আলোচনার নামে আমাদের গৃহবন্দি করে রাখা হয়েছিল: অভিজিৎ দীপকের
ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে ‘চলো সংসদ’ কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ ও পুলিশি লাঠিচার্জের পর ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে অভিযোগ করেছেন, আলোচনার নামে তাদের কার্যত গৃহবন্দি করে রাখা হয়েছিল।
মঙ্গলবার (২১ জুলাই) ভারতীয় সংবাদ মাধ্যম হিন্দুস্তান টাইমসের প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
সোমবারের বিক্ষোভে পুলিশ লাঠিচার্জ ও কাঁদানে গ্যাস ব্যবহার করে বলে অভিযোগ করেছে সিজেপি। দলটির দাবি, নিরাপত্তা বাহিনী অতিরিক্ত বলপ্রয়োগ করেছে। এমনকি দীপকে, সমাজকর্মী সোনম ওয়াংচুকের স্ত্রী গীতাঞ্জলি জে অ্যাংমো, অভিনেত্রী শাবানা আজমি ও অভিনেতা প্রকাশ রাজকে বহনকারী একটি ট্রাকেও হামলা চালানো হয়।
শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে আয়োজিত এই কর্মসূচিতে প্রায় ৫০ হাজার মানুষ অংশ নেন। শুরুতে বিক্ষোভকারীরা পুলিশ সদস্যদের ফুল দিয়ে শান্তিপূর্ণভাবে মিছিল শুরু করলেও পরে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
পুলিশ দিল্লির যন্তর মন্তর এলাকা খালি করতে গেলে বিক্ষোভকারীরা ব্যারিকেড অতিক্রমের চেষ্টা করেন। এরপর তাদের ছত্রভঙ্গ করতে লাঠিচার্জ করা হয়। এতে বহু মানুষ আহত হন এবং কয়েকজনের মাথা ফেটে যায়।
তবে দিল্লি পুলিশের দাবি ভিন্ন। তারা জানায়, বিক্ষোভকারীরা সহিংস আচরণ করেছেন, নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের ওপর হামলা চালিয়েছেন এবং সরকারি যানবাহন ও সম্পত্তি ভাঙচুর করেছেন। এ ঘটনায় ১১৮ জনের বেশি পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন বলেও দাবি করেছে পুলিশ।
বিক্ষোভ চলাকালে সরকারের পক্ষ থেকে আলোচনার প্রস্তাব এলে সিজেপির প্রতিনিধি আশুতোষ রাঙ্কা ও সৌরভ দাস কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জে পি নাড্ডার সঙ্গে বৈঠক করেন। সেখানে শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগসহ বিভিন্ন দাবি তুলে ধরে একটি স্মারকলিপি দেওয়া হয়। নাড্ডা বিষয়গুলো সরকারের উচ্চপর্যায়ে বিবেচনার আশ্বাস দেন।
তবে বৈঠক শেষে আশুতোষ রাঙ্কা অভিযোগ করেন, আলোচনায় কোনো কার্যকর অগ্রগতি হয়নি। তার দাবি, এরপর সরকারের পক্ষ থেকে আর কোনো যোগাযোগ করা হয়নি। ভবিষ্যতে সরকার বিক্ষোভস্থলে না এলে তারা আর আলোচনায় বসবেন না।
অভিজিৎ দীপকের অভিযোগ, আলোচনার অজুহাতে সরকারের পক্ষ থেকে সিজেপির প্রতিনিধিদের কার্যত গৃহবন্দি করে রাখা হয়েছিল।
এদিকে সংসদ ভবন ঘিরে এখনো কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা বজায় রয়েছে। কর্তব্য পথ, অশোক রোড, রাইসিনা রোড, রেল ভবন ও শাস্ত্রী ভবনসহ গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে এবং সংসদমুখী বিভিন্ন সড়কে ব্যারিকেড বসানো হয়েছে।
অন্যদিকে, পুলিশ সরিয়ে দেওয়ার পরও বিক্ষোভকারীরা আবার যন্তর মন্তরে ফিরে অবস্থান নিয়েছেন। সিজেপি জানিয়েছে, তাদের দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে।
এদিকে সমাজকর্মী সোনম ওয়াংচুক এখনো দিল্লির সফদরজং হাসপাতাল ও বর্ধমান মহাবীর মেডিকেল কলেজে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। হাসপাতালের সর্বশেষ স্বাস্থ্য বুলেটিনে জানানো হয়েছে, তার শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল থাকলেও রক্তের কিছু সূচক স্বাভাবিকের চেয়ে কম রয়েছে। চিকিৎসকদের একটি বিশেষজ্ঞ দল তার চিকিৎসা পর্যবেক্ষণ করছে।
তবে ওয়াংচুক দাবি করেছেন, তাকে হাসপাতালে রেখে কার্যত অবৈধভাবে আটকে রাখা হয়েছে। আন্দোলনে অংশ নিতে তিনি হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্রও চেয়েছেন।
এমএ//