ভেনেজুয়েলায় ভূমিকম্পে নিহত বেড়ে ১৭১৯
ভেনেজুয়েলায় পরপর দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্পের কয়েক দিন পেরিয়ে গেলেও এখনও শেষ হয়নি উদ্ধার অভিযান। এখন পর্যন্ত ভূমিকম্পে প্রাণ হারিয়েছেন অন্তত ১ হাজার ৭১৯ জন। দেশটির অন্তর্বর্তীকালীন প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজ এই দুর্যোগকে দেশের ইতিহাসের সবচেয়ে ভয়াবহ প্রাকৃতিক বিপর্যয় হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
এদিকে, বহু এলাকায় পর্যাপ্ত সহায়তা পৌঁছাতে না পারায় ধ্বংসস্তূপে আটকে পড়াদের উদ্ধারে স্থানীয় বাসিন্দারাই সবচেয়ে বড় ভরসা হয়ে উঠেছেন। এতে জীবিতদের খুঁজে পাওয়ার সম্ভাবনা ভাগ্যের ওপর নির্ভর করছে।
মঙ্গলবার (৩০ জুন) প্রকাশিত বিবিসির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত অঞ্চলগুলোর একটি লা গুয়াইরা বন্দরে স্বজন ও প্রতিবেশীদের খুঁজতে বাসিন্দারা শাবল, কোদাল ও হাতুড়ি নিয়ে নিজেরাই উদ্ধারকাজ চালাচ্ছেন। এখনও হাজারো মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন।
সোমবার (২৯ জুন) ভোরে আরও একটি আফটারশক অনুভূত হলেও নতুন করে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি।
আন্তর্জাতিক সহায়তা পৌঁছাতে শুরু করলেও গুরুত্বপূর্ণ সময় পেরিয়ে যাওয়ায় জীবিতদের উদ্ধারের আশা ক্রমেই ক্ষীণ হচ্ছে। তবে এর মধ্যেও সোমবার ভোরে ধ্বংসস্তূপের নিচে ১০০ ঘণ্টার বেশি সময় আটকে থাকা ২১ বছর বয়সী এক যুবককে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে।
বিবিসির তথ্য অনুযায়ী, বুধবার উত্তরাঞ্চলের লা গুয়াইরা রাজ্যে মাত্র ৩৯ সেকেন্ডের ব্যবধানে ৭ দশমিক ২ এবং ৭ দশমিক ৫ মাত্রার দুটি ভূমিকম্প আঘাত হানে। এতে প্রায় ৮০০ ভবন ধসে পড়ে। পরে সোমবার কারাকাস ও লা গুয়াইরায় ৪ দশমিক ৬ মাত্রার আরেকটি আফটারশক অনুভূত হয়।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় পুলিশ ও সেনাবাহিনীর উপস্থিতি থাকলেও উদ্ধার তৎপরতায় তাদের সক্রিয় ভূমিকা খুব একটা চোখে পড়েনি।
কারাকাসের পশ্চিমাঞ্চলের পাহাড়ি এলাকা এল জুনকুইতোর বাসিন্দারাও রয়টার্সকে জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তাদের উপস্থিতি ছিল সীমিত। ফলে স্থানীয় কৃষক ও সাধারণ মানুষের দেওয়া খাদ্য ও নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রীই দুর্গতদের প্রধান সহায়তা হয়ে উঠেছে।
অবশ্য অন্তর্বর্তীকালীন প্রেসিডেন্ট দাবি করেছেন, ২৫ হাজারের বেশি জরুরি কর্মী, পুলিশ ও সেনাসদস্য ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তায় কাজ করছেন। বর্তমান পরিস্থিতিতে প্রতিটি জীবন বাঁচানোই তাদের কাছে সবচেয়ে বড় সাফল্য।
রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, নিরাপত্তা পরিস্থিতি মূল্যায়নে রঙভিত্তিক সতর্কতা ব্যবস্থা চালু করা হবে। সেই মূল্যায়নের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে, কোন এলাকার মানুষ নিজ নিজ বাড়িতে ফিরতে পারবেন। পাশাপাশি বাস্তুচ্যুতদের জন্য অস্থায়ী আশ্রয়শিবিরও প্রস্তুত করা হচ্ছে।
জাতিসংঘের আবাসিক মানবিক সমন্বয়কারী জিয়ানলুকা রামপোলা দেল তিনদারো জানিয়েছেন, মূল ভূমিকম্পের পর এখন পর্যন্ত ৫০০টিরও বেশি পরাঘাত হয়েছে। এতে অন্তত ২ হাজার ৫০০ স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যার অধিকাংশই সম্পূর্ণ ধসে পড়েছে।
তিনি আরও জানান, জাতিসংঘ উদ্ধার অভিযানের অংশ হিসেবে ১০ হাজার মৃতদেহ সংরক্ষণের ব্যাগ সংগ্রহ করছে। আশঙ্কা করা হচ্ছে, নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।
সূত্র: বিবিসি
পি/ডি