মাগুরায় দেড় মাসের কন্যাশিশু বিক্রি, মাকে বলা হয় ‘জিন-পরী নিয়ে গেছে’
মাগুরায় আর্থিক সংকটের কারণে নিজের দেড় মাস বয়সী কন্যাশিশুকে গোপনে বিক্রি করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে বাবার বিরুদ্ধে। ঘটনাটি আড়াল করতে তিনি স্ত্রীকে জানান, শিশুটিকে ‘জিন-পরী নিয়ে গেছে’। এমনকি বিষয়টি বিশ্বাসযোগ্য করতে বাড়িতে ওঝা-কবিরাজ ডেকে ঝাড়ফুঁকের ব্যবস্থাও করেন। তবে পুলিশের তদন্তে পুরো ঘটনা সামনে আসে এবং ২২ দিন পর শিশুটিকে উদ্ধার করে মায়ের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া হয়।
মাগুরা সদর উপজেলার বেরইল পলিতা ইউনিয়নে এ ঘটনা ঘটেছে। বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) রাত আটটায় মাগুরার পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার মোল্লা আজাদ হোসেন এ তথ্য জানান।
পুলিশ সূত্রে জানাগেছে, সদর উপজেলার বেরইল পলিতা ইউনিয়নের রামদেরগাতী গ্রামের বাসিন্দা সাগর হোসেন গত ২৭ মে ঈদুল আজহার আগের দিন তার নবজাতক কন্যা টুকটুকিকে ২৫ হাজার টাকার বিনিময়ে অন্য এক দম্পতির কাছে হস্তান্তর করেন। একটি স্ট্যাম্পে লিখিত চুক্তির মাধ্যমে এই লেনদেন সম্পন্ন হয় বলে জানা গেছে। এ ঘটনায় কয়েকজন মধ্যস্থতাকারীও জড়িত ছিলেন।
তদন্তে জানা যায়, শিশুটিকে হস্তান্তরের সময় সাগর ক্রেতা দম্পতির কাছে ভিন্ন পরিচয় ব্যবহার করেন। তিনি দাবি করেন, তার স্ত্রী ক্যানসারে আক্রান্ত এবং চিকিৎসার খরচ জোগাতেই সন্তানকে দত্তক দেওয়া হচ্ছে। অন্যদিকে নিজের স্ত্রী তানজিলা খাতুনকে তিনি জানান, শিশুটিকে অলৌকিকভাবে ‘জিন-পরী’ নিয়ে গেছে এবং পরে ফিরিয়ে আনার আশ্বাস দিয়ে বিষয়টি দীর্ঘদিন গোপন রাখেন।
কয়েক সপ্তাহ পেরিয়ে গেলেও সন্তানকে ফিরে না পেয়ে সন্দেহের সৃষ্টি হলে তানজিলা খাতুন স্থানীয় পুলিশকে বিষয়টি জানান। পরে তথ্যপ্রযুক্তি ও গোপন তথ্যের ভিত্তিতে বৃহস্পতিবার সদর উপজেলার দক্ষিণ বীরপুর এলাকা থেকে শিশুটিকে উদ্ধার করা হয়। সে সময় শিশুটি শাহাবুর ও মনিরা দম্পতির কাছে ছিল বলে পুলিশ জানায়।
মাগুরার পুলিশ সুপার মোল্লা আজাদ হোসেন জানান, দারিদ্র্য কোনোভাবেই সন্তান বিক্রির বৈধ কারণ হতে পারে না। এটি একটি গুরুতর অপরাধ। শিশুটিকে কেনার পেছনে অন্য কোনো উদ্দেশ্য ছিল কি না, সে বিষয়েও তদন্ত চলছে।
এ ঘটনায় শিশুটির বাবা, ক্রেতা দম্পতি এবং লেনদেনে সহায়তাকারীদের পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।
এদিকে শিশুটির মা তানজিলা খাতুন জানান, পারিবারিক আর্থিক সংকট ও তার শারীরিক অসুস্থতার কারণে স্বামী এমন সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকতে পারেন। তবে তার ভাষ্যমতে, “যত কষ্টই হোক, কোনো মা তার সন্তানকে অন্যের হাতে তুলে দিতে চান না।
পি/ডি