর্মীয় নেতারা। ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকুকে নাস্তিক আখ্যা দেয়া ঠিক নয় এবং এ ধরণের মন্তব্য থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানান তাঁরা।

সোমবার (৩০ মার্চ) বিকেলে শহরের পৌর মুক্ত মঞ্চে এই কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।

সভায় সভাপতিত্ব করেন মসজিদুল কোবা দরগাহ রোডের খতিব মুফতি মাওলানা মো. রুহুল আমিন যুক্তিবাদী। এসময় আলেম সমাজের পক্ষে বক্তব্য রাখেন সিরাজগঞ্জ কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের ইমাম ও খতিব মুফতি মাওলানা মো. আব্দুল্লাহ সরকার, মুফতি মাওলানা মো. রেজাউল করিম, মুফতি মাওলানা মো. আহমাদুল্লাহ সিরাজী, মাওলানা মো. আব্দুস সামাদ, মাওলানা মো. আব্দুল্লাহ, মাওলানা মো. তারিকুল ইসলাম, মুফতি নোমান, সাংবাদিক মাওলানা মো. এনামুল হক, হাফেজ মাওলানা মো. আব্দুর রাজ্জাক, হাফেজ মাওলানা মো. নুরনবী হোসাইনী ও মাওলানা টি এম শরিফ উদ্দিন জামিল প্রমুখ।

বক্তারা তাদের বক্তব্যে বলেন, ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু ধর্মবিদ্বেষীএমন কোনো কাজ করেছেন বলে তারা মনে করেন না। তাই তাকে নাস্তিক আখ্যা দেওয়া সঠিক নয় এবং এ ধরনের মন্তব্যের দায় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকেই বহন করতে হবে।

তারা আরও বলেন, ধর্মের নামে বিভ্রান্তিকর ব্যাখ্যা ও মিথ্যা অপবাদ থেকে বিরত থাকা উচিত। এ ধরনের বক্তব্য সমাজে বিভাজন তৈরি করতে পারে বলেও সতর্ক করেন তারা।

সভা থেকে আমির হামজাকে এ ধরনের মন্তব্য থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানানো হয়। পাশাপাশি ভবিষ্যতে এ ধরনের কোনো অসম্মানজনক বক্তব্য দেওয়া হলে রাজপথে জবাব দেওয়া হবে বলেও হুঁশিয়ারি দেন আলেম-ওলামা ও উপস্থিত সাধারণ মানুষ।

বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. সাইদুর রহমান বাচ্চু বলেছেন, দল চাইলে আন্দোলন নিয়ে রাজপথে নামতে পারত। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে তারা সেই পথ বেছে নেয়নি; বরং ধর্মীয়ভাবে বিষয়টি পরিষ্কার করতে আলেম-ওলামাদের মতামতের ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন।

তিনি  বলেন, “কেউ যদি কালেমা পড়ে, তাকে নাস্তিক বলা কতটা যৌক্তিকএটি আলেম সমাজই ব্যাখ্যা করবেন। মুফতি আমির হামজার মন্তব্য কতটা গ্রহণযোগ্য, সেটিও তাদের কাছ থেকেই জানতে চাই।

টুকুর ব্যক্তিগত ধর্মীয় চর্চার প্রসঙ্গ তুলে তিনি আরও বলেন, তিনি একাধিকবার হজ পালন করেছেন, নিয়মিত নামাজ আদায় করেন এবং যাকাত দেন। তার মায়ের নামে চণ্ডিদাসগাঁতীতে একটি মাদরাসা পরিচালিত হচ্ছে। এছাড়া বহু মসজিদ ও মাদরাসা প্রতিষ্ঠায় আর্থিক সহায়তা দিয়েছেন বলেও উল্লেখ করেন তিনি। এমন একজন ব্যক্তিকে নাস্তিক বলা দুঃখজনক বলেও মন্তব্য করেন বাচ্চু।

 

আই/এ

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন