আন্তর্জাতিক

এবার 'বাব আল-মান্দেব প্রণালি' বন্ধের ঘোষণা হুথিদের

ছবি: সংগৃহীত

ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীরা বাব আল-মান্দেব প্রণালিতে নৌ চলাচল বন্ধের ঘোষণা দিয়েছে। তাদের এ পদক্ষেপে মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাত আরও জটিল হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যেও নতুন ঝুঁকি দেখা দিয়েছে।

মঙ্গলবার (২১ জুলাই) ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।

প্রতিবেদনে বলা হয়, হুথিদের ঘোষণার পর ইয়েমেনে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট জানিয়েছে, তারা প্রয়োজনীয় শক্তি প্রয়োগ করে এর জবাব দেবে। পাশাপাশি লোহিত সাগরের প্রবেশমুখ বাব আল-মান্দেব প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী জাহাজগুলোর নিরাপত্তা আরও জোরদার করা হয়েছে। হরমুজ প্রণালিতে চলাচল ব্যাহত হওয়ায় সৌদি আরবের তেল রপ্তানির জন্য বাব আল-মান্দেবের গুরুত্ব আরও বেড়েছে।

হুথিদের ঘোষণার পর আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম সাময়িকভাবে বাড়লেও সম্ভাব্য কূটনৈতিক সমাধানের আশায় পরে কিছুটা কমে আসে। তবে লোহিত সাগর দিয়ে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের ঝুঁকি বাড়ায় সামুদ্রিক বীমার খরচ বৃদ্ধি পেয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, বাব আল-মান্দেব প্রণালি পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেলে বিশ্বে তেল সরবরাহ প্রায় ৭ শতাংশ পর্যন্ত কমে যেতে পারে। আর হরমুজ প্রণালির সংকটও অব্যাহত থাকলে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের অস্থিরতা সৃষ্টি হতে পারে।

এদিকে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে কূটনৈতিক যোগাযোগ পুনরায় শুরু হওয়ার ইঙ্গিতও মিলেছে। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বিভিন্ন মধ্যস্থতাকারী তেহরানের কাছে নতুন কিছু প্রস্তাব দিয়েছে। যদিও প্রস্তাবগুলোর বিস্তারিত প্রকাশ করা হয়নি।

রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, যুদ্ধবিরতি পুনর্বহালের লক্ষ্যে ১০ দিনের একটি যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা চলছে। এ প্রক্রিয়ায় পাকিস্তানও মধ্যস্থতার ভূমিকা নিতে পারে। এ বিষয়ে আলোচনার জন্য ইরানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এসকান্দার মোমেনি ইসলামাবাদ সফর করেছেন।

অন্যদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানান, মার্কিন সেনা নিহত হওয়ার ঘটনার কঠোর জবাব দেওয়া হবে। তিনি বলেন, “ইরান যখনই কোনো মার্কিন সেনাকে হত্যা করবে, তার চেয়ে অনেক বড় মূল্য তাদের দিতে হবে।”

 

এমএ//

 

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন