যুদ্ধে যা পায়নি, আলোচনায় তা আদায়ে চাপ দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র: ইরান
ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত যুক্তরাষ্ট্র-ইরান বৈঠকে মতবিরোধ এখন প্রকাশ্য রূপ নিয়েছে। প্রায় একদিন ধরে টানা আলোচনা চললেও শেষ পর্যন্ত কোনো সমঝোতা হয়নি। ফলে চুক্তি ছাড়াই মার্কিন প্রতিনিধিদল দেশে ফিরছে বলে জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স।
এ অবস্থায় ইরানি প্রতিনিধিদলের ঘনিষ্ঠ একটি সূত্রের দাবি, সামরিকভাবে যা অর্জন সম্ভব হয়নি, যুক্তরাষ্ট্র এখন তা কূটনৈতিক আলোচনার মাধ্যমে আদায়ের চেষ্টা করছে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালি ও পারমাণবিক কর্মসূচি ঘিরে দুই দেশের অবস্থান এখনও অনেক দূরে থাকায় চুক্তির সম্ভাবনা অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।
ইরানের ঘনিষ্ঠ সূত্রগুলো জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র আলোচনায় বেশ কিছু উচ্চাভিলাষী শর্ত দিয়েছে, যা তেহরান গ্রহণ করতে রাজি হয়নি। তাদের মতে, এসব দাবির মধ্যে হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ ও পারমাণবিক কার্যক্রমের সীমাবদ্ধতা ছিল প্রধান। ফলে সমঝোতার পথ নির্ভর করছে ওয়াশিংটন তাদের অবস্থান কতটা নমনীয় করে তার ওপর।
এদিকে দুই পক্ষের বিশেষজ্ঞরা খসড়া প্রস্তাব নিয়ে কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। মধ্যস্থতাকারী হিসেবে পাকিস্তান মতপার্থক্য কমিয়ে আনার চেষ্টা করছে এবং উভয় পক্ষকে আলোচনার টেবিলে ধরে রাখতে ভূমিকা রাখছে। খসড়া চূড়ান্ত হলে আবারও আলোচনা শুরু হতে পারে বলে ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।
ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমও জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের ‘অতিরিক্ত দাবি’ আলোচনায় অগ্রগতির প্রধান বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। হরমুজ প্রণালি ও পারমাণবিক অধিকার, এই দুই ইস্যুই বিরোধের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে।
অন্যদিকে, ভ্যান্স সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে বলেন, আলোচনায় কিছু ইতিবাচক দিক থাকলেও চূড়ান্ত ফল আসেনি। তিনি পাকিস্তানের ভূমিকার প্রশংসা করে বলেন, তারা আন্তরিকভাবে দুই পক্ষকে কাছাকাছি আনার চেষ্টা করেছে। প্রায় ২১ ঘণ্টার আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা হলেও ইরান যুক্তরাষ্ট্রের শর্ত মেনে নেয়নি।
পারমাণবিক ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করে ভ্যান্স বলেন, তারা চায় ইরান স্পষ্টভাবে অঙ্গীকার করুক যে তারা কখনোই পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করবে না বা সে সক্ষমতা অর্জনের চেষ্টা করবে না। তবে এই বিষয়ে কোনো ঐকমত্য তৈরি হয়নি।
এমএ//