মাদ্রাসার শিক্ষক কর্তৃক শিক্ষার্থী বলাৎকারের অভিযোগ, বিচারের দাবীতে মানববন্ধন
কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ীতে এস এস দারুল খাঈর মাদ্রাসার এক শিক্ষার্থীকে বলাৎকারের অভিযোগ উঠেছে ওই মাদ্রাসার এক শিক্ষকের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত শিক্ষকের বিচারের দাবীতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ প্রদর্শন করেছে এলাকাবাসী। অভিযুক্ত শিক্ষক হামিদুল হক পার্শ্ববর্তী নাগেশ্বরী উপজেলার সন্তোষপুর ইউনিয়নের হাজিটারী গ্রামের নুরল হকের ছেলে।
মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) বিকেল চারটার দিকে উপজেলার রাবাইতারী এলাকায় খড়িবাড়ী বাজার টু নাগেশ্বরী পাকা সড়কের পাশে অবস্থিত মাদ্রাসার প্রধান ফটকের সামনে এ মানববন্ধন ও বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়। এ সংক্রান্ত মৌখিক অভিযোগ পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ফুলবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহমুদ হাসান নাঈম।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত ৫ এপ্রিল রাতে পার্শ্ববর্তী একটি এলাকায় অনুষ্ঠান দেখতে যায় মাদ্রাসার বেশকিছু শিক্ষার্থী। ওই সময় মাদ্রাসার তৃতীয় শ্রেণির এক শিক্ষার্থী (৮) মাদ্রাসায় অবস্থান করছিল। এই সুযোগে অভিযুক্ত শিক্ষক হামিদুল হক জোরপূর্বক ওই শিক্ষার্থীকে বলাৎকার করেন।
পরবর্তীতে শিশুটি বাড়ি যেতে চাইলে তাকে আটকে রাখা হয়। পরের দিন বাবার অসুস্থতার অজুহাতে শিশুটি বাড়িতে গিয়ে কান্নাকাটি করলে পরিবারের সদস্যদের জিজ্ঞাসাবাদে পুরো ঘটনা খুলে বলে।
বিষয়টি জানাজানি হলে গত সোমবার রাতে বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী মাদ্রাসাটিতে তালা ঝুলিয়ে দেন।
ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত শিক্ষক পলাতক রয়েছেন।স্থানীয়রা দ্রুত প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন এবং ঘটনার সঠিক তদন্তের মাধ্যমে দোষীর বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
ওই শিক্ষার্থীর বড় ভাই বলেন, ‘আমার ছোট ভাই মাদ্রাসায় পড়ে। সেদিন রাতে সবাই বাইরে অনুষ্ঠানে থাকায় ওই শিক্ষক সুযোগ নিয়ে তার ওপর নির্যাতন চালায়। আমার ভাই বাড়িতে এসে কান্নাকাটি করে আমাদের সব জানায়। আমরা এই ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চাই এবং দোষী শিক্ষকের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই’।
অভিযুক্ত শিক্ষক হামিদুল হকের মোবাইল ফোন একাধিক বার যোগাযোগ করা হলে মোবাইল ফোনটা বন্ধ থাকায় তার বক্তব্য নেয়া যায়নি।
এস এস দারুল খাঈর মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠাতা ইঞ্জিনিয়ার আব্দুস ছালাম সুজা জানান, এই জঘন্য ঘটনা সঙ্গে যে শিক্ষক জড়িত তার শাস্তির দাবি জানাচ্ছেন।
ওসি মাহমুদ হাসান নাঈম জানান, অভিযোগকারীরা থানায় এসে মৌখিন জানিয়েছেন। তারা লিখিত অভিযোগ দিলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।
আই/এ