১০০ দিনে তারেক রহমানের সরকার: মানুষের ভাগ্যের দৃশ্যমান পরিবর্তন
জনগণের ভোটে নির্বাচিত সরকার গত ১০০ দিনে মানবিক ও জনমুখী রাজনীতির এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। দীর্ঘ দুঃশাসনের পর, রক্তস্নাত জুলাই গণঅভ্যুত্থান এবং ১৬ বছরের ত্যাগ-সংগ্রামের গণতান্ত্রিক অভিযাত্রা পেরিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দূরদর্শী ও জনবান্ধব নেতৃত্বে দেশ আজ গভীর সংকট কাটিয়ে জনগণের ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করেছে।প্রথম ১০০ দিনেই জনগণের ভোটে নির্বাচিত সরকার লুণ্ঠিত রাষ্ট্রীয় মালিকানা জনগণের কাছে আবার ফিরিয়ে দিয়েছে; মজবুত করে চলেছে গণতন্ত্রের প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দৃশ্যমান যে পদক্ষেপ গ্রহণ করেছেন, তাতে মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন হয়েছে। সরকারের ১০০ দিন পূর্তি’ উপলক্ষ্যে সোমবার (২৫ মে) বিকেল ৩ টায় প্রধানমন্ত্রীর তেজগাঁও কার্যালয়ের ‘করবী’ হলে ‘সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন। প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইং এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে।
সংবাদ সম্মেলনে মাহদী আমিন আরো বলেছেন, ‘চলতি বছরের ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা লাভ করে এবং ১৭ ফেব্রুয়ারি বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন।’সরকার গঠনের প্রথম দিন থেকেই অগ্রাধিকারভিত্তিক নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে দ্রুত, দৃশ্যমান ও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। সে লক্ষ্যে প্রতিটি মন্ত্রণালয়ে বিষয়ভিত্তিক ও খাতনির্ভর ১৮০ দিনের কর্মপরিকল্পনা প্রণয়নের নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।
তিনি জানান, সামাজিক নিরাপত্তা, কৃষি, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কর্মসংস্থান, অর্থনীতি, প্রযুক্তি ও অবকাঠামোসহ বিভিন্ন খাতে সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগ দেশের মানুষের মধ্যে নতুন আশার সঞ্চার করেছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান অগ্রাধিকারভিত্তিক নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে দ্রুত, দৃশ্যমান ও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করেছেন। দায়িত্ব নেয়ার প্রথম মাসেই ‘ফ্যামিলি কার্ড’ চালু করে নারীকেন্দ্রিক সামাজিক নিরাপত্তা কার্যক্রম আরো শক্তিশালী করেছে সরকার। নির্বাচনী অঙ্গীকার অনুযায়ী ইমাম, মুয়াজ্জিন, খতিব এবং অন্যান্য ধর্মীয় প্রধানদের সম্মানি প্রদানের কার্যক্রম শুরু হয়েছে। এছাড়া প্রিপেইড বিদ্যুৎ মিটারের অতিরিক্ত মাসিক চার্জ প্রত্যাহার করা হয়েছে।
তিনি বলেন, ‘ক্ষুদ্র কৃষকদের জন্য ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ সুদসহ মওকুফ করা হয়েছে, যা সরকারের প্রথম ক্যাবিনেট বৈঠকেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। ‘কৃষক কার্ড’ চালুর মাধ্যমে কৃষি ব্যবস্থাপনাকে ডিজিটাল কাঠামোর আওতায় আনা হয়েছে।’
মাহদী আমিন বলেন, ‘দেশজুড়ে খাল খনন কর্মসূচি বাস্তবায়নের মাধ্যমে কৃষি, সেচ ও পানি ব্যবস্থাপনায় দীর্ঘমেয়াদি ইতিবাচক পরিবর্তনের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। পাশাপাশি দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে কৃষি, পানি ও পরিবেশ ব্যবস্থাপনায় সম্ভাবনা তৈরি করতে পদ্মা ব্যারেজ প্রকল্প বাস্তবায়নের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।’
সরকার গণমাধ্যম ও সাংবাদিকদের জন্য ‘সর্বোচ্চ স্বাধীনতা’ নিশ্চিত করতে কাজ করছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের এই মুখপাত্র জানান, তবে বাকস্বাধীনতার নামে অপপ্রচার, বিদ্বেষ বা বিষেদগারের রাজনীতি গণঅভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষার সঙ্গে সাংঘর্ষিক।
মাহদী আমিন আরো বলেন, ‘১৭ ফেব্রুয়ারি থেকে ২৪ মে পর্যন্ত মন্ত্রিসভার মোট ১০টি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। এসব বৈঠকে ৬০টি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে। এর মধ্যে ৩৭টি সিদ্ধান্ত বাস্তবায়িত হয়েছে এবং বাকি সিদ্ধান্তগুলো বাস্তবায়ন প্রক্রিয়ায় রয়েছে।’
প্রধানমন্ত্রীর এই উপদেষ্টা জানান, ‘শ্রমিকদের ঈদের আগে বেতন, ভাতা ও ঈদ বোনাস পরিশোধ নিশ্চিত করতে সরকার কার্যকর উদ্যোগ নিয়েছে। ব্যাংক, মালিকপক্ষ, শ্রমিক সংগঠন ও সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সঙ্গে ধারাবাহিক সমন্বয় করা হয়েছে।’
ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন করতে বিশেষ ট্রেন ও বিশেষ নৌ-সার্ভিস চালুর কথাও উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘নারীদের নিরাপদ ভ্রমণ নিশ্চিত করতে ট্রেনে আলাদা কম্পার্টমেন্টের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে এবং ঈদের সাত দিন আগে থেকে বিশেষ মনিটরিং সেল গঠন করা হয়েছে।’
‘কোরবানির পশুর বর্জ্য ৮ ঘণ্টার মধ্যে অপসারণ, চামড়ার ন্যায্যমূল্য নিশ্চিতকরণ এবং সঠিক সংরক্ষণে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এছাড়া হজযাত্রীদের বিমানভাড়া কমানো সম্ভব হয়েছে।’
‘টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়া পর্যন্ত ইকোনমিক করিডোর বাস্তবায়নের প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। আগামী ১৬ ডিসেম্বরের মধ্যে উদ্বোধনের লক্ষ্য নিয়ে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের থার্ড টার্মিনালের কাজ এগিয়ে চলছে। বিদেশে উচ্চশিক্ষার জন্য ব্যাংক গ্যারান্টি সুবিধা সম্প্রসারণ, বিমানবন্দর ও ট্রেনে হাই-স্পিড ফ্রি ওয়াই-ফাই চালু এবং তরুণদের জন্য স্পোর্টস ও নতুন কুঁড়ি কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে।’
স্বাস্থ্য খাতে সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগ তুলে ধরে মাহদী আমিন বলেন, ‘হামের টিকা এনে প্রায় শতভাগ শিশুকে টিকাদানের আওতায় আনা হয়েছে এবং মাতৃত্বকালীন ছুটি উন্নীত করা হয়েছে। পাশাপাশি পর্যায়ক্রমে স্বাস্থ্য খাতে জিডিপির ৫ শতাংশ বরাদ্দ নিশ্চিতের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।’
শিশু রামিসার ঘটনায় সরকারের অবস্থানের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও আইনমন্ত্রী পরিবারের সদস্যদের বাসায় গিয়ে সহমর্মিতা প্রকাশ করেছেন এবং দ্রুত বিচার নিশ্চিতের প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন। ইতোমধ্যেই এ ঘটনায় চার্জশিট দাখিল করা হয়েছে। যত দ্রুত সম্ভব সর্বোচ্চ বিচার নিশ্চিত করা হবে।’
এসময় তিনি উল্লেখ করেন, ‘মেহেরপুরে ৯ বছর বয়সি এক শিশুকে ধর্ষণের দায়ে এক আসামিকে ২৯ কার্যদিবসের মধ্যে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে, যা দ্রুত বিচার নিশ্চিতের ক্ষেত্রে একটি বিরল নজির।’
প্রধানমন্ত্রীর মানবিক দিক তুলে ধরে মাহদী আমিন জানান, ‘এখন ভুক্তভোগীরা প্রধানমন্ত্রীর কাছে যান না; বরং প্রধানমন্ত্রীই জনগণের দুয়ারে পৌঁছে যাচ্ছেন। তিনি মানুষের কথা শুনছেন, দুঃখ-কষ্টে পাশে দাঁড়াচ্ছেন এবং সাহস ও সহমর্মিতার হাত বাড়িয়ে দিচ্ছেন।’
তিনি জানান, ‘বাংলাদেশি পাসপোর্টে আবারো ‘ইসরায়েল ব্যতীত’ শব্দবন্ধ যুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে ২০৩৪ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে উন্নীত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এস আলম গ্রুপের ৪ হাজার ২৬৪ কোটি টাকার স্থাবর সম্পদ জব্দ করা হয়েছে। এছাড়া বিদেশে পাচার হওয়া অর্থ দেশে ফিরিয়ে আনতে কয়েকটি দেশের সঙ্গে চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে।’
‘গত মাসে দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ রেমিট্যান্স এসেছে এবং প্রবাসীদের পাঠানো মাসিক রেমিট্যান্স প্রায় ৩ দশমিক ৭৫ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। প্রবাসী কার্ড চালুর উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে।’
মাহদী আমিন বলেন, ‘প্রায় ২ লাখ ফ্রিল্যান্সারকে রাষ্ট্রীয় পরিচয়পত্র দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বন্ধ কলকারখানা পুনরায় চালু এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে ৬০ হাজার কোটি টাকার বিশেষ তহবিল ঘোষণা করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী নিজেকে কোনো দূরবর্তী ক্ষমতাধর ব্যক্তি হিসেবে নয়, বরং গণমানুষের প্রতিনিধি ও সমাজের একজন সাধারণ মানুষ হিসেবেই প্রমাণ করছেন।’
সংবাদ সম্মেলনের শুরুতে মাহদী আমিন পবিত্র ঈদুল আজহার অগ্রিম শুভেচ্ছা জানান এবং লিখিত বক্তব্য শেষে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন।
প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন, প্রধানমন্ত্রীর স্পিচ রাইটার এস এ এম মাহফুজুর রহমান, ডেপুটি প্রেস সেক্রেটারি জাহিদুল ইসলাম রনি, মোস্তফা জুলফিকার হাসান, মো. সুজাউদ্দৌলা (সুজন মাহমুদ), শাহাদাৎ হোসেন স্বাধীন সহ প্রেস উইংয়ের অন্যান্য সদস্যরা সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন।
আর/আই