খেলাধুলা

বিশ্বকাপে না খেলেও ফিফা থেকে কত টাকা পায় বাংলাদেশ?

ছবি: সংগৃহীত

বিশ্বকাপের মূল পর্বে বাংলাদেশের নাম না থাকলেও আন্তর্জাতিক ফুটবলের সবচেয়ে বড় সংস্থা ফিফার কাছ থেকে নিয়মিত উন্নয়ন তহবিল পেয়ে থাকে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে)। বিষয়টি অনেকের কাছেই বিস্ময়কর মনে হলেও এর পেছনে রয়েছে ফিফার সুস্পষ্ট নীতি ও বৈশ্বিক ফুটবল উন্নয়নের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা।

ফিফা কোনো বাণিজ্যিক মুনাফাভিত্তিক প্রতিষ্ঠান নয়। এটি একটি অলাভজনক আন্তর্জাতিক ক্রীড়া সংস্থা, যার অন্যতম লক্ষ্য বিশ্বের সব সদস্য দেশে ফুটবলের অবকাঠামো ও প্রতিযোগিতার মান উন্নত করা। বিশ্বকাপ থেকে টেলিভিশন সম্প্রচার স্বত্ব, স্পনসরশিপ, টিকিট বিক্রি এবং অন্যান্য খাত থেকে বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার আয় হলেও সেই অর্থ শুধু বিশ্বকাপে অংশ নেওয়া দেশগুলোর মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না।

ফিফার অধিভুক্ত ২১১টি সদস্য দেশের মধ্যে উন্নয়ন তহবিল বণ্টনের মাধ্যমে বৈশ্বিক ফুটবলের ভারসাম্য রক্ষার চেষ্টা করা হয়। পূর্ণাঙ্গ সদস্য হিসেবে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনও এই তহবিল পাওয়ার বৈধ অধিকার রাখে।

এই অর্থ দেওয়া হয় ফিফার অন্যতম প্রধান উন্নয়ন কর্মসূচি ফিফা ফরওয়ার্ড ৩.০-এর আওতায়।

ফিফার আর্থিক নীতিমালা ও বার্ষিক প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ থেকে ২০২৬ সালের বিশ্বকাপ চক্রে প্রতিটি সদস্য দেশের জন্য সর্বোচ্চ ৮০ লাখ মার্কিন ডলার, অর্থাৎ বাংলাদেশি মুদ্রায় ৯৫ কোটিরও বেশি টাকার উন্নয়ন তহবিল বরাদ্দ রাখা হয়েছে।

এই বরাদ্দের মধ্যে প্রতি বছর ১২ লাখ ৫০ হাজার মার্কিন ডলার দেওয়া হয় সংশ্লিষ্ট ফুটবল ফেডারেশনের প্রশাসনিক ও পরিচালন ব্যয় নির্বাহের জন্য। আর অতিরিক্ত ৩০ লাখ মার্কিন ডলার রাখা হয় দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য। এর আওতায় খেলোয়াড়দের আধুনিক প্রশিক্ষণ সুবিধা, যুব একাডেমি গড়ে তোলা, তৃণমূল ফুটবলের প্রসার এবং নারী ফুটবলের উন্নয়নে বিভিন্ন কর্মসূচি পরিচালনা করা যায়।

তবে এই অর্থ পাওয়া মোটেও স্বয়ংক্রিয় কোনো প্রক্রিয়া নয়। ফিফার নির্ধারিত নিয়ম অনুসারে সদস্য ফেডারেশনকে আগে প্রকল্পের বিস্তারিত পরিকল্পনা, লক্ষ্য এবং বাজেট তৈরি করে ফিফার ডেভেলপমেন্ট কমিটির কাছে জমা দিতে হয়। প্রকল্প অনুমোদনের পর নির্ধারিত শর্ত পূরণের ভিত্তিতে ধাপে ধাপে অর্থ ছাড় করা হয়। একইভাবে পরিচালন ব্যয়ের অর্থও নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ সাপেক্ষে কিস্তিতে দেওয়া হয়।

অর্থের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করতে প্রতি বছর স্বাধীন আন্তর্জাতিক অডিট প্রতিষ্ঠান দিয়ে এই তহবিলের বিস্তারিত নিরীক্ষা করানো হয়। ফলে অর্থ অপব্যবহারের সুযোগ খুবই সীমিত থাকে এবং প্রতিটি ব্যয়ের জবাবদিহি নিশ্চিত করা হয়।

তাই বিশ্বকাপের মূল মঞ্চে বাংলাদেশ না থাকলেও ফিফার বৈশ্বিক উন্নয়ন কাঠামোর অংশ হিসেবে বাফুফের এই তহবিল পাওয়া কোনো বিশেষ সুবিধা নয়; বরং পূর্ণাঙ্গ সদস্য হিসেবে এটি বাংলাদেশের নিয়মতান্ত্রিক ও স্বীকৃত অধিকার।

 

এসি//

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন