‘আমেরিকার মৃত্যু’ ও ‘প্রতিশোধ’ স্লোগানে মুখর তেহরান
ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির রাষ্ট্রীয় জানাজা ও দাফন অনুষ্ঠান ঘিরে রাজধানী তেহরানে শোকের পাশাপাশি প্রতিশোধের আহ্বানও জোরালোভাবে উচ্চারিত হচ্ছে। রাজধানীর ইমাম খোমেনি গ্র্যান্ড মোসাল্লা ধর্মীয় কমপ্লেক্সে সমবেত হাজারো মানুষের কণ্ঠে ধ্বনিত হচ্ছে ‘আমেরিকার মৃত্যু’ এবং ‘প্রতিশোধ, প্রতিশোধ’ স্লোগান।
বার্তা সংস্থা এএফপির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জানাজায় অংশ নেওয়া অনেকের হাতে লাল পতাকা ও ব্যানার দেখা গেছে, যা ইরানে প্রতিশোধের প্রতীক হিসেবে বিবেচিত হয়। খামেনির কফিন আনার অপেক্ষায় হাজার হাজার মানুষ গ্র্যান্ড মোসাল্লার প্রাঙ্গণে জড়ো হন।
ভোর থেকেই ইমাম খোমেনি গ্র্যান্ড মোসাল্লা কমপ্লেক্স ও আশপাশের এলাকায় মানুষের ঢল নামে। একই সময়ে রাজধানীর বিভিন্ন মেট্রো স্টেশনের বাইরে হাজারো শোকাহত মানুষকে অপেক্ষা করতে দেখা যায়। মেট্রো চালু হওয়ার পর তারা দ্রুত গ্র্যান্ড মোসাল্লার উদ্দেশে রওনা হন, যাতে শেষ বিদায় অনুষ্ঠানে অংশ নিতে পারেন।

এর আগে ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে প্রচারিত ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, গ্র্যান্ড মোসাল্লায় সমবেত মানুষের সামনে আলী খামেনির কফিনের পাশাপাশি তার নিহত পরিবারের সদস্যদের কফিনও উন্মুক্ত করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, ৮৬ বছর বয়সী আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ সামরিক হামলায় নিহত হন। ওই হামলায় তার পরিবারের কয়েকজন সদস্যও প্রাণ হারান।
গত মার্চে তার দাফন হওয়ার কথা থাকলেও যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে চলমান সংঘাতের কারণে তা স্থগিত করা হয়। যুদ্ধবিরতির পর প্রায় চার মাস পর রাষ্ট্রীয়ভাবে তার জানাজা ও দাফনের আয়োজন করা হচ্ছে। সাত দিনব্যাপী এই কর্মসূচি শুরু হয়েছে শুক্রবার (০৩ জুলাই)।
খামেনির শেষ বিদায় অনুষ্ঠানে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রীয় প্রতিনিধি ও আন্তর্জাতিক সংস্থার কর্মকর্তারাও অংশ নিয়েছেন। ইরানি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ইরাক, পাকিস্তান, আফগানিস্তান, আর্মেনিয়া, তুরস্ক, সৌদি আরব, কাতার, ওমান, ইয়েমেন ও মিসরসহ বিভিন্ন দেশের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরা অনুষ্ঠানে উপস্থিত রয়েছেন।
এ ছাড়া রাশিয়া, চীন, ভারত, বাংলাদেশ, মালয়েশিয়া, বেলারুশ, জর্জিয়া, সার্বিয়া, তুর্কমেনিস্তান, উজবেকিস্তান, কাজাখস্তান, কিরগিজস্তান, মিয়ানমার, বুরকিনা ফাসো, কঙ্গো প্রজাতন্ত্র, নামিবিয়া ও নিকারাগুয়ার প্রতিনিধিরাও জানাজায় অংশ নিয়েছেন।
পাশাপাশি সাংহাই সহযোগিতা সংস্থা (এসসিও), ইসলামি সহযোগিতা সংস্থা (ওআইসি) ও ডেভেলপিং-৮ (ডি-৮)-এর প্রতিনিধিদের পাশাপাশি ফিলিস্তিনি ইসলামিক জিহাদ, হিজবুল্লাহ, ইয়েমেনের বিভিন্ন গোষ্ঠী, লেবাননের রাজনৈতিক দল এবং বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্রতিনিধিদলও খামেনির প্রতি শেষ শ্রদ্ধা জানাতে তেহরানে অবস্থান করছেন।
সূত্র: আল জাজিরা
এসি//