গোলমেশিন আর্লিং হলান্ডের হৃদয়হরণকারী কে?
বিশ্ব ফুটবলের সবচেয়ে আলোচিত তারকাদের একজন আর্লিং হলান্ড। মাঠে তার গোল, গতি আর দুর্দান্ত ফিনিশিং নিয়ে যতটা আলোচনা হয়, ব্যক্তিজীবন নিয়েও ভক্তদের কৌতূহল কম নয়। তবে খ্যাতির ঝলকানির বাইরে ব্যক্তিগত জীবনকে সবসময় আড়ালেই রাখতে পছন্দ করেন ম্যানচেস্টার সিটি ও নরওয়ে জাতীয় দলের এই তারকা স্ট্রাইকার।
পঁচিশ বছর বয়সী হলান্ডের জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মানুষদের একজন তার স্বদেশি সঙ্গী ইসাবেল হগসেং ইয়োহানসেন। দীর্ঘদিন ধরে সম্পর্কে থাকলেও তাদের বিয়ের বিষয়ে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসেনি। তবে সময়ের সঙ্গে তাদের সম্পর্ক যে আরও গভীর হয়েছে, সেটি স্পষ্ট। কৈশোরের পরিচয় থেকে শুরু হওয়া সেই বন্ধন আজ একটি ছোট্ট পরিবারে রূপ নিয়েছে।
একই শহর, একই ক্লাব, একই স্বপ্ন
হলান্ড ও ইসাবেলের গল্পের শুরু নরওয়ের ছোট্ট শহর ব্রাইনে। দুজনের জন্ম একই শহরে। শুধু তাই নয়, ছোটবেলায় একই ক্লাব ব্রাইন এফকের বয়সভিত্তিক দলে খেলেছেন দুজনই।
ইসাবেলও ফুটবলের সঙ্গে বেড়ে উঠেছেন। যদিও পরে পেশাদার ফুটবলার হিসেবে ক্যারিয়ার গড়েননি, তবুও খেলাটির প্রতি তার ভালোবাসা আজও অটুট।

বন্ধুত্ব থেকে ভালোবাসা
একই শহর ও একই ক্লাবে বেড়ে উঠলেও কিশোর বয়সে তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠেনি। বিভিন্ন প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, ২০২১ সালের দিকে তাদের সম্পর্ক নতুন মোড় নেয়।
নরওয়ের সম্প্রচারমাধ্যম এনআরকেকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে হলান্ড নিজেই জানিয়েছিলেন, সম্পর্কের প্রথম পদক্ষেপটি নিয়েছিলেন ইসাবেল।
হলান্ডের ভাষায়, “ও-ই আমাকে প্রথম বার্তা পাঠিয়েছিল। আমরা একই ক্লাব ব্রাইনের হয়ে খেলতাম। তবে ও-ই আগে আমাকে লক্ষ্য করেছিল।”
গ্যালারিতে সবচেয়ে বড় সমর্থক
মাঠে হলান্ড যখন প্রতিপক্ষের রক্ষণভাগে ঝড় তোলেন, গ্যালারিতে তখন প্রায়ই দেখা যায় ইসাবেলকে। নরওয়ের ম্যাচে তার উপস্থিতি নতুন কিছু নয়।
২০২৬ বিশ্বকাপেও আলোচনায় ছিলেন তিনি। টেক্সাসে সেনেগালের বিপক্ষে শেষ ষোলোর ম্যাচে হলান্ডকে সমর্থন জানাতে গ্যালারিতে হাজির হন ইসাবেল। হলান্ডের জার্সির সঙ্গে কাউবয়-অনুপ্রাণিত পোশাক পরে তাঁর উপস্থিতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। মুহূর্তেই সেই ছবি ছড়িয়ে পড়ে ফুটবলপ্রেমীদের মধ্যে।

খ্যাতির আড়ালে ব্যক্তিগত জীবন
বিশ্বজুড়ে জনপ্রিয়তা অর্জন করলেও নিজেদের সম্পর্ক নিয়ে কখনো প্রচারের আলোয় থাকতে চাননি হলান্ড ও ইসাবেল। বড় কোনো অনুষ্ঠান কিংবা গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে মাঝে মধ্যে তাদের একসঙ্গে দেখা গেলেও ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে খুব কমই কথা বলেন দুজন।
সম্ভবত এ কারণেই তাদের সম্পর্ক নিয়ে কৌতূহল কখনো কমেনি। ভক্তদের অনেকেই অপেক্ষায় আছেন—কবে আনুষ্ঠানিকভাবে বিয়ের ঘোষণা দেবেন এই তারকা জুটি।
বাবা হওয়ার পর বদলে গেছে জীবন
সম্প্রতি বাবা হওয়ার অভিজ্ঞতা নিয়ে খোলামেলা কথা বলেছেন হলান্ড। স্কাই স্পোর্টসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, সন্তানের জন্ম তার জীবনকে নতুনভাবে দেখতে শিখিয়েছে।
হলান্ড বলেন, এখন বাড়িতে ফিরলেই ফুটবলকে পুরোপুরি মাঠেই রেখে আসতে পারেন। পরিবারের সঙ্গে সময় কাটানো, সন্তানের বেড়ে ওঠা দেখা এবং স্বাভাবিক জীবন উপভোগ করাই তার কাছে সবচেয়ে বড় আনন্দ।

গোলের বাইরে এক অন্য হলান্ড
ফুটবল মাঠে আর্লিং হলান্ড মানেই গোলের উৎসব। কিন্তু মাঠের বাইরের মানুষটি অনেকটাই ভিন্ন। আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে থেকেও তিনি বেছে নিয়েছেন নিরিবিলি পারিবারিক জীবন। ইসাবেল ও তাদের সন্তানকে ঘিরেই এখন তার পৃথিবী।
ক্যারিয়ারের সেরা সময় পার করছেন হলান্ড। গোলের পর গোল করে যেমন প্রতিপক্ষকে ভয় দেখাচ্ছেন, তেমনি মাঠের বাইরে পরিবারের সঙ্গে কাটানো শান্ত জীবনও তাকে এনে দিয়েছে অন্যরকম পরিপূর্ণতা। এখন ভক্তদের একটাই অপেক্ষা—কবে আনুষ্ঠানিকভাবে জীবনের নতুন অধ্যায়ে পা রাখবেন হলান্ড ও ইসাবেল।
এসি//