ঋণগ্রস্ত ব্যক্তির কোরবানি কবুল হবে কি!
ইসলামে কোরবানি শুধু একটি আনুষ্ঠানিকতা নয় বরং এটি আল্লাহর প্রতি পূর্ণ আনুগত্যের বহিঃপ্রকাশ। এই মহান ইবাদতটি প্রত্যেক সামর্থ্যবান মুসলিমের ওপর ওয়াজিব করা হয়েছে। তবে কোরবানির ওয়াজিব হওয়ার শর্ত এবং বিশেষ করে ঋণগ্রস্ত ব্যক্তির ক্ষেত্রে কোরবানির বিধান কী তা নিয়ে অনেকের মনেই সংশয় থাকে।
একজন মানুষ ঋণগ্রস্ত থাকলে তার ওপর কোরবানি ওয়াজিব হবে কি না, তা নির্ভর করে তার ঋণের ধরন এবং ঋণ পরিশোধের পর অবশিষ্ট সম্পদের পরিমাণের ওপর।
ইসলামি শরিয়ত অনুযায়ী, যাকাত এবং কোরবানি উভয়ের জন্যই নিসাব পরিমাণ (সাড়ে সাত তোলা সোনা বা সাড়ে বায়ান্ন তোলা রুপা অথবা এর সমমূল্যের নগদ টাকা/ব্যবসায়িক পণ্য) সম্পদের মালিক হওয়া জরুরি। তবে এই দুইটির মধ্যে একটি মৌলিক পার্থক্য রয়েছে।
যাকাত ফরজ হওয়ার জন্য নিসাব পরিমাণ সম্পদ পুরো এক বছর মালিকানায় থাকা আবশ্যক। অন্যদিকে, কোরবানির ক্ষেত্রে বছর অতিবাহিত হওয়া শর্ত নয়।
জিলহজ মাসের ১০ তারিখ ফজর থেকে ১২ জিলহজ সূর্যাস্তের মধ্যে যেকোনো সময় কেউ নিসাব পরিমাণ সম্পদের মালিক হলে তার ওপর কোরবানি ওয়াজিব হবে। (আহসানুল ফাতাওয়া: ৭/৫০৬)
ইসলামি ফিকহের নির্ভরযোগ্য গ্রন্থসমূহের আলোক ঋণগ্রস্ত ব্যক্তির কোরবানির বিধানকে প্রধানত দুটি ভাগে বিন্যস্ত করা যায়:
১. ঋণ পরিশোধের পর নিসাব বাকি না থাকলে কোনো ব্যক্তি যদি নিসাব পরিমাণ সম্পদের মালিক হন, কিন্তু তিনি এমন ঋণগ্রস্ত থাকেন যা পরিশোধ করে দিলে তার কাছে আর নিসাব পরিমাণ সম্পদ অবশিষ্ট থাকে না, তবে তার ওপর কোরবানি ওয়াজিব হবে না। ইসলামে ঋণের দায় মুক্তিকে কোরবানির চেয়ে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে।
২. ঋণ পরিশোধের পরও নিসাব বাকি থাকলে যদি কোনো ব্যক্তির ওপর ঋণ থাকে, কিন্তু তার মোট সম্পদ থেকে ঋণের পরিমাণ বাদ দেওয়ার পরও তার কাছে নিসাব পরিমাণ উদ্বৃত্ত সম্পদ থাকে, তবে তার ওপর কোরবানি দেওয়া ওয়াজিব। ঋণ থাকার অজুহাতে তিনি কোরবানি ত্যাগ করতে পারবেন না।
এছাড়াও আরও কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য যা কোরবানির জন্যে খুবই গুরুত্বপূর্ণ-
দীর্ঘমেয়াদি ঋণ (গৃহঋণ বা ব্যাংক লোন): যদি কোনো ব্যক্তি বড় অঙ্কের দীর্ঘমেয়াদি ঋণগ্রস্ত থাকেন (যা কিস্তিতে পরিশোধ করতে হয়), তবে বর্তমান বছরের কোরবানির দিনগুলোতে যে পরিমাণ কিস্তি বা টাকা পরিশোধ করা জরুরি, শুধু সেই পরিমাণ টাকা মোট সম্পদ থেকে বাদ যাবে। পুরো দীর্ঘমেয়াদি ঋণ বাদ দিয়ে হিসাব করা হবে না। যদি চলতি বকেয়া বাদ দিয়েও নিসাব থাকে, তবে কোরবানি দিতে হবে। (সূত্র: জাদিদ ফিকহি মাসায়েল)
ঋণ করে কোরবানি দেয়া: কারো ওপর কোরবানি ওয়াজিব নয় (তিনি দরিদ্র বা ঋণগ্রস্ত), কিন্তু তিনি যদি লোকলজ্জার ভয়ে বা নিজের ইচ্ছায় ঋণ করে কোরবানি দেন, তবে কোরবানি আদায় হয়ে যাবে। তবে শরিয়তে সামর্থ্য না থাকলে ঋণ করে কোরবানি দিতে উৎসাহিত করে না। (সূত্র: ফাতাওয়া শামি ৬/৩১২)
পাওনা টাকা উসুল না হলে: আপনার কাছে কেউ মোটা অঙ্কের টাকা পায়, আবার আপনিও অনেকের কাছে টাকা পান। এই ক্ষেত্রে পাওনা টাকা উসুল হওয়ার প্রবল সম্ভাবনা থাকলে তা আপনার সম্পদের সাথে যোগ করে ঋণের টাকা বিয়োগ করতে হবে। এরপর নিসাব পরিমাণ থাকলে কোরবানি ওয়াজিব হবে।
আরআই/এমএ//