খেলাধুলা

চমকপ্রদ টি-টোয়েন্টি স্কোয়াড বিসিবির, নেই তাসকিন-মোস্তাফিজ

চট্টগ্রামের আকাশে যেন আবারও ক্রিকেটের গন্ধ। ওয়ানডে সিরিজের শেষ লড়াইকে সামনে রেখে টাইগারদের আগমন, আর তার ঠিক পরেই শুরু হতে যাচ্ছে টি-টোয়েন্টির নতুন অধ্যায়। এই ট্রানজিশনের মাঝেই যেন বদলে যাচ্ছে বাংলাদেশের পরিকল্পনা—অভিজ্ঞতার সঙ্গে তরুণের মিশেলে তৈরি হচ্ছে নতুন সমীকরণ।

বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড যখন নিউজিল্যান্ড সিরিজের প্রথম দুই টি-টোয়েন্টির স্কোয়াড ঘোষণা করল, তখনই স্পষ্ট হয়ে গেল—এটা শুধুই আরেকটা সিরিজ নয়, বরং ভবিষ্যতের দিকে তাকিয়ে নেওয়া একটি সাহসী পদক্ষেপ। কারণ, দলে নেই পরিচিত দুই নাম—তাসকিন আহমেদ ও মোস্তাফিজুর রহমান। পেস আক্রমণের এই দুই স্তম্ভকে বিশ্রাম দিয়ে নতুনদের সুযোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিঃসন্দেহে বড় বার্তা বহন করে।

এই শূন্যস্থান পূরণের দায়িত্ব এখন তরুণদের কাঁধে। বিশেষ করে রিপন মন্ডল ও আব্দুল গাফফার সাকলাইন—যারা সদ্য শেষ হওয়া বিপিএলে নিজেদের প্রতিভার ঝলক দেখিয়েছেন। রাজশাহীর হয়ে রিপনের ৮ ম্যাচে ১৭ উইকেট আর সাকলাইনের ৯ ম্যাচে ৯ উইকেট শুধু পরিসংখ্যান নয়, বরং সম্ভাবনার ইঙ্গিত। এখন আন্তর্জাতিক মঞ্চে সেই সম্ভাবনাকে বাস্তবে রূপ দেওয়ার অপেক্ষা।

পেস বিভাগের নেতৃত্বে থাকবেন তানজিম হাসান সাকিব ও শরিফুল ইসলাম। তাদের সঙ্গে থাকছেন অভিজ্ঞ অলরাউন্ডার সাইফউদ্দিন। এই ত্রয়ীর ওপরই নির্ভর করবে বাংলাদেশের বোলিং আক্রমণের ধার।

ব্যাটিং লাইনআপে অবশ্য খুব বেশি পরিবর্তন নেই। অধিনায়ক লিটন কুমার দাস-এর নেতৃত্বে দল ভরসা রাখছে পরিচিত মুখদের ওপর। তরুণ ও অভিজ্ঞদের মিশেলে গড়া এই ব্যাটিং অর্ডারই ঠিক করে দেবে ম্যাচের ছন্দ।

চট্টগ্রামের উইকেট, দর্শকদের প্রত্যাশা, আর প্রতিপক্ষ হিসেবে নিউজিল্যান্ড—সব মিলিয়ে চ্যালেঞ্জ কম নয়। তবে এই সিরিজে জয়-পরাজয়ের বাইরে আরও বড় কিছু দেখার আছে। নতুন মুখেরা কতটা দ্রুত নিজেদের মানিয়ে নিতে পারে, সেটাই হবে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন।

এক অর্থে, এই সিরিজ বাংলাদেশের জন্য একটি পরীক্ষাগার। যেখানে তৈরি হবে ভবিষ্যতের তারকা, গড়ে উঠবে নতুন আস্থা। আর সেই গল্পের শুরুটা হচ্ছে এখনই—চট্টগ্রামের মাটিতে।

 

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন