বিধি লঙ্ঘন করলেই বড় জরিমানা গুণতে হবে হাজিদের
২০২৬ সালের (১৪৪৭ হিজরি) হজ মৌসুমকে সামনে রেখে অবৈধ অনুপ্রবেশ এবং অনুমতি ছাড়া হজ পালনের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে সৌদি আরব।
বুধবার (১৫ এপ্রিল) দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, হজ সংক্রান্ত বিধিনিষেধ ভঙ্গকারীদের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অনুসরণ করা হবে।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়েছে, নিয়ম লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ১ লাখ সৌদি রিয়াল পর্যন্ত জরিমানা আরোপ করা হতে পারে। পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি নিষেধাজ্ঞাসহ কঠোর শাস্তির ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।
মন্ত্রণালয়ের ঘোষণা অনুযায়ী, যারা হজের আনুষ্ঠানিক অনুমতি বা পারমিট ছাড়া হজ পালনের চেষ্টা করবেন, তাদের ২০ হাজার রিয়াল জরিমানা করা হবে। তবে সবচেয়ে কঠোর পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে ভিজিট (ভ্রমণ) ভিসাধারীদের ক্ষেত্রে। আগামী ১ জিলকদ (১৯ এপ্রিল) থেকে ১৪ জিলহজ পর্যন্ত যে কোনো ধরনের ভিজিট ভিসাধারী ব্যক্তির মক্কায় প্রবেশ বা অবস্থান সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
সংবাদমাধ্যম খালিজ টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যদি কোনো ব্যক্তি ভিজিট ভিসা দিয়ে হজ করার উদ্দেশ্যে কাউকে নিয়ে আসেন বা নির্দিষ্ট সময়ে মক্কায় অবস্থান করেন, তবে সেই আবেদনকারীকে ১ লাখ রিয়াল জরিমানা করা হবে। এ ছাড়া অবৈধ যাত্রীদের মক্কায় পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা করলে পরিবহনকারীকেও ১ লাখ রিয়াল জরিমানা করা হবে, পাশাপাশি তার যানবাহনও বাজেয়াপ্ত করার আইনি প্রক্রিয়া শুরু হবে। এই জরিমানা ব্যক্তির সংখ্যার অনুপাতে কয়েকগুণ পর্যন্ত বাড়তে পারে।
হোটেল, অ্যাপার্টমেন্ট বা ব্যক্তিগত আবাসনে অনুমতি ছাড়া কাউকে আশ্রয় দিলে বা লুকিয়ে থাকতে সাহায্য করলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকেও ১ লাখ রিয়াল জরিমানা করা হবে। মূলত মক্কার পবিত্র স্থানগুলোতে ভিড় নিয়ন্ত্রণ এবং হাজিদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এই কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।
সৌদি আরবে অবস্থানরত অভিবাসী বা যাদের ভিসার মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে, এমন কেউ যদি অবৈধভাবে হজ পালনের চেষ্টা করেন, তবে তাদের তাৎক্ষণিকভাবে নিজ দেশে ফেরত পাঠানো হবে। একইসঙ্গে ওই ব্যক্তির ওপর পরবর্তী ১০ বছরের জন্য সৌদি আরবে প্রবেশের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হবে।
তবে দণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তিরা যদি মনে করেন তারা অন্যায়ভাবে শাস্তির শিকার হয়েছেন, তবে তারা ৩০ দিনের মধ্যে আপিল করতে পারবেন এবং প্রয়োজনবোধে প্রশাসনিক আদালতেরও শরণাপন্ন হতে পারবেন।
সৌদি কর্তৃপক্ষ সকল নাগরিক এবং প্রবাসীদের ৯১১ নম্বরে কল করে যেকোনো আইন লঙ্ঘনকারীর তথ্য দেয়ার অনুরোধ জানিয়েছে। পবিত্র হজের মর্যাদা রক্ষা এবং হাজিদের জন্য সুশৃঙ্খল পরিবেশ বজায় রাখতে এই নিয়মগুলো কঠোরভাবে পালনের নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
এসি//