‘তিন কেজি সবজি বিক্রি করেও এক কেজি সারের দাম উঠছে না’
পাবনার ঈশ্বরদীতে উৎপাদিত সবজির ন্যায্য দাম না পেয়ে বিপাকে পড়েছেন কৃষকরা। বাজারে সবজির সরবরাহ বেশি থাকলেও পাইকারি দামে বড় ধস নামায় উৎপাদন খরচ তুলতেই হিমশিম খাচ্ছেন তারা। অনেক কৃষক বলছেন, জমি, বীজ, সার, কীটনাশক ও শ্রমিকের খরচ মেটানোর পর সবজি বিক্রি করে তাদের হাতে কিছুই থাকছে না।
ঈশ্বরদী উপজেলার চরগড়গড়ি আলহাজ মোড় পাইকারি সবজি হাটে গিয়ে দেখা যায়, ভোরের আলো ফোটার আগেই শুরু হয় বেচাকেনা। আশপাশের বিভিন্ন এলাকা থেকে কৃষকরা ঝিঙা, করলা, ঢেঁড়স, পটল, বেগুন, মূলা, লাউসহ নানা ধরনের সবজি নিয়ে হাটে আসেন। সেখান থেকে আড়তদার ও ব্যবসায়ীরা সবজি কিনে ট্রাকে করে দেশের বিভিন্ন জেলায় পাঠান।
ঈদের আগে বাজারে সবজির দাম তুলনামূলক বেশি থাকলেও এখন পাইকারি বাজারে বেশিরভাগ সবজিই বিক্রি হচ্ছে খুব কম দামে। কৃষকদের ভাষায়, পানির দামের চেয়েও কম দামে সবজি ছাড়তে হচ্ছে তাদের। যেখানে এক লিটার পানির দাম ৩০ থেকে ৩৫ টাকা, সেখানে পাইকারি হাটে অনেক সবজি বিক্রি হচ্ছে ৮ থেকে ২৫ টাকা কেজি দরে।
হাটে ফুলকপি বিক্রি হচ্ছে ২৫ টাকা কেজি, মূলা ৮ টাকা, ঝিঙা ২৪ টাকা, চিচিঙ্গা ১২ টাকা, করলা ১৮ টাকা, ঢেঁড়স ৮ টাকা, পটল ২০ টাকা, বেগুন ৩০ টাকা এবং বরবটি ৩০ টাকা কেজি দরে। এছাড়া লাউ ২৫ টাকা এবং চালকুমড়া ১৬ টাকা পিস বিক্রি হচ্ছে।
ব্যবসায়ীরা জানায়, বাজারে সরবরাহ বেশি থাকায় রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় সবজির দাম কমেছে। লোকসানের আশঙ্কায় অনেক আড়তদার আগের মতো বেশি সবজি কিনছেন না। আবার কিছু ব্যবসায়ী এখন সবজির বদলে মৌসুমি ফল—লিচু, আম ও কাঁঠাল বিক্রিতে ঝুঁকেছেন। এতে স্থানীয় হাটে সবজির চাহিদা আরও কমেছে।
তবে কৃষকদের অভিযোগ, বাজারদর কমলেও উৎপাদন খরচ কমেনি। বরং জমির খাজনা, শ্রমিকের মজুরি, বীজ, সার ও কীটনাশকের দাম বেড়ে যাওয়ায় তারা বড় ধরনের লোকসানের মুখে পড়ছেন।
কৃষক মাহাতাব আলী বলেন, জমির খাজনা, শ্রমিকের মজুরি ও বীজের দাম বাড়ায় চাষাবাদে খরচ অনেক বেড়েছে। এত টাকা খরচ করে সবজি চাষ করার পর এখন সেই সবজির দামই পাওয়া যাচ্ছে না। তিনি বলেন, “আমরা কৃষকরা মরে শেষ।”
আরেক কৃষক মিনহাজ উদ্দিন বলেন, তিন কেজি ঝিঙা বিক্রি করেও এক কেজি পতেঙ্গা সারের দাম উঠছে না। জমির খাজনা, সার ও বীজের দাম বেশি হওয়ায় সবজি বিক্রি করে কৃষকদের হাতে কিছুই থাকছে না। এ অবস্থায় সরকারের সহায়তা প্রয়োজন বলে জানান তিনি।
কৃষক জসিম উদ্দিন বলেন, এক বিঘা খাজনা নেওয়া জমিতে মূলা চাষ করতে প্রায় ৬০ থেকে ৭০ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। অথচ সেই মূলা এখন ৮ টাকা কেজি দরে বিক্রি করতে হচ্ছে। এমন পরিস্থিতি চলতে থাকলে অনেক কৃষক চাষাবাদ থেকে মুখ ফিরিয়ে নিতে বাধ্য হবেন।
কৃষকদের দাবি, সার, বীজ ও কীটনাশকের দাম কমানো হলে কম দামে সবজি বিক্রি করেও লোকসান কিছুটা কমানো সম্ভব হবে।
চরগড়গড়ি আলহাজ মোড় হাটের ইজারাদার আব্দুস সালাম বাচ্চু জানান, এ হাটে প্রতিদিন প্রায় ৩০ লাখ টাকার সবজি বিক্রি হয়। শীত মৌসুমে বিক্রির পরিমাণ আরও বেশি থাকে। প্রতিদিন প্রায় ২০ থেকে ২৫ ট্রাক সবজি এখান থেকে দেশের বিভিন্ন স্থানে পাঠানো হয়।
এমএ//