বিনোদন

ক্ষমতায় এক মাস: প্রতিশ্রুতি পূরণের চাপে থালাপাতি সরকার

ছবি: সংগৃহীত

তামিলনাড়ুর নবম মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার এক মাস পার করেছেন দক্ষিণী সিনেমার জনপ্রিয় তারকা ও তামিলাগা ভেত্রি কাজাগামের (টিভিকে) প্রধান থালাপতি বিজয়। গেল ১০ মে চেন্নাইয়ে রাজ্যপালের সামনে শপথ নেওয়ার পর তার রাজনৈতিক যাত্রা ঘিরে সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা ছিল ব্যাপক। তবে ক্ষমতায় বসার কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই নির্বাচনী অঙ্গীকার বাস্তবায়ন নিয়ে চাপের মুখে পড়েছে তার সরকার।

নির্বাচনের আগে দুর্নীতি দমন, প্রশাসনিক সংস্কার, জনকল্যাণমূলক কর্মসূচি পুনরুজ্জীবনসহ নানা প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন বিজয়। এখন প্রশ্ন উঠছে, প্রথম এক মাসে সেই প্রতিশ্রুতিগুলোর কতটা বাস্তবে রূপ নিতে পেরেছে নতুন সরকার।

ক্ষমতা গ্রহণের পর বিজয় সরকারের আলোচিত পদক্ষেপগুলোর একটি হলো সরকারি অবকাঠামো প্রকল্পে ঘুষ ও কমিশন বাণিজ্য বন্ধের ঘোষণা। ঠিকাদারি খাতে দীর্ঘদিনের সিন্ডিকেট ভাঙতে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি নেওয়ার কথা জানিয়েছে প্রশাসন।

ঠিকাদার অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি গুণামণি প্রকাশ্যেই বলেছেন, নতুন সরকারের পক্ষ থেকে ঠিকাদারদের মন্ত্রী বা সরকারি কর্মকর্তাদের ঘুষ না দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এই অবস্থানকে বিজয় সরকারের রাজনৈতিকভাবে সাহসী পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন অনেকে।

জনকল্যাণমূলক কর্মসূচির ক্ষেত্রেও কিছু উদ্যোগ নিয়েছে নতুন প্রশাসন। দায়িত্ব নেওয়ার দুই সপ্তাহের মধ্যে তামিলনাড়ু জুড়ে চালু থাকা ৬২০টি ‘আম্মা উনবাগম’ ক্যান্টিন সংস্কারের নির্দেশ দেন মুখ্যমন্ত্রী বিজয়। এর মধ্যে চেন্নাই করপোরেশনের অধীনে রয়েছে ৩৮৩টি ক্যান্টিন, আর অন্যান্য পৌরসভা ও টাউন পঞ্চায়েতের অধীনে রয়েছে ২৩৭টি।

এর পাশাপাশি প্রায় ৩৫টি খাতকে সামনে রেখে ৪৩৬টি প্রশাসনিক রূপরেখা নিয়ে তৈরি করা হয়েছে ‘ভেতরি তামিলাগাম ভিশন ডকুমেন্ট’। দুর্নীতির বিরুদ্ধে অবস্থান স্পষ্ট করে বিজয় বলেছেন, দুর্নীতিতে জড়িত কেউ নিজের দলের হলেও ছাড় পাবে না।

তবে থালাপাতি সরকারের প্রথম মাসটি একেবারে মসৃণ ছিল না। সরকার গঠনের পরপরই একজন জ্যোতিষীকে অফিসার অন স্পেশাল ডিউটি হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার সিদ্ধান্তে বিতর্ক তৈরি হয়। বিরোধী দল তো বটেই, সরকারি জোটের ভেতর থেকেও এ নিয়ে সমালোচনা ওঠে। 

এরপর কাঞ্চিপুরামের একটি ওয়াটার ট্যাংক প্রকল্পের টেন্ডার নিয়েও প্রশ্ন ওঠে। অভিযোগ করা হয়, দরপত্র জমার জন্য মাত্র ছয় ঘণ্টা সময় দিয়ে নির্দিষ্ট ঠিকাদারকে সুবিধা দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছিল। সমালোচনার মুখে পরে সেই টেন্ডার বাতিল করা হয়।

বিরোধী ডিএমকে নেতা উদয়নিধি স্টালিন এসব ঘটনায় বিজয়কে কটাক্ষ করে বলেন, প্রশাসনিক অভিজ্ঞতার ঘাটতির অজুহাতে এমন ভুল আড়াল করা যায় না।

এদিকে ১ জুন ত্রিচিতে মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পর বিজয়ের প্রথম রাজনৈতিক সমাবেশ নিয়েও বিতর্ক তৈরি হয়। সেখানে সুশাসন ও কর্মপরিকল্পনার চেয়ে ডিএমকে ও এআইএডিএমকের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক আক্রমণ বেশি গুরুত্ব পেয়েছে বলে সমালোচনা করেন বিরোধীরা।

 

পিডি/এমএ//

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন