বিনোদন

বিয়ের প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় খুন হলেন গায়িকা

ছবি: সংগৃহীত

মাত্র ২৯ বছর বয়সে থেমে গেল এক তরুণ কণ্ঠের জীবনযাত্রা। জনপ্রিয় পাঞ্জাবি গায়িকা ইন্দর কৌরের মৃত্যু ঘিরে এখন শুধু শোক আর প্রশ্ন—কীভাবে এমন ভয়াবহ পরিণতি ঘটল তার জীবনে?

ভারতীয় গণমাধ্যম এনডিটিভি সূত্রে জানা যায়, গত ১৩ মে রাতে বাজারে যাওয়ার কথা বলে নিজের গাড়ি নিয়ে বাসা থেকে বের হন ইন্দর। এরপর আর ফিরে আসেননি তিনি। দীর্ঘ সময় নিখোঁজ থাকার পর পরিবারের অভিযোগে তদন্তে নামে পুলিশ। পরে লুধিয়ানার একটি খাল থেকে উদ্ধার হয় তার মরদেহ।

ঘটনার পরই সামনে আসে এক চাঞ্চল্যকর নাম—সুখবিন্দর সিং। অভিযোগ, এই ব্যক্তির বিরুদ্ধেই গায়িকার হত্যাকাণ্ডের মূল সন্দেহ।

পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রায় তিন বছর আগে ইনস্টাগ্রামের মাধ্যমে ইন্দরের সঙ্গে পরিচয় হয় সুখবিন্দরের। ধীরে ধীরে সম্পর্ক গড়ে উঠলেও পরে ইন্দর জানতে পারেন, সুখবিন্দর আগে থেকেই বিবাহিত এবং তার সন্তান রয়েছে। এরপরই তিনি সম্পর্ক থেকে সরে আসেন।

কিন্তু এখানেই থেমে থাকেনি গল্প। অভিযোগ রয়েছে, ইন্দর সম্পর্ক ছিন্ন করার পর থেকেই তাকে বিয়ের জন্য চাপ দিতে থাকেন সুখবিন্দর। প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় শুরু হয় হুমকি ও ভয়ভীতি প্রদর্শন।

ইন্দরের ভাই যতিন্দর সিং পুলিশের কাছে অভিযোগ করেন, পরিকল্পিতভাবে অস্ত্রের মুখে অপহরণ করে তাকে হত্যা করা হয় এবং পরে মরদেহ খালে ফেলে দেওয়া হয়।

পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে আরও ভয়াবহ তথ্য উঠে এসেছে। ধারণা করা হচ্ছে, হত্যার পরিকল্পনা করেই কানাডা থেকে ভারতে আসেন সুখবিন্দর। তিনি নেপাল হয়ে সীমান্ত পেরিয়ে পাঞ্জাবে প্রবেশ করেন এবং হত্যাকাণ্ডের পর আবার কানাডায় ফিরে যান।

ঘটনাটিকে ঘিরে এখনো তদন্ত চলছে। অপহরণ, হত্যা ও ষড়যন্ত্রের অভিযোগে মামলা হয়েছে। পাঞ্জাব পুলিশ জানিয়েছে, অভিযুক্তদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের জন্য অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

একদিকে এক প্রতিভাবান কণ্ঠের নীরব বিদায়, অন্যদিকে এক রহস্যঘেরা হত্যাকাণ্ড—ইন্দর কৌরের গল্প এখন শুধু সংগীতের নয়, এক নির্মম বাস্তবতার নাম।

 

পিডি/ এসি//

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন