লোডশেডিং নিয়ে উদ্বেগ ব্যবসায়ীদের, রপ্তানি কমার শঙ্কা
চলমান লোডশেডিং ও জ্বালানি তেলের সংকটে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে নিট পোশাকশিল্প মালিকদের সংগঠন বাংলাদেশ নিটওয়্যার প্রস্তুত ও রফতানিকারক সমিতি (বিকেএমইএ)। লোডশেডিংয়ের কারণে শিল্পকারখানার উৎপাদন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে, যা রপ্তানির ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ী নেতারা।
শনিবার (২৫ এপ্রিল) সকালে রাজধানীর প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে এক সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনটির পক্ষ থেকে এসব তথ্য জানানো হয়।
বিকেএমইএ সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম বলেন, “বিভিন্ন শিল্পাঞ্চলে প্রতিদিন গড়ে দুই থেকে তিন ঘণ্টা বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকছে। কোথাও কোথাও পরিস্থিতি আরও গুরুতর। সাভারের আশুলিয়ায় সম্প্রতি দিনের বেলায় ছয় ঘণ্টার বেশি বিদ্যুৎ ছিলো না। অথচ, একটি কারখানা সাধারণত দিনে প্রায় ১০ ঘণ্টা চালু থাকে। ফলে উৎপাদন ব্যাহত হওয়া স্বাভাবিক। বিশেষ করে ভালুকা, শ্রীপুর ও রাজেন্দ্রপুরের মতো পল্লী বিদ্যুৎ নির্ভর এলাকায় সংকট বেশি প্রকট।
তিনি বলেন, গত কয়েক বছর ধরেই শিল্পকারখানাগুলো পূর্ণ সক্ষমতায় উৎপাদন করতে পারছে না। বর্তমানে অনেক কারখানা ৫০ থেকে ৬০ শতাংশ সক্ষমতায় চলছে। পূর্ণ সক্ষমতায় উৎপাদন সম্ভব হলে এ খাতের রপ্তানি আয় বছরে ৫০ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে যেতে পারতো।
তিনি আরও বলেন, জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির কারণে পরিবহন ব্যয় বেড়েছে। পাশাপাশি বৈশ্বিক অস্থিরতার কারণে পণ্য পরিবহনের সময় ও খরচ উভয়ই বৃদ্ধি পেয়েছে। শ্রমিকদের মজুরি বৃদ্ধিসহ বিভিন্ন কারণে তৈরি পোশাকশিল্পে উৎপাদন খরচ অন্তত ২০ শতাংশ বেড়েছে।
বিকেএমইএর নির্বাহী সভাপতি ফজলে শামীম এহসান বলেন, “বৈশ্বিক অর্থনৈতিক চাপের কারণে ইউরোপসহ বিভিন্ন দেশে ভোক্তারা অপ্রয়োজনীয় ব্যয় কমাচ্ছেন। ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে বিক্রি কমে যাওয়ায় ক্রেতাদের মজুত বেড়েছে এবং নতুন ক্রয়াদেশ কমে গেছে।”
তিনি বলেন, “সাধারণত মে-জুন সময়ে পরবর্তী বছরের ক্রয়াদেশ বেশি আসে। তবে, বৈশ্বিক পরিস্থিতির উন্নতি না হলে আগামী মৌসুমে রফতানি আরও কমে যেতে পারে।
আই/এ