রাজধানীসহ সারা দেশে তীব্র গ্যাস সংকট, দুর্ভোগে জনজীবন
রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে তীব্র গ্যাস সংকট দেখা দিয়েছে। সরবরাহ কমে যাওয়ায় বাসাবাড়িতে রান্নার কাজ ব্যাহত হচ্ছে। একই সঙ্গে সিএনজি ফিলিং স্টেশনগুলোতে দীর্ঘ সারি তৈরি হওয়ায় পরিবহন খাতেও ভোগান্তি বেড়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, নতুন করে প্রতিদিন প্রায় ৪৫ কোটি ঘনফুট গ্যাসের ঘাটতি তৈরি হয়েছে। ফলে আবাসিক, শিল্প, বিদ্যুৎ ও পরিবহনসহ বিভিন্ন খাতে গ্যাস সরবরাহ সীমিত করা হয়েছে।
তিতাস গ্যাসের মহাব্যবস্থাপক (অপারেশন) কাজী মোহাম্মদ সাইদুল হাসান জানান, তিতাসের আওতায় প্রতিদিন প্রায় ১৯০ কোটি ঘনফুট গ্যাসের চাহিদা রয়েছে। তবে এলএনজি টার্মিনালে দুর্ঘটনার আগে যেখানে দৈনিক প্রায় ১৫০ কোটি ঘনফুট গ্যাস পাওয়া যেত, বর্তমানে তা কমে প্রায় ১২০ কোটি ঘনফুটে নেমে এসেছে। এই ঘাটতির কারণেই বিভিন্ন খাতে সরবরাহ কমাতে হয়েছে।

সংকটের সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়েছে সিএনজিচালিত যানবাহনের ওপর। রাজধানীর অনেক সিএনজি ফিলিং স্টেশনে ‘গ্যাস নেই’ লেখা নোটিশ টাঙিয়ে রাখা হয়েছে। যেসব স্টেশনে গ্যাস সরবরাহ রয়েছে, সেখানে ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে অপেক্ষা করতে হচ্ছে চালকদের।

সংশ্লিষ্টদের মতে, মহেশখালীর গভীর সমুদ্রে অবস্থিত এক্সিলারেট এনার্জির এলএনজি টার্মিনালে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনাই বর্তমান সংকটের মূল কারণ।
রূপান্তরিত প্রাকৃতিক গ্যাস কোম্পানি লিমিটেড (আরপিজিসিএল) জানিয়েছে, গেল মঙ্গলবার টার্মিনালে আগুন লাগার পর স্থানীয় প্রকৌশলীরা ত্রুটির সুনির্দিষ্ট কারণ শনাক্ত করতে পারেননি। এ কারণে টার্মিনাল পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান বিদেশ থেকে বিশেষজ্ঞ প্রকৌশলী আনছে।
বিশেষজ্ঞদের কারিগরি পরিদর্শনের পর ক্ষয়ক্ষতির প্রকৃত মাত্রা, মেরামতে কত সময় লাগবে এবং কবে নাগাদ গ্যাস সরবরাহ পুরোপুরি স্বাভাবিক হবে—সে বিষয়ে নিশ্চিত তথ্য জানানো হবে বলে জানিয়েছে আরপিজিসিএল।
এদিকে সংশ্লিষ্টদের আশঙ্কা, এলএনজি টার্মিনালের সমস্যা দ্রুত সমাধান না হলে আবাসিক গ্রাহক, শিল্পকারখানা এবং পরিবহন খাতে গ্যাস সংকটজনিত ভোগান্তি আরও বাড়তে পারে।
এমএ//