আন্তর্জাতিক

‘ককরোচ জনতা পার্টি’তে পাকিস্তান-বাংলাদেশ যোগসূত্র নিয়ে বিস্ফোরক দাবি

ছবি: ইন্ডিয়া টুডে

মাত্র এক সপ্তাহের ব্যবধানেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে নতুন রাজনৈতিক ব্যঙ্গাত্মক দল ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি)। যাত্রা শুরুর অল্প সময়ের মধ্যেই যেমন দলটি নজর কেড়েছে, তেমনি ঘিরে তৈরি হয়েছে নানা বিতর্ক ও অভিযোগের ঝড়।

ভারতের ক্ষমতাসীন দল বিজেপির একাধিক নেতার দাবি, সিজেপির ফলোয়ারদের বড় একটি অংশ ভারতের বাইরে থেকে এসেছে। তাদের অভিযোগ অনুযায়ী, প্রায় ৬৩ শতাংশ অনুসারী পাকিস্তান ও বাংলাদেশের নাগরিক। এমনকি দলটির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপককে পাকিস্তানের গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআই-এর সঙ্গে সম্পৃক্ত ‘গুপ্তচর’ বলেও আখ্যা দেয়া হয়েছে।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়া টুডে-এর প্রতিবেদনে বলা হয়, সিজেপির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপক গত ৭২ ঘণ্টায় প্রায় নিদ্রাহীন সময় পার করেছেন। ইনস্টাগ্রামে দলটির যাত্রা শুরুর এক সপ্তাহের মধ্যেই তারা অনুসারী সংখ্যায় ভারতের সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক দল বিজেপিকে ছাড়িয়ে যায়—ফলোয়ার সংখ্যা ২ কোটি ছাড়িয়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে।

এদিকে বিজেপির যুব মোর্চার সাধারণ সম্পাদক তাজিন্দর বাগ্গা এবং দলের মুখপাত্ররা অভিযোগ আরও জোরালো করে বলেন, সিজেপির অনুসারীদের বড় অংশ পাকিস্তানভিত্তিক। তারা দলটিকে ব্যঙ্গ করে “পাকিস্তান জনতা পার্টি” নামেও উল্লেখ করেন। বাগ্গা প্রকাশিত তথ্যে দাবি করা হয়, সিজেপির ইনস্টাগ্রাম ফলোয়ারদের মধ্যে প্রায় ৭৭ শতাংশই তিনটি দেশ থেকে এসেছে—এর মধ্যে পাকিস্তান ৪৯ শতাংশ, যুক্তরাষ্ট্র ১৪ শতাংশ এবং বাংলাদেশ ১৪ শতাংশ। ভারতের অবস্থান চতুর্থ, প্রায় ৯ শতাংশ ফলোয়ার নিয়ে।

বিজেপি নেত্রী প্রীতি গান্ধীও বিষয়টি নিয়ে প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বলেন, যাদের সবচেয়ে বড় সমর্থন সীমান্তের বাইরে, তারা আসলে কার প্রতিনিধিত্ব করছে—এ প্রশ্ন এখন ভাবার সময় এসেছে।

তবে ফলোয়ার সংখ্যা নিয়ে ইতোমধ্যে সন্দেহও প্রকাশ করেছেন কিছু ব্যবহারকারী।

তাদের দাবি, এসব অ্যাকাউন্টের একটি অংশ বট বা নিষ্ক্রিয় বিদেশি অ্যাকাউন্ট হতে পারে। এর বিপরীতে অভিজিৎ দীপকের বক্তব্য, এটি জেন-জি প্রজন্মের দ্রুত প্রতিক্রিয়া এবং গ্রহণযোগ্যতারই প্রতিফলন।

অন্যদিকে ইনস্টাগ্রামে ব্যাপক ফলোয়ার বৃদ্ধি পেলেও এক্স (সাবেক টুইটার) প্ল্যাটফর্মে তেমন বৃদ্ধি দেখা যায়নি। বরং সম্প্রতি ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারের নির্দেশে নিরাপত্তাজনিত কারণে সিজেপির এক্স অ্যাকাউন্ট বন্ধ করে দেয়া হয়।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস জানায়, গোয়েন্দা সংস্থা ইন্টেলিজেন্স ব্যুরোর (আইবি) সুপারিশের ভিত্তিতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যেখানে সিজেপিকে জাতীয় নিরাপত্তার জন্য উদ্বেগ হিসেবে উল্লেখ করা হয়।

অ্যাকাউন্টটি বন্ধ হওয়ার আগে সেখানে দুই লাখেরও বেশি ফলোয়ার ছিল। তবে কিছু সময় পরই অভিজিৎ দীপক নতুন একটি এক্স অ্যাকাউন্ট খুলে “ককরোচ ইজ ব্যাক” শিরোনামে আবারও সক্রিয় হন। অল্প সময়ের মধ্যেই সেই অ্যাকাউন্টেও এক লাখের বেশি ফলোয়ার যুক্ত হয়, যেখানে বিভিন্ন রাজনৈতিক ও পরিচিত ব্যক্তির অনুসারী থাকার কথাও উঠে এসেছে।

ফলোয়ারদের বড় অংশকে ‘পাকিস্তানি’ হিসেবে আখ্যা দেওয়ার অভিযোগের বিরোধিতা করে অভিজিৎ দীপক বলেন, একটি বড় অংশের অনুসারীকে ভুলভাবে অন্য দেশের নাগরিক বলা হচ্ছে, যা বাস্তবতা নয়।

এদিকে তার বিরুদ্ধে পুরোনো একটি অভিযোগও নতুন করে সামনে এসেছে, যেখানে দাবি করা হয় তিনি পাকিস্তান-সম্পর্কিত প্রচারণার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এবং গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআই-এর সঙ্গে সম্পর্কিত হতে পারেন—এমন অভিযোগ অতীতেও উঠেছিল। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে এখনো প্রকাশ্যে কোনো মন্তব্য করেননি অভিজিৎ দীপক।

 

এসি//

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন