‘রাষ্ট্রের ভেতরে আরেক রাষ্ট্র’ তৈরি হয়েছিল জঙ্গল সলিমপুরে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
মঙ্গলবার (২৬ মে) পুলিশ সদর দফতরের কন্ট্রোল রুম পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এসব কথা বলেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, সীমান্তে কিছু বিচ্ছিন্ন ঘটনা ঘটলেও দেশে বড় ধরনের অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরি হয়নি।
তিনি জানান, র্যাব ও পুলিশ একাডেমি নির্মাণ সংক্রান্ত খবরে ক্ষুব্ধ হয়ে সন্ত্রাসীরা হামলা চালিয়েছে। তবে অপরাধীদের কোনোভাবেই ছাড় দেওয়া হবে না এবং সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে সরকারের জিরো টলারেন্স নীতি অব্যাহত রয়েছে।
এদিকে, জাতীয় ঈদগাহে ঈদের জামাতের নিরাপত্তা ব্যবস্থা পর্যবেক্ষণকালে র্যাবের মহাপরিচালক আহসান হাবীব পলাশ স্বীকার করেন, চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের দুর্গম জঙ্গল সলিমপুরে ইয়াসিন বাহিনীর হামলার ঘটনাটি আগে থেকে যথাযথভাবে মনিটর করতে না পারার ক্ষেত্রে কিছু দুর্বলতা ছিল।

এর আগে পুলিশ জানায়, জঙ্গল সলিমপুর এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে যৌথ বাহিনী একাধিক ক্যাম্প স্থাপন করেছিল। রোববার (২৪ মে) দিবাগত রাতে একদল সন্ত্রাসী ওই ক্যাম্প লক্ষ্য করে গুলি চালায়। পরে যৌথ বাহিনী পাল্টা প্রতিরোধ গড়ে তোলে। এর আগেই হামলাকারীরা একটি ক্যাম্প বুলডোজার দিয়ে ভেঙে দেয়। প্রাথমিকভাবে পুলিশের ধারণা, এই হামলার সঙ্গে ইয়াসিন বাহিনী জড়িত।
স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে জঙ্গল সলিমপুর এলাকায় সন্ত্রাসীদের নিয়ন্ত্রণ ছিল এবং এলাকাটি কার্যত ‘রাষ্ট্রের ভেতরে আরেক রাষ্ট্র’ হিসেবে পরিচিত ছিল। সম্প্রতি যৌথ অভিযান চালিয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এলাকাটির নিয়ন্ত্রণ নেয়। তবে সন্ত্রাসীরা সড়ক কেটে আলীনগরের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করার চেষ্টা করে।
গত ৯ মার্চ সেনাবাহিনী, র্যাব, পুলিশ ও বিজিবির প্রায় ৩ হাজার ২০০ সদস্যের সমন্বয়ে একটি বড় ধরনের যৌথ অভিযান পরিচালিত হয়। ওই অভিযানে ২২ জন অপরাধীকে গ্রেফতার করা হলেও মূল হোতারা এখনো ধরাছোঁয়ার বাইরে রয়েছে।
পরবর্তীতে এলাকায় আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে স্থায়ী চৌকি স্থাপন করা হয় এবং সরকার সেখানে একটি আধুনিক পুলিশ ট্রেনিং একাডেমি নির্মাণের পরিকল্পনা নেয়। গত ১৭ মে চট্টগ্রামের নবনিযুক্ত পুলিশ সুপার মাসুদ আলম এ তথ্য জানান।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মূল সন্ত্রাসী ও ভূমিদস্যু গডফাদারদের নির্দেশেই সাম্প্রতিক হামলার ঘটনা ঘটেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বর্তমানে পুরো এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে এবং সন্ত্রাসীদের গ্রেফতারে যৌথ বাহিনীর চিরুনি অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
এসি//