স্ট্রবেরি চাষে রকিবুলের বাজিমাত
পাবনার ঈশ্বরদীতে স্ট্রবেরি চাষ করে সাফল্যের নজির গড়েছেন কৃষক রকিবুল মন্ডল। শখের চাষাবাদ থেকেই শুরু, আর এখন তা হয়ে উঠেছে লাভজনক উদ্যোগ। মাত্র দুই বিঘা জমিতে আবাদ করে তিনি ইতোমধ্যে এলাকায় বেশ আলোচনায় এসেছেন।
বক্তারপুর গ্রামের এই কৃষক জানান, অন্যদের বাগান দেখে অনুপ্রাণিত হয়ে তিনি স্ট্রবেরি চাষে নামেন। আমেরিকান ফেস্টিভ্যাল, থাইল্যান্ড ও এস২০ জাতের উন্নত চারা ব্যবহার করে শুরু করেন চাষাবাদ। প্রায় ৯ হাজার চারা রোপণে তার মোট খরচ হয়েছে আনুমানিক পাঁচ লাখ টাকা।
চারা রোপণের আড়াই মাসের মধ্যেই গাছে ফল ধরতে শুরু করে এবং তিন মাসের মাথায় বাজারজাত করা সম্ভব হয়। মৌসুমের শুরুতে প্রতি কেজি স্ট্রবেরি ১৮০০ থেকে ২০০০ টাকায় বিক্রি হলেও বর্তমানে দাম কিছুটা কমে ৪০০-৫০০ টাকায় নেমেছে। তবুও লাভের পরিমাণ নিয়ে সন্তুষ্ট তিনি।
রকিবুল জানান, ইতোমধ্যে ১০ থেকে ১২ লাখ টাকার স্ট্রবেরি বিক্রি হয়েছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে পুরো মৌসুমে আরও ৮/১০ লক্ষ টাকার স্ট্রবেরি বিক্রির হতে পারে। অর্থাৎ ৫ লক্ষ টাকা বিনিয়োগ করে ১৫ লক্ষ টাকা নিট মুনাফা পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
স্থানীয় বাজার ছাড়াও তার উৎপাদিত স্ট্রবেরির বড় অংশ যাচ্ছে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পে কর্মরত রাশিয়ানদের জন্য নির্ধারিত 'গ্রিন সিটি' বাজারে। পাশাপাশি আশপাশের জেলা থেকে পাইকাররা সরাসরি বাগান থেকেই ফল কিনে নিচ্ছেন।
রকিবুলের এই সাফল্যে আশপাশের কৃষকদের মধ্যেও নতুন আগ্রহ তৈরি হয়েছে। অনেকেই এখন প্রচলিত ফসলের পাশাপাশি স্ট্রবেরি চাষে ঝুঁকছেন।
তিনি বলেন, বাজারে চাহিদা ভালো থাকায় বিক্রি নিয়ে কোনো সমস্যা হচ্ছে না। তবে কৃষকদের জন্য প্রয়োজনীয় সার সহজলভ্য না হওয়ায় কিছুটা ভোগান্তি রয়েছে। এ বিষয়ে সরকারকে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
ঈশ্বরদী উপজেলার কৃষি অফিসার মো. আব্দুল মমিন বলেন, উপজেলাতে ৫ জন কৃষক স্ট্রবেরী চাষ করছেন। এবার ০১ হেক্টর জমিতে এর চাষ হয়েছে। আমরা ০১ জনকে প্রদর্শনী দিয়েছি। কৃষকদের কারিগরি পরামর্শ দিচ্ছি, কখন সার বিষ স্প্রে করতে হবে তা বলে দিচ্ছি।
এমএ//