ইরানকে হরমুজ প্রণালি খুলে দিতে বলেছে চীন
হরমুজ প্রণালি ঘিরে উত্তেজনা ক্রমেই বৃদ্ধি পাচ্ছে। একদিকে যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধ, অন্যদিকে ইরানের পাল্টা হুঁশিয়ারি—সব মিলিয়ে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠছে। এমন পরিস্থিতিতে চীন প্রকাশ্যে সক্রিয় ভূমিকা নিয়ে প্রণালিতে স্বাভাবিক নৌ চলাচল বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছে। এতে কূটনৈতিক ও সামরিক—উভয় দিক থেকেই সংকট আরও গভীর হচ্ছে বলে মনে করা হচ্ছে।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচির সঙ্গে আলোচনায় হরমুজ প্রণালিতে স্বাভাবিক নৌ চলাচল নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়ার আহ্বান জানান।
ওয়াং ই বলেন, হরমুজ প্রণালিতে ইরানের সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তাকে অবশ্যই সম্মান করতে হবে। একই সঙ্গে এই গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক জলপথে জাহাজ চলাচলের স্বাধীনতা ও নিরাপত্তাও নিশ্চিত করা জরুরি।
তিনি আরও বলেন, প্রণালিটি খুলে দেয়ার বিষয়ে সবারই অভিন্ন স্বার্থ রয়েছে।
ওয়াং ই আরও বলেন, চীন যুদ্ধবিরতি বজায় রাখা এবং আলোচনায় ফিরে যাওয়ার পক্ষে।
অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র জানিয়েছে, গত সোমবার থেকে কার্যকর হওয়া নৌ অবরোধের পর হরমুজ প্রণালি দিয়ে কোনও জাহাজই অবরোধ ভেঙে যেতে পারেনি।
মার্কিন সামরিক বাহিনী বলেছে, ইরানের উপকূলের দিকে যাওয়া বা সেখান থেকে আসা জাহাজগুলোকে তারা আটকে দেবে বা ফিরে যেতে বাধ্য করবে। তবে অন্য দেশ থেকে আসা বা অন্য গন্তব্যে যাওয়া জাহাজগুলোকে প্রণালি দিয়ে যেতে দেয়া হবে।
গত রাতে দেয়া এক আপডেটে মার্কিন সামরিক বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানায়, ‘এখন পর্যন্ত ১০টি জাহাজকে ফিরিয়ে দেয়া হয়েছে এবং সোমবার অবরোধ শুরুর পর থেকে কোনও জাহাজই এটি ভেঙে যেতে পারেনি।’
ডোনাল্ড ট্রাম্প আশা করছেন, জাহাজ চলাচলের ওপর ইরানের আরোপিত টোল বন্ধ করে এবং তেল রপ্তানি কমিয়ে দেশটির ওপর চাপ সৃষ্টি করা যাবে।
অন্যদিকে ইরান এই অবরোধকে ‘জলদস্যুতা’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছে এবং প্রয়োজনে উপসাগরীয় অঞ্চল, ওমান উপসাগর এবং লোহিত সাগরে জাহাজ চলাচলকে লক্ষ্য করে তারা পাল্টা পদক্ষেপ নেবে বলে হুমকি দিয়েছে।
এসি//