দেশজুড়ে

বাবার লাঠির আঘাতে প্রাণ গেল স্কুলছাত্রীর, বস্তাবন্দি মরদেহ উদ্ধার

খুলনা নগরীর নিরালা প্রান্তিকা আবাসিক এলাকা থেকে বস্তাবন্দি অবস্থায় উদ্ধার হওয়া দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী আরফানা হোসেন নির্জনা হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন তার মা আরিফা ইয়াসমিন সিমা। শুক্রবার (১০ জুলাই) তিনি ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় এ জবানবন্দি দেন।

শনিবার (১১ জুলাই) সকালে খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের (কেএমপি) কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ জাহিদুল হাসান।

পুলিশ জানায়, জবানবন্দিতে আরিফা ইয়াসমিন সিমা বলেছেন, একাধিক ছেলের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক এবং পরিবারের সঙ্গে দুর্ব্যবহারের অভিযোগে মেয়েকে শাসন করছিলেন তারা। একপর্যায়ে তিনি নির্জনাকে চড়-থাপ্পড় মারেন। এ সময় নির্জনাও মায়ের গায়ে হাত তোলেন। পরে পাশের ঘর থেকে একটি লাঠি এনে নির্জনাকে আঘাত করেন তার বাবা আলিম হোসেন আকাশ। আঘাত এড়াতে সরে যাওয়ার চেষ্টা করলে লাঠিটি নির্জনার মাথায় লাগে। এতে ঘটনাস্থলেই তিনি অচেতন হয়ে পড়েন এবং পরে মারা যান।

ঘটনার পর হত্যার প্রমাণ গোপনের উদ্দেশ্যে নির্জনার মরদেহ একটি বস্তায় ভরে নিরালা এলাকার একটি ভবনের সামনে ফেলে রাখা হয় বলে জানিয়েছে পুলিশ।

পুলিশ কমিশনার আরও জানান, এ ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে হত্যা মামলা করেছে। মামলায় আরিফা ইয়াসমিন সিমাকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। পলাতক বাবা আলিম হোসেন আকাশকে গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

তদন্তে জানা গেছে, পরিবারের অমতে প্রায়ই বাড়ির বাইরে অবস্থান করায় মেয়ের ওপর ক্ষুব্ধ ছিলেন বাবা। গেল বুধবার সন্ধ্যায় নগরীর সোনাডাঙ্গা থানার বসুপাড়া এলাকার বাসায় এ বিষয় নিয়ে পরিবারের সদস্যদের মধ্যে তর্ক-বিতর্কের একপর্যায়ে এ মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে।

নিহত আরফানা হোসেন নির্জনা খুলনা নগরীর বসুপাড়া বাঁশতলা এলাকার বাসিন্দা ছিলেন। তিনি সরকারি ইকবালনগর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিলেন।

 

এমএ//

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন