খামেনির দাফনে নজর কাড়ল কফিনের ওপর আরবি লেখা
ইরানের সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির প্রতি সর্বসাধারণের শ্রদ্ধা নিবেদনের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়েছে। শনিবার (৪ জুলাই) রাজধানী তেহরানের গ্র্যান্ড মোসাল্লা ধর্মীয় কমপ্লেক্সে এ কর্মসূচি শুরু হওয়ার পর সেখানে এবং আশপাশের সড়কে লাখো মানুষের ঢল নামে।
ইরানের আধা সরকারি সংবাদমাধ্যম তাসনিম নিউজ এজেন্সি জানিয়েছে, প্রয়াত নেতাকে শেষ শ্রদ্ধা জানাতে রাজধানীতে বিপুলসংখ্যক মানুষ সমবেত হয়েছেন। জনসমাগম সামাল দিতে এবং অংশগ্রহণকারীদের প্রবেশের সুযোগ করে দিতে গ্র্যান্ড মোসাল্লার প্রধান ফটক সাধারণ মানুষের জন্য খুলে দেওয়া হয়েছে।
রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় আয়োজিত এ শ্রদ্ধা নিবেদন কর্মসূচিতে অংশ নিতে ভোর থেকেই বিভিন্ন এলাকা থেকে মানুষ অনুষ্ঠানস্থলে আসতে শুরু করেন। দিন বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে গ্র্যান্ড মোসাল্লা ও এর আশপাশের এলাকা মানুষের উপস্থিতিতে লোকে লোকারণ্য হয়ে ওঠে।
খামেনির কফিনে আরবি হরফে লেখা দেখা যায়- ‘صلى الله عليك يا أبا عبد الله’। যার বাংলা অনুবাদ হলো- ‘আল্লাহ আপনার ওপর রহমত বর্ষণ করুন, ইয়া আবা আবদিল্লাহ (হে আব্দুল্লাহর পিতা)।
‘আবু আবদিল্লাহ’ হলো- ইমাম হুসাইন (রা.) এর প্রসিদ্ধ একটি উপাধি। ইরানের শিয়া ধর্মাবলম্বীরা তাদের রাষ্ট্রীয় বা সামরিক জানাজা, শোকানুষ্ঠান কিংবা আশুরা-সংক্রান্ত অনুষ্ঠানে এই ধরনের বাক্য ব্যবহার করে থাকেন। তা ছাড়া শিয়া ঐতিহ্যে কারবালার স্মরণে এই বাক্যটি খুবই প্রচলিত।
এদিকে আলি খামেনির দাফন অনুষ্ঠানে ভক্তদের হাতে বিপুলসংখ্যক লাল পতাকা দেখা গেছে। এ ধরনের পতাকা তার দাফন প্রক্রিয়ায় বিশেষ অর্থ বহন করছে।
দেশটির বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) অনুষ্ঠান চলাকালে কোনো ধরনের হামলা হলে তার কঠোর জবাব দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে।
তেহরান বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক মোহাম্মদ এসলামি বলেন, খামেনির দাফন প্রক্রিয়ায় এ ধরনের পতাকা বিশেষ অর্থ বহন করছে। এর মাধ্যমে ভক্তরা সরকারের কাছে সর্বোচ্চ নেতার হত্যার প্রতিশোধ নেওয়ার আহ্বান জানাচ্ছেন।
তিনি বলেন, যারা তাদের সর্বোচ্চ নেতাকে হত্যা করেছে, তাদের বিরুদ্ধে প্রতিশোধ নিতে ভক্তরা ইরান সরকারকে আহ্বান জানাচ্ছেন।
এসি//