করনাকালীন সহায়তার ১৭ লাখ ডলার আত্মসাৎ, আলির ৪ বছরের জেল
যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে করোনা মহামারি চলাকালে সরকারি সহায়তা কর্মসূচির অর্থ আত্মসাতের ঘটনায় নাইয়াল আলিকে ৪ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন দেশটির আদালত। একই সঙ্গে তাকে ১৭ লাখ ডলারের বেশি অর্থ ফেরত দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
তদন্তে জানা যায়, ২০২০ সালের এপ্রিল থেকে লং আইল্যান্ডের বাসিন্দা নাইয়াল আলি তার মালিকানাধীন দুটি প্রতিষ্ঠানের নামে পে-চেক প্রোটেকশন প্রোগ্রামের ঋণের জন্য আবেদন করেন। তিনি পেরোল ও আর্থিক নথি জাল করে জমা দিয়ে ১৭ লাখ ডলারের বেশি অর্থ হাতিয়ে নেন।
মার্কিন পোস্টাল ইন্সপেকশন সার্ভিসের তদন্তে “ফলো দ্য মানি” কৌশল ব্যবহার করে দেখা যায়, এই অর্থ ব্যবসায়িক খাতে ব্যবহার না করে ব্যক্তিগত বিলাসিতায় ব্যয় করা হয়েছে।
তদন্তে উঠে আসে, ওই অর্থ দিয়ে আলি একটি ক্যাডিলাক এস্কেলেড গাড়ি কেনেন, দুটি পাটেক ফিলিপ ঘড়ি সংগ্রহ করেন, সন্তানের প্রাইভেট স্কুলের খরচ মেটান, প্রায় পাঁচ লাখ ডলারের ক্রিপ্টোকারেন্সি ক্রয় করেন এবং বিলাসবহুল হোটেলে থাকেন।
এছাড়া অর্থ ব্যয়ের পর আলি ঋণ মওকুফের জন্য আবেদন করেন এবং সেখানে আবারও জাল আর্থিক বিবরণী ব্যবহার করেন, যা প্রতারণা আড়াল করার একটি পরিকল্পিত চেষ্টা ছিল।
তদন্তের ভিত্তিতে ২০২২ সালের সেপ্টেম্বরে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে আদালতে তিনি মহামারিকালীন সহায়তা জালিয়াতি ও ওয়্যার ফ্রডের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন।
আদালত তার বিরুদ্ধে ৪৮ মাসের (৪ বছর) কারাদণ্ড, ১৭ লাখ ডলারের বেশি অর্থ ফেরত এবং অতিরিক্ত ১ লাখ ৩৫ হাজার ডলারের সম্পদ বাজেয়াপ্ত করার আদেশ দেন।
তদন্ত সংস্থাগুলোর তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রে এই কর্মসূচি সংশ্লিষ্ট জালিয়াতির ঘটনায় ইতোমধ্যে ৩ হাজারের বেশি ব্যক্তির বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে, যার মধ্যে আড়াই হাজারের বেশি অভিযুক্ত ব্যক্তি দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন।
এমএ//